‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে′ | বিশ্ব | DW | 17.07.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷ বলেছেন বস্তুনিষ্ঠ এবং গঠনমূলক সাংবাদিকতার কথা৷ ওদিকে এক বছরে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হয়রানিমূলক নির্যাতন বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনক হারে৷

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার ‘সাংবাদিক সহায়তা ভাতা ও অনুদান প্রদান' অনুষ্ঠানে বলেন, ‘‘আমরা দেশে বস্তুনিষ্ঠ ও গঠনমূলক সাংবাদিকতা দেখতে চাই৷ স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির সাংবাদিক নামধারী ব্যক্তিবর্গ সমাজে অপসাংবাদিকতা চর্চা করার চেষ্টা করছে৷ তাই পেশার স্বার্থে এ সব ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আপনাদেরই সোচ্চার হতে আহ্বান জানাচ্ছি৷''

সরকারের কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সমালোচনা করতে গিয়ে অনেক সময় সাংবাদিকরা ‘মিথ্যা ও ভুল তথ্য' পরিবেশন করেন৷ সমালোচনা যেন না হয়, যেটা আমার দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ক্ষতিকর৷''

প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ে বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে সহায়তা পাওয়া ১৭৭ জন সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে ৬৩ জনের হাতে চেক তুলে দেন৷ প্রত্যেক সাংবাদিক ন্যূনতম ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা ও অনুদান পান এ দিন৷ তাছাড়া অনুষ্ঠানে এ-ও জানানো হয় যে, ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬২৩ জন সাংবাদিককে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা দিয়েছে সরকার৷

অন্যদিকে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হয়রানিমূলক নির্যাতনের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন আর্টিকেল ১৯-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে৷ চলতি বছরের মে মাসে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়৷

‘ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন ইন বাংলাদেশ-২০১৪' শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে মোট ২১৩ জন সাংবাদিক ও আটজন ব্লগার বিভিন্নভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছেন৷ এর মধ্যে চারজনকে হত্যা করা হয়৷ গুরুতর জখম হয়েছেন ৪০ জন আর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬২ জন সাংবাদিক৷ হয়রানির মধ্যে রয়েছে মানহানি, দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাও৷

২০১৩ সালে বাংলাদেশে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে সাংবাদিক নির্যাতনের হার ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ৷ এক বছরের ব্যবধানে ২০১৪ সালে এই হার হয়েছে ৩৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ৷ এর প্রায় ২৩ শতাংশ নির্যাতনই হয়েছে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে৷ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাইরে সরকারি কর্মকর্তাদের হাতে ১১ শতাংশ আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে৷ এছাড়া ২০১৪ সালে রাষ্ট্রযন্ত্রের বাইরে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ৬৬ দশমিক ৩১ শতাংশ৷

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে সাংবাদিকদের হয়রানির পরিমাণ বেড়েছে অন্তত ১০৬ শতাংশ৷ ২০১৩ সালে হয়রানির ঘটনা যেখানে ছিল মাত্র ৩৩টি, ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮টিতে৷

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ১০টি ফৌজদারি মামলা হয়েছে৷ আর ২০১৪ সালে সম্পাদক, প্রকাশক ও সাংবাদিক নেতাসহ ১৭ জন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আদালত অবমাননার অভিযোগের শিকার হয়েছেন৷

আর্টিকেল ১৯-এর দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক তাহমিনা রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী অপসাংবাদিকতার বিপক্ষে এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পক্ষে কথা বলেছেন৷ আমরাও চাই সাংবাদিকতা হবে বস্তুনিষ্ঠ৷ এবং অপসাংবাদিকতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে৷ সাংবাদিকরা যেসব কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, তার মধ্যে অপসাংবাদিকতা একটি৷''

তবে তিনি মনে করেন, ‘‘বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য রাষ্ট্র ও সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে৷ সাংবাদিকরা যাতে ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে হবে রাষ্ট্রকে৷ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা যেমন দিতে হবে, তেমনি তাঁরা যাতে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য আক্রমণ বা হয়রানির শিকার না হন, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য আলাদা কোনো আইন নেই৷ হয়রানিমূলক মামলা হলে তার প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নেই৷ তাই আমার মনে হয়, উন্নত বিশ্বের অনুসরণে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন করা যেতে পারে বাংলাদেশে৷''

এর সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন, মানহানি ও আদালত অবমাননাসংক্রান্ত আইনকে মত প্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কথাও বলেন তাহমিনা রহমান৷

ওদিকে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স-এর ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স-২০১৪' অনুযায়ী, সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৬৷ অথচ ২০১৩ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৪ আর ২০১২ সালে ১২৯-তে৷ অর্থাৎ আগের তুলনায় বাংলাদেশে সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকি বেড়েছে বৈ কমেনি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়