1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বর্ণ বিষম: সাদা-কালো

দুনিয়ায় কি শুধু দু'ধরনের মানুষ থাকে: হয় ধনি-দরিদ্র, নয়ত সাদা-কালো? ওদিকে দুনিয়ার প্রায় সব সংঘাত যে ম্যাজিক ফর্মুলায় সমাধান করে দেওয়া যায়, তার নাম বোধহয় ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান'৷ এমনকি ফার্গুসন কিংবা ক্লিভল্যান্ডেও৷

বঙ্গসন্তান হয়ে বর্ণবৈষম্য নিয়ে ব্লগ লিখতে বসার বড় বিপদ হলো: আমরা বাঙালিরা নিজেরাই যে কতটা বর্ণবাদী, তা ফাঁস হয়ে যেতে পারে৷ শ্যামলা মেয়ের গায়ের রঙ ‘একটু চাপা' না ‘উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ', সেটা কে বলে দেবে? অ্যামেরিকায় এই সেদিন অবধি যাদের নিগ্রো বলা হতো এবং আজ যারা কৃষ্ণাঙ্গ, কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় আফ্রিকার সেই ‘কালো মানুষদের' প্রতি বাঙালি ব্রাউন সাহেবদের তাচ্ছিল্য এবং উপেক্ষা কিন্তু অনেকদিনের৷ বাঘের যেমন শেয়াল কিংবা ফেউ, তেমন শ্বেতাঙ্গ সাম্রাজ্যবাদের ফেউ ছিলাম আমরা৷

কাজেই মার্কিন মুলুকে সাদা না হয়ে কালো চামড়া গায়ে নিয়ে জন্মানোর যে কী অর্থ, তা কোনো ‘জাত' বাঙালির পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়, বলেই আমার বিশ্বাস৷ খোদ নোবেল সাহিত্য পুরস্কার বিজয়িনী টোনি মরিসন লিখেছেন, তিনি কেমন শিশু বয়সে দুধ-সাদা গায়ের রং, খোড়ো-চুল, পরীদের মেয়ের মতো দেখতে ব্লন্দিনী হবার স্বপ্ন দেখতেন৷ ওদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তফাৎ হলো এই যে, একটা দেশে শ্বেতাঙ্গরা সংখ্যালঘু, অন্যটিতে কৃষ্ণাঙ্গরা৷ অথচ দু'টি দেশেই কৃষ্ণাঙ্গদের হাঁড়ির হাল৷

Deutsche Welle DW Arun Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগ

আফ্রিকার প্রত্যন্ত প্রদেশ থেকে গাঁয়ের পর গাঁ উজোড় করে যে সব ক্রীতদাসদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; পরে আরব দাসব্যবসায়ীরা যাদের শ্বেতাঙ্গ দাসব্যবসায়ীদের কাছে বেচে দেয়; সেই শ্বেতাঙ্গ দাসব্যবসায়ীরা যাদের জাহাজের খোলে পুরে প্রথমে ইউরোপ, পরে অ্যামেরিকা কিংবা ক্যারিবিয়ানে পাঠায়; যাদের অর্ধেকের বেশি কোনোদিন সেই সমুদ্রযাত্রা থেকে জীবিত অবস্থায় শুকনো মাটিতে পা দিতে পারেনি৷ আমরা আজ যে সব মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গদের কথা বলছি, তারা এই সব ক্রীতদাসদের উত্তরপুরুষ৷

অ্যাব্রাহ্যাম লিংকন নামধারী এক মহাত্মা এই ক্রীতদাসদের মুক্তি দেবার জন্য ভ্রাতৃযুদ্ধ, গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন৷ তখন যে শ্বেতাঙ্গ মার্কিনিরা তাঁর বিরোধিতা করেছিল, হেরে যাবার পরেও ক্লু-ক্লুক্স-ক্ল্যানের মতো সংগঠনের মাধ্যমে প্রতিশোধ নেবার চেষ্টা করেছিল, তাদের থেকেই কিন্তু আজকের ডেমোক্র্যাট দলের উৎপত্তি, মার্কিন মুলুকের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে দলের প্রতিভূ৷ মার্কিন ইতিহাসের এ সব ধারা সম্পর্কে আজকের মার্কিনিরা পর্যাপ্ত পরিমাণে অবহিত: কিন্তু ক্লিভল্যান্ডের একটি সিটি রিক্রিয়েশন সেন্টারের সামনে এক ১২ বছরের কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর যদি পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে তার খেলনার পিস্তল বার করে, তাহলে এই বন্দুক-পাগল দেশে কোন পুলিশ অফিসার আগে ঠাহর করে নিশ্চিত হতে যাবেন যে, সেটা সত্যি না মেকি?

অবজ্ঞা, অবহেলা, সুযোগের অভাবই যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গদের একটা বড় অংশকে ভায়োলেন্স – অর্থাৎ সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে৷ অপরদিকে বন্দুক-পাগলেরা পাগলের মতো বন্দুক কিনে চলেছে, নিজেদের ও নিজেদের পরিবারবর্গকে সুরক্ষা দেবার আশায়৷ তারই মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গ গ্যাং, গ্যাংস্টার ব়্যাপার ইত্যাদি কিম্ভুত-কিমাকার জীব এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে আগে গুলি চালিয়ে পরে প্রশ্ন করাটাই প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ক্লিভল্যান্ডের ১২ বছরের কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর তামির রাইস তাহলে কার অথবা কিসের অথবা কোন প্রথার শিকার হলো? অতীতের না বর্তমানের? ইতিহাসের না আধুনিকতার?

আমি বলব: জাতিতত্ত্ব, মানববাদের বড় বড় হেঁয়ালিগুলো সমাধানের চেষ্টা না করে, মার্কিন মুলুকের মানুষদের এখন দেখা উচিত, দু'পক্ষের, উভয় পক্ষের, বাদী তথা প্রতিবাদী তথা আসামী পক্ষের, আপামর জনতার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান কিভাবে সম্ভবে: কোনো পক্ষ বন্দুক না হাতে তুলে, গুলি না চালিয়ে৷ তারপরে নাহয় ধীরে ধীরে আলোচনায় বসা যাবে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন