1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বর্জিত শিল্পকলার যাদুঘর

বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে জার্মানির মাক্স অ্যার্নস্ট ও আউগুস্ট মাকে’র মত অভিব্যক্তিবাদী চিত্রশিল্পীদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে৷ কিন্তু নাৎসি দখলদারির সময়ে এই সব শিল্পীদের শিল্পকলা নিষিদ্ধ করা হয়৷ আর এবার...

default

গ্যারহার্ড শ্নাইডার-এর জাদুঘরের সংগ্রহ থেকে

এই ধরনের শিল্পকে আবার মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন সংগ্রাহক গ্যারহার্ড শ্নাইডার৷

গ্যারহার্ড শ্নাইডারের বিরল এই সংগ্রহটি থেকে জোলিঙেন শহরে এক মিউজিয়াম গড়ে উঠছে, যার নাম ‘বর্জিত শিল্পকলার যাদুঘর'৷ এ প্রসঙ্গে সংগ্রাহক শ্নাইডার বলেন, ‘‘আমি ডোরোটেয়া মেটসেল ইওহানসন'এর ১৯১৭ সালের একটি রেখাচিত্র খুঁজে পেয়েছি৷ শিল্পী ১৯২০ সালের শেষের দিকে মারা যান৷ তাঁর আঁকা চিত্রটিতে শিল্পকলার দুই ধারা অভিব্যক্তিবাদ এবং বিমূর্তবাদ যেন একাকার হয়ে গেছে৷''

বর্জিত বা নিষিদ্ধ শিল্পকলা খুঁজে বের করতে যেন মনপ্রাণ সঁপে দিয়েছেন গ্যারহার্ড শ্নাইডার৷ আগামী প্রজন্মের জন্য এই সব শিল্পকলা সংরক্ষণ ও উপস্থাপন করাই তাঁর লক্ষ্য৷ গ্যারহার্ড শ্নাইডার বলেন, ‘‘ঊনবিংশ শতাব্দীর অভিব্যক্তিবাদ থেকে শুরু করে বার্লিন প্রাচীরের পতন পরবর্তী শিল্পকলাও স্থান পাচ্ছে মিউজিয়ামটিতে৷ সব শেষের ছবিটি ১৯৯৬ সালের৷ কত চিত্রশিল্প যে হারিয়ে গেছে তা বিশ্বাসই করা যায় না৷ আমি ২০ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি৷ সৌভাগ্যবশত বেশ কিছু ছবি পাওয়াও গিয়েছে৷''

Rundgang Universität der Künste Berlin 2009

গ্যারহার্ড শ্নাইডারের সংগৃহীত চিত্রের সংখ্যা হাজারের ওপর হবে৷ অধিকাংশই জার্মানি ও ইউরোপের ছবি৷ বিশ্বব্যাপী এটিই এই ধরনের এক মাত্র সংগ্রহ৷ সংগ্রাহক শ্নাইডার খুঁজে না বের করলে অনেক নামি শিল্পকলাই একেবারে বিলীন হয়ে যেত৷ সরকার বা রাষ্ট্রযন্ত্রের রোষানলে পড়েই অনেক চিত্রকর্ম বর্জিত বা নিষিদ্ধ হয়েছে৷ কেননা এসব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই অস্বস্তিকর বিষয় তুলে ধরেছে৷ শুধু নাৎসি শাসকরা নয় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশের একনায়ক শাসকরা শ্যেন চক্ষে দেখেছেন এই শিল্পকলাকে, করেছেন নিষিদ্ধ৷ তবে নাৎসিদের আমলে শিল্পকলার নিষিদ্ধকরণের বিষয়টি তুঙ্গে ওঠে৷ বহু শিল্পকেই ‘দিকভ্রষ্ট' বলে অভিহিত করা হয়৷ সরকারি সেন্সর যন্ত্র মিউজিয়াম ও গ্যালারি থেকে এই সব চিত্র দূর করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে৷ শুধু তাই নয়, এই সব চিত্রশিল্পের প্রদর্শনীর আয়োজন করে শিল্পীদের হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়৷ সবচেয়ে ন্যক্কারজনক প্রদর্শনীটির আয়োজন করা হয়েছিল ১৯৩৭ সালে মিউনিখ শহরে, যেখানে নির্লজ্জভাবে শয়ে শয়ে চিত্রকে অবমাননা করার চেষ্টা করা হয়৷ গ্যারহার্ড শ্নাইডার বলেন, ‘‘নাৎসিরা বিভিন্ন জার্মান মিউজিয়াম ও গ্যালারি থেকে প্রায় ১৪০০ শিল্পীর ২০ হাজারেরও বেশি চিত্রকর্ম সরিয়ে নিয়েছে৷ খুব অল্প সংখ্যক শিল্পকর্মই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে৷ বিশাল একটা অংশ চিরতরে হারিয়ে গেছে৷''

বিভক্ত জার্মানিতে শিল্পকলাকে রাজনৈতিক দিক দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে৷ পশ্চিমাঞ্চলে অনেক শিল্পকলাকে ব্যবহার করা হয়েছে পূর্বের সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে৷ অন্যদিকে কম্যুনিস্ট শাসিত পূর্বাঞ্চলের শিল্পীদের চিত্রকর্মে পশ্চিমের প্রতি তির্যক দৃষ্টি ফুটে উঠেছে৷ করা হয়েছে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার জয়গান৷ এর ব্যত্যয় ঘটলেই শিল্পীদের ‘পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার গন্ধ সহ শিল্পকলার প্রতিনিধি' বলে হেনস্তা করা হত৷ গ্যারহার্ড শ্নাইডার বলেন, ‘‘কি পুব, কি পশ্চিম – শিল্পকলার স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বার বার৷ পরস্পর বিরোধী দুই দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত ঘটেছে৷ তবে শিল্পীরা সবসময় বিধি নিষেধ মেনে চলেননি৷ শাসকযন্ত্রের ভ্রূকুটি উপেক্ষা করেও স্বাধীন এক চারণভূমি তৈরি করে নিয়েছেন অনেকে৷''

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়