1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

বসনিয়া বিশ্বকাপে যাচ্ছে জাতিভেদ ভুলে

বসনিয়া-হ্যারৎসেগভিনা এই প্রথমবার বিশ্বকাপে যাচ্ছে, দেশের ফুটবল সমিতির কাঠামোয় বৈপ্লবিক সংস্কার আনার পর৷ বছর দু'য়েক আগেও জাতিগত বিভাজনের ভিত্তিতে ফুটবল সমিতির প্রেসিডেন্ট বদল হতো প্রতি ১৬ মাস অন্তর৷

বসনিয়ার ফুটবল দল যাচ্ছে বিশ্বকাপ ফাইনালে৷ অথচ মাত্র দু'বছর আগে বসনিয়াকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে স্বল্পসময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছিল – কেননা জাতিগত রাজনীতি খেলাধুলার জগতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছিল৷ সেই বসনিয়াই এবার যে রাত্রে বিশ্বকাপের জন্য কোয়ালিফাই করল, সে রাত্রে স্পেন, ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার মতো ফুটবলের পরাশক্তি, মহাশক্তিরাও বিশ্বকাপের জন্য কোয়ালিফাই করেছে৷

বসনিয়ার মানুষ আনন্দে আত্মহারা৷ সারাইয়েভোয় সারা রাত ধরে বাজি পুড়িয়ে, গাড়ির হর্ন বাজিয়ে তারা এই আনন্দের মুহূর্তটি চেখেছে – কেননা বসনিয়া যুদ্ধের সেই বিভীষিকা তো বেশিদিন আগেকার কথা নয়, যখন মুসলিম, সার্ব আর ক্রোয়াটরা পরস্পরের সঙ্গে নির্মম, রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে লিপ্ত ছিল৷

আলোকবর্তিকা

বিশ্বকাপ যাত্রা: সে-ও তো এক ধরনের জয়৷ শুধু জয়ই নয়, আলোকবর্তিকাও বটে৷ দেশ তো আজও জাতি-আর-জাতির বিভাজনে জর্জরিত৷ দুর্নীতি আর অন্তর্দ্বন্দ্বে ডুবে রয়েছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রচেষ্টাও সেই টানে সাত বাঁও জলে৷ এমন একটি দেশে ফুটবল যদি প্রগতি আর ঐক্যের আলোকবর্তিকা হয়ে দাঁড়ায়, তবে মানুষজন সেটা উপলব্ধি করতে পারে বৈকি, তা সেটা তারা স্বীকার করুক আর নাই করুক৷

বসনিয়া বিশ্বকাপের জন্য কোয়ালিফাই করার পরদিনই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্প্রসারণ কমিশনার স্টেফান ফুলে বলেছেন: ‘‘বসনিয়ার রাজনীতিকদের প্রতি আমার বার্তা হলো, আপনাদের ফুটবলারদের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে দেশের মানুষদের প্রত্যাশা পূরণ করুন৷'' যুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারানোর পর ১৯৯৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী বসনিয়ায় যে রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা চালু হয়, তাতেও সেই জাতিগত বিভাজনের বীজ প্রোথিত রয়েছে৷ তিনটি জাতিগত গোষ্ঠী পরস্পরের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করে নিয়েছে, বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোও পালা করে বদল হয়৷ এভাবেই ‘শান্তি' রক্ষিত হয়েছে বসনিয়ায়৷

সর্ষের মধ্যে ভূত

কিন্তু এটা এমন একটা প্রণালী যে, এর ফলে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ আস্কারা পেতে বাধ্য৷ দু'বছর আগেও বসনিয়ার ফুটবল ফেডারেশন ঠিক রাষ্ট্রের আদর্শেই সংগঠিত ছিল: ফেডারেশনের প্রেসিডেন্সি যেত প্রতি ১৬ মাস অন্তর সার্ব থেকে ক্রোয়াট থেকে মুসলিমদের কাছে৷ প্রণালীটায় যে কাজ হচ্ছিল না, সেটা খেলোয়াড়রা এবং স্পোর্টস কর্মকর্তারা নিজেরাই বলতেন৷ কর্মকর্তাদের নির্বাচন করা হতো জাতিগত ও রাজনৈতিক কারণে, তাদের দক্ষতার কারণে নয়৷ ফলে ফেডারেশনের সিদ্ধান্তগুলোও হতো সেইরকম৷

একটা দৃষ্টান্ত দেওয়া যাক৷ প্যারি স্যাঁ-জার্মাঁর হয়ে খেলেন স্লাটান ইব্রাহিমোভিচ, নিঃসন্দেহে ইউরোপের সেরা ফুটবল খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন, সেই সঙ্গে সুইডেনের ক্যাপ্টেন, যে দেশে তাঁর জন্ম৷ এই ইব্রাহিমোভিচ কিন্তু বসনিয়ার হয়ে খেলতে পারতেন, অন্তত তাঁর ক্যারিয়ারের সূচনায় তাঁর বাবা, যিনি বসনিয়ার লোক, তেমন প্রস্তাবই দিয়েছিলেন৷ কিন্তু বসনিয়ার ফুটবল ফেডারেশনের কেউ তা-তে কর্ণপাত করেননি৷

ফিফা, উয়েফার চাপ

ওদিকে বসনিয়ার ফুটবল ফেডারেশন তখন দেউলিয়া হবার মুখে৷ গতবছর ফেডারেশনের তিন কর্মকর্তাকে তহবিল তছরুপ আর কর ফাঁকি দেওয়ার দায়ে জেলে পর্যন্ত যেতে হয়েছে৷ প্রবাসী বসনীয় খেলোয়াড় ও ফ্যানরা খেলাধুলায় রাজনীতির হস্তক্ষেপের কারণে জাতীয় দলকে বয়কট করতে শুরু করেন৷ ফিফা এবং উয়েফা মিলে একত্রে দাবি করে যে, বসনিয়ার ফুটবল ফেডারেশনের একজন প্রেসিডেন্ট থাকতে হবে, পালাবদল করে তিনজন নয়৷ সেই অনুযায়ী গত ডিসেম্বর মাসে এলভেদিন বেজিচ ফুটবল ফেডারেশনের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে একটি চার বছরের কর্মকালের জন্য নির্বাচিত হন৷ সেই সঙ্গে একটি ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ নিযুক্ত করা হয় বসনিয়ার দু'টি স্বশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধিদের নিয়ে: মুসলিম বসনিয়াক আর ক্রোয়াটদের ফেডারেশন এবং তথাকথিত সার্ব রিপাবলিক৷

জাতীয় দলের এই সাফল্য – বিশ্বকাপের কোয়ালিফিকেশন – বসনিয়া-হ্যারৎসেগভিনার মানুষের মধ্যে একডাকে সম্প্রীতি এনে ফেলতে পারবে না বটে, কেননা সেটা রাজনীতিকদের কাজ৷ তবে রাজনীতির মাঠে ফুটবল একটা চমৎকার প্রদর্শনী ম্যাচ খেলল বৈকি৷

এসি/ডিজি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়