1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘বর্হিবিশ্বে অনেক সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে’

সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের পথে না গেলে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের বহু সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দিতে পারে৷ ড. ইমতিয়াজ আহমেদের মতে, বর্হিবিশ্বের পাশাপাশি দেশের মধ্যেও সরকারের উপর চাপ অব্যহত রয়েছে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এই বিশ্লেষকের মতে, নীতিনির্ধারকরা নিশ্চয়ই এই বিষয়গুলো অনুধাবন করবেন৷ জিএসপি সুবিধা থেকে শুরু করে শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশে অংশগ্রহণ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁর৷

অধ্যাপক আহমেদের মতে, আগের সময়গুলোতে দেখা গেছে যে বিদেশি কূটনীতিকরা পেছনে থেকে কাজ করেছেন৷ কিন্তু এবার সরাসরি তাঁরা বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন৷ তাই এবারের হস্তক্ষেপ আগের চেয়ে অনেক বেশি হবে বলেই তাঁর আশঙ্কা৷ তিনি বলেন, এর আগে কখনও চীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কথা বলেনি, কিন্তু এবার তারাও সরাসরি কথা বলছে৷ আর ভারত- যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো তো আছেই৷ এমনকি ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের প্রধানরাও বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার বিশ্বাস এত সব আলোচনার মধ্যে আমাদের সরকার ভুল করবে না৷

তারপরও যদি আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচনের দিকে যায়, তাহলে বুঝতে হবে তারা রাজনীতি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে৷ যা শুভ পরিণতি বয়ে আনবে না৷''

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আরেকজন অধ্যাপক ড. আকমল হোসেন মনে করেন, সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি তাদের অবস্থানে অনড় থাকলে অগণতান্ত্রিক তৃতীয় শক্তির উত্থানের সম্ভাবনাই বেশি৷ তাই রাজনীতিবিদদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যহত থাকবে কিনা৷ তিনি বলেন, সব সময় দেখা গেছে বিরোধী দলে যাঁরা থাকেন তাঁরা কূটনীতিকদের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেন৷ এটা ঠিক নয়৷ তাই নিজেদের সমস্যা নিজেদের সমাধান করার উপরও গুরুত্ব দেন এই বিশ্লেষক৷

প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এই দুই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক এ সব মন্তব্য করেন৷

ওদিকে, বাংলাদেশের সকল দল ও ব্যক্তিকে সহিষ্ণু আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা (এমইপি)৷ বিশেষ করে নির্বাচনের আগে, নির্বাচন চলাকালে ও নির্বাচনোত্তর সময়ে সহিষ্ণু আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা৷ বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশ বিষয়ে পাশ হওয়া এক প্রস্তাবে এ কথা বলা হয়েছে৷ মূলত বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আস্থাশীল ও নিরপেক্ষ অন্তবর্তী সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এই প্রস্তাব ওঠে৷ পাশ হওয়া প্রস্তবে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের উচিত আগামী সাধারণ নির্বাচন স্বচ্ছভাবে আয়োজন ও দেখভাল করা৷ এছাড়া নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালে রাজনৈতিক দলগুলোকে সহিংস কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান এমইপি-রা৷

এর আগে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের অনড় অবস্থানের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপ-কমিটি৷ বুধবারও ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থার বিষয়টি প্রাধান্য পায়৷ প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইন টারময়েল: এ নেশন অন দ্য ব্রিঙ্ক?' শীর্ষক এই শুনানিতে স্টিভ শ্যাবট তাঁর অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ওই সফরের সময় বিরোধী দল বিএনপির ডাকে সহিংস হরতাল চলছিল৷ সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতার সঙ্গে বৈঠকে অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দিয়েছেন৷ শ্যাবট বলেন, তাঁদের দু'জনকেই নিজেদের অবস্থানে অনড় মনে হয়েছে৷

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেয়ার পর বলেছেন, ইন্দো-প্যাসেফিক অর্থনৈতিক করিডর থেকে বাংলাদেশের ব্যাপক লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ অতীতের বিরোধ ভুলে আগামী মাসগুলোতে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে পারলে এ সম্ভাবনাকে বাংলাদেশ কাজে লাগাতে সক্ষম হতে পারে৷ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও উপস্থিত ছিলেন৷ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে থেকেই এ তথ্য জানা গেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়