বন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 25.10.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

আচ্ছা ধরুন আপনি প্রথমবারের মত বিদেশে এলেন পড়াশোনার জন্য৷ পরিচিত কেউ নেই আশেপাশে ঠিক সে সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিল আপনাকে ক্যাম্পাসসহ পুরো শহরটি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখাবে৷ যোগাড় করে দেবে বেশ কিছু বন্ধু-বান্ধব৷

default

বন বিশ্ববিদ্যালয়

বন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এক সপ্তাহ সময় নিয়ে শহরের আনাচ-কানাচ ঘুরিয়ে দেখাবে৷ এই সপ্তাহের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ওয়েলকাম উইক ইন বন'৷ নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন মিউজিয়ামে, রেস্টুরেন্টে, শহরের কেন্দ্রস্থলে৷ জানানো হচ্ছে কোথায় রয়েছে সিনেমা হল আর কোথায় সেন্ট্রাল লাইব্রেরি৷

‘‘আজকে আমরা এসেছি ম্যুজিউম্সমাইলে৷ এখানে আমরা সবাই এসেছি ‘হাউজ ড্যার গেশিস্টে' মিউজিয়ামে৷ এই মিউজিয়ামে জার্মানির ইতিহাস সম্পর্কে অনেক তথ্য পাবে ছাত্র-ছাত্রীরা৷''

শুরু হয়ে গেল বন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলকাম উইক৷ পাঁচ দিন ধরে চলবে বন শহরে ঘোরা-ফেরা৷ একটি শহরে পড়াশোনা করতে শহরটি সম্পর্কে খুব ভাল জ্ঞান থাকা চাই৷ যেমন – বন শহরে কী কী আছে তা দিয়ে শুরু করা হয়েছে ট্যুর৷ কোথায় লাইব্রেরি, বিকেলে কোথায় হাঁটতে যাওয়া যেতে পারে, কোথায় রাতের স্টুডেন্ট পার্টিগুলো জমে আর কোথায় রয়েছে বিখ্যাত মিউজিয়ামগুলো৷

ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড থেকে এসেছে রিচার্ড৷ ওয়েলকাম উইক প্রসঙ্গে সে বলল, ‘‘নতুন ছাত্র-ছাত্রীদের এভাবে স্বাগত জানানোর বিষয়টি এক কথায় দারুণ৷ যে কেউই বন শহরকে আপন করে নিতে পারবে৷ দুর্ভাগ্যবশত আমি শুধু বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীদেরই চিনি৷ এবার হয়তো সুযোগ পাবো স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার৷''

নতুন এবং অপরিচিত কারো সঙ্গে পরিচিত হওয়া, সময় কাটানোর জন্য চাই সাহস আর ইচ্ছা৷ জার্মান ভাষাটি খুব ভালভাবে জানা না থাকলেও সমস্যা নেই৷ কথাগুলো জানান ইন্টারন্যাশনাল অফিসের সুজানে মারাইৎসু৷ তিনি অবশ্য অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের বিষয়টি দেখেন৷ তাঁর কথায়, ‘‘প্রথমত, হতাশায় ডুবে যাওয়া চলবে না৷ প্রথমে অনেক কিছুই কঠিন মনে হবে৷ কিন্তু সাহস নিয়ে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন৷ সব ঠিক হয়ে যাবে – এই বিশ্বাসটি থাকতে হবে৷ অন্যদের সাহায্য করতে হবে – এই বোধটিও থাকা প্রয়োজন৷ তাহলে বন্ধুত্ব হবে অনেক সহজে৷''

তবে এ সপ্তাহের ওয়েলকাম উইক শুধুমাত্র ইউরোপিয় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য৷ এশিয়া, আফ্রিকা আর দক্ষিণ অ্যামেরিকার ছাত্র-ছাত্রীদের ওয়েলকাম উইকের কথাও কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেবে৷ একটি দেশে পড়তে আসলে ভয় পেলে চলবে না৷ সবার সঙ্গে মিশতে হবে, সবাইকে আপন করে নিতে হবে৷ কোন বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী যেন না নিঃসঙ্গতায় না ভোগে সেদিকে নজর রাখছে বন বিশ্ববিদ্যালয়৷ শিল্পকলার ছাত্রী ক্যারোলিন এ প্রসঙ্গে জানান, ‘‘সবার সঙ্গে বিশেষ করে ছাত্র- ছাত্রীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা জরুরি৷ এটা বেশ প্রয়োজন৷ কোন কিছু না জানলে বা না বুঝলে অনায়াসে প্রশ্ন করা যেতে পারে৷ ‘এটা জিজ্ঞেস করবো, যদি কিছু মনে করে' – এ ধরণের চিন্তা-ভাবনা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে৷ প্রশ্ন করলেই উত্তর পাওয়া যাবে সেই সঙ্গে সাহায্যও৷''

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অফিস প্রতিটি বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীর দেখাশোনার জন্য যোগাড় করে দেয় একজন ‘স্টাডি-বাডি-বন্ধু'৷ তা দেওয়া হবে প্রথম দিন থেকেই৷ এই স্টাডি-বাডি-বন্ধু হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া একজন ছাত্র বা ছাত্রী৷ সে পড়াশোনায় সাহায্য করবে, শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাবে৷ এমনকি উইকএন্ডেও এই বাডি-বন্ধু অন্য শহর ঘোরাতে নিয়ে যাবে৷

ইন্টারন্যাশনাল অফিসের কাটারিনা স্মিট বললেন, ‘‘শুধু নিজের ক্লাশের বন্ধু-বান্ধবীর সঙ্গে সময় কাটানো নয় অন্যান্য সেমেস্টারের ছেলে-মেয়েদের চেনাজানার জন্যই এই ব্যবস্থা৷ এরা থাকার ব্যবস্থা করে দেবে৷ প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীরই থাকবে একজন করে বাডি-বন্ধু৷ এবং এই বাডি-বন্ধু হবে একজন জার্মান৷ সে সময়ে-অসময়ে খোঁজ খবর নেবে নবাগত ছাত্র বা ছাত্রীর৷ প্রয়োজনে সে নিজের বাড়িতে বাবা-মায়ের কাছেও সে এই বিদেশি ছাত্রকে নিয়ে যেতে পারে৷ জার্মানিকে, জার্মানদের কাছ থেকে দেখার এই একটি সুযোগ করে দেবে স্টাডি-বাডি৷ তবে এ ক্ষেত্রে দু'পক্ষকেই হতে হবে অত্যন্ত খোলা মনের৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

ইন্টারনেট লিংক