1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

বন বাঁচাতে বাংলাদেশে ‘শাড়ি বাহিনী’

বৃহত্তর চট্টগ্রামের চুনতি অভয়ারণ্য৷ চিরসবুজ গাছপালা ও পশুপাখির অবাধ বিচরণ সেখানে৷ কিন্তু অনেক বনের মতো সেখানেও রয়েছে সমস্যা৷ তাই সেই বনের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন নারীরা৷ নেতৃত্ব দিচ্ছেন বন রক্ষার অভিযানে৷

default

এমন ঘন বন বাঁচাতেই অভিযানে নেমেছে বাংলাদেশের নারীরা

একেবারে ছোট নয় এই বন৷ আবার খুব যে বড় বলা যাবে তাও নয়৷ সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চকরিয়া এলাকার ১৯ হাজার ১৭৭ একর জায়গা নিয়ে এই চুনতি সংরক্ষিত এলাকা৷ ১৯৯৫ সালের পর এ অভয়ারণ্যে প্রকল্পের কাজ একরকম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল৷ কিন্তু ঐভাবে তো আর বসে থাকা যায় না৷ তাই বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের অধীনে চুনতি অভয়ারণ্যে প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হয় ২০০২ সালে৷ এর এক বছর পর, অর্থাৎ ২০০৩ সালে চুনতি অভয়ারণ্যে বন বিভাগের আওতাধীন দুটি রেঞ্জ কার্যালয় স্থাপন করা হয়৷ এর মধ্যে একটির নাম চুনতি রেঞ্জ৷ এ রেঞ্জের অধীনে রয়েছে তিনটি বিট কার্যালয়৷ অপরটি হলো বাঁশখালীর জলদি রেঞ্জ৷ এ রেঞ্জের আওতাধীন চারটি বিট কার্যালয় রয়েছে৷

চুনতি সবুজের আবাসভূমি৷ এ অভয়ারণ্যে রয়েছে ১২ লাখের বেশি গাছ৷ রয়েছে প্রকৃতিবীক্ষণকেন্দ্র৷ বন বিভাগ ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তৈরি করে এটি৷ এই কেন্দ্রে রয়েছে বনপুকুর, পায়ে চলার পথ, ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থা, প্রকৃতি ব্যাখ্যাকেন্দ্র৷ শত বছরের পুরোনো গর্জন গাছসহ বিভিন্ন জাতের ফলদ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষ চারদিকে৷ রয়েছে হাতি, বানর, মেছোবাঘ, অজগরসহ নানা প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী৷ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীন আইপেকের (ইন্টিগ্রেটেড প্রোটেকটেড এরিয়া কো-ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট) সহযোগিতায় ২৮ সদস্যের কমিটি চুনতি অভয়ারণ্যের বিভিন্ন কার্যক্রম দেখাশোনা করছে৷

তবে দুঃখের বিষয় এই যে চুনতি অভয়ারণ্যের বড় একটি অংশ বেদখল হয়ে গেছে৷ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অঞ্চল ও এশিয়ার হাতি প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলের বনজ সম্পদ উজাড় হওয়ার পাশাপাশি হাতি, বানর, হনুমান, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, নানা জাতের দুর্লভ পাখি, শজারু, খেঁকশিয়াল, হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে বলেও রয়েছে অভিযোগ৷ কমিটি সেই অবস্থা থেকে বনকে উদ্ধারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে৷

বন বিভাগের একজন রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে বনাঞ্চলের কাছে কোনো ইঁটভাটা, করাতকল অথবা শিকারের উদ্দেশ্যে ফাঁদ পাতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ৷ অথচ এসব সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কাঠ কেটে পাচার হচ্ছে ইঁটভাটা, করাতকল ও আসবাবের দোকানে৷ ১০টিরও বেশি ইঁটভাটা বনটির চারদিকে৷ স্থানীয় লোকজন বলেন, বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া চুনতি অভয়ারণ্যের বনজ সম্পদ লুট ও দখল কিছুতেই সম্ভব নয়৷ তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে কর্মকর্তারা বলেছেন, কাঠ পাচারকারীরা সশস্ত্র ও সংঘবদ্ধ৷ কিন্তু বিট কার্যালয়ে জনবল ও প্রয়োজনীয় অস্ত্র না থাকায় পাচারকারীদের ব্যাপারে অনেক সময় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না৷

কিন্তু এই অবস্থার কী কোন অবসান হবে না? হতেই হবে৷ এমনটাই বলছেন স্থানীয় নারীরা৷ তারাই এবার এই বন বাঁচাতে জঙ্গলের পথে নেমেছেন৷ তারা গঠন করেছেন শাড়ি বাহিনী৷ এই শাড়ি বাহিনীর সদস্যরা এক একটি টিমে ভাগ হয়ে পালাক্রমে দিনের বেশিরভাগ সময় সেই জঙ্গল পাহারা দিচ্ছেন৷ স্থানীয় বন কর্মীরা তাদের সহযোগিতা দিচ্ছে৷ জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিটিজেড এবং মার্কিন সংস্থা ইউএসএআইডি যৌথভাবে এই সব কাজে অর্থায়ন করছে৷ মূলত দুটো সংস্থাই চাইছে এই অভয়রাণ্যটিকে প্রাণী বিশেষ করে হাতিদের জন্য বিশেষ আবাসভূমি হিসাবে ঠিক রাখতে৷ স্থানীয় মানুষরা বলছেন, এই বনে এখন অনেক এশিয়ান হাতি দেখা যাচ্ছে৷ কয়েক বছর আগেও এখানে এতো হাতি দেখা যেত না৷ একে সফলতার শুরু বলেই তারা উল্লেখ করছেন৷ আর এ জন্য বিশেষ ভাবে সাধুবাদ দেয়া হচ্ছে সেই শাড়ি বাহিনীকে৷

প্রতিবেদন: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন