1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বলিউড অতীতের সাক্ষী বম্বে টকিজ স্টুডিওটি ধুলোয় মিশে যাচ্ছে

বলিউডের একসময়কার সেরা স্টুডিও বম্বে টকিজ-এর কথা মনে করে ৭৯ বছর বয়স্ক ইসমাইল মোহাম্মদ গৌরীর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল৷ চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সেই স্টুডিওর নাম আজ বিলীন হতে চলেছে৷

default

এমন বহু দৃশ্যের শ্যুটিং হয়েছে একদা সেই স্টুডিওতে

গৌরীর মনে পড়ে সেউ পুরোনো দিনের কথা৷ যে বাড়িটিতে তিনি বড় হয়েছেন, সেই বাড়িটির বাইরে বড় বড় গাড়ি পার্ক করে রাখার কথা৷ স্টুডিও প্রাঙ্গনের আম গাছগুলোর কথা মনে হয় তাঁর৷ যেখানে তিনি এবং তার বন্ধুরা খেলতেন এবং স্থানীয় রেস্তোরাঁতে বলিউড অভিনেতারা খেতে গেলে তাদের দেখে গৌরী এবং তার বন্ধুদের কেমন শ্রদ্ধা মিশ্রিত ভয়ের অনুভূতি হতো তাও মনে পড়ে তাঁর৷

মুম্বইয়ের উত্তরাঞ্চলীয় শহরতলি মালাদ-এ তার নিজের বাড়ির ঠিক উল্টোদিকে ভেঙে ফেলা স্টুডিওটির ধ্বংসাবশেষের ওপরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘‘এখন এই জায়গার দিকে তাকালে মনে হয়, সেইসব দিন আর কখোনোই ফিরে আসবে না৷'' তিনি বলেন, ‘‘আমার বিশ্বাসই হয় না, যে স্টুডিওটি ধুলোই মিশে যাচ্ছে৷ আমার মৃত্যু পরে সেইসব সোনালি দিনের কথা এই এলাকায় আর কেউ মনে করতে পারবে না৷''

দুই বছর পরে ভারতে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের ১শ বছর পূর্ণ হবে৷ এই শিল্প খাতটির এখন বছরে আয় ১.৮৫ বিলিয়ন ইউরো৷ হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে তৈরি প্রথম নির্বাক চলচ্চিত্র ‘রাজা হারিশচন্দ্র'মুক্তি পেয়েছিল ১৯১৩ সালে৷ পরে ঐ চলচ্চিত্র তৈরির গল্প নিয়ে তৈরি হয় ‘হরিশচন্দ্রচি ফ্যাক্টরি'৷ আর এই ছবিই ২০১০ সালে সেরা বিদেশি ভাষার অস্কার পুরস্কারের জন্য প্রতিযোগী ছিল৷ ‘রাজা হারিশচন্দ্র' তৈরির গল্পে বলিউড শিল্পের অগ্রগতিতে বোম্বে টকিজ এবং অন্যান্য উল্লেখযোগ্য স্থানগুলোর কথা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত হওয়ার ঘটনাটি গৌরীর মত আরো অনেককেই ক্ষুন্ন করেছে৷

দ্য বম্বে টকিজ লিমিটেড হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্র স্টুডিওর প্রথম সংস্থা৷ দিলীপ কুমার, অশোক কুমার, দেবানন্দ, রাজ কাপুর এবং দেবিকা রানির মত বিখ্যাত অভিনেতা অভিনেত্রীদের ক্যারিয়ার তৈরি করে দিতে সহায়তা করেছে ঐ স্টুডিও৷ ঐ স্টুডিওতে বিখ্যাত গায়িকা লতা মঙ্গেশকার ও কিশোর কুমারেরও নিয়মিত যাতায়াত ছিল৷

১৯৩৪ সালে তৈরি করা স্টুডিওটির কর্মী সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার৷ এটিকে এশিয়ার সর্ববৃহৎ চলচ্চিত্র প্রযোজনা স্টুডিও বলে মনে করা হতো৷ ১৯৪০-এর দশকে সেখানে স্টেট-অফ-দ্য-আর্ট টেকনিক ব্যবহার করা হয়৷ যৌথ প্রতিষ্ঠাতা দেবিকা রানির স্বামী হিমাংশু রায়-এর মৃত্যু এবং তার ব্যবসার অংশীদারের মতপার্থক্যের কারণে পরে স্টুডিওটির মান নামতে থাকে এবং দ্রুত লোকসান দিতে থাকে৷ পরে স্টুডিওটি বিক্রি হয়ে যায়৷

প্রতিবেদন: ফাহমিদা সুলতানা

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়