1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

বন্যায় বিপর্যস্ত বসনিয়া-হ্যারৎসেগোভিনা ও সার্বিয়া

বন্যা এবং ভূমি ধসে বসনিয়া-হ্যারৎসেগোভিনার বড় একটি এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত৷ প্রতিবেশী দেশ সার্বিয়াতেও মানুষকে ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিতে হচ্ছে জরুরি আশ্রয় কেন্দ্রে৷ এ পর্যন্ত মারা গেছে অন্তত ৩৬ জন৷ গৃহহারা কয়েক হাজার৷

ভয়াবহ বন্যা শুরু হয়েছে বসনিয়া-হ্যারৎসেগোভিনায়৷ সরকার ইতিমধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে৷ চলছে ত্রাণ তৎপরতা৷ তবে ক্ষতির ব্যাপকতার সঙ্গে তালো মেলানো এখনো সম্ভব হয়ে ওঠেনি৷ অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষই দুর্গতদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন৷ নিজের ঘরেও আশ্রয় দিচ্ছেন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া প্রতিবেশীদের৷

গ্রাসানিকা শহরের বাসিন্দা মুস্তাফা পাসালিচ কাঁদতে কাঁদতে দেখাচ্ছিলেন ভূমি ধসের কবলে পড়া নিজের বাড়িটি, বলছিলেন, ‘‘ওই যে, ওটা আমার বাড়ি৷ এখানে আমি ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাস করছি৷'' এক প্রতিবেশী তাঁর পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছে, খাবার-দাবার দিয়েছে – এ কথা জানাতে গিয়ে ঘরে রেখে আসা অতি প্রিয় বইগুলোর জন্যও কাঁদলেন মুস্তাফা, ‘‘আমি বিশ্বের সেরা মানুষগুলোকে প্রতিবেশী হিসেবে পেয়েছি৷ আগে কখনোই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি৷ সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগছে বইগুলোর জন্য, আমার বইগুলোও গেল!''

হাসা হুসেইনোভিচের পুরো বাড়িটাই কেড়ে নিয়েছে ভূমি ধস৷ বসনিয়া-হ্যারৎসেগোভিনার রাজধানী সারায়েভোর কাছের স্ভ্রাকে এলাকার বাসিন্দা তিনি৷ তাঁর বাড়ি যে ধসে পড়ছে তা প্রথমে টেরই পাননি ৫৩ বছর বয়সি হাসা৷ ছেলের চিৎকার শুনে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে দেখলেন পলেস্তারা ফুলে-ফেঁপে উঠছে৷ একটু পরেই দেয়াল ফুঁড়ে গলগলিয়ে পানি ঢোকা শুরু৷ পরিবারের সবাই ছুটে বেরিয়ে এলো ঘর থেকে৷ কয়েক গজ দূরে যেতেই বিকট শব্দ৷ হাসা হুসেইনোভিচ পেছন ফিরে দেখেন, তাঁর মাথা গোঁজার ঠাঁই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ছে৷

এভাবে অনেকেই হয়েছেন গৃহহারা৷ অনেকে ভেসে গেছেন বন্যায়৷ বসনিয়া-হ্যারৎসেগোভিনার পূর্বাঞ্চলীয় শহর দবোজেই কমপক্ষে ১৯ জনের সলিল সমাধি হয়েছে৷

ওদিকে গত পাঁচ দিনের বন্যায় সার্বিয়াতেও কমপক্ষে ১৭ জন মারা গেছেন৷ সে দেশের প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অস্তিত্বও এখন হুমকির মুখে৷

এসিবি/জেডএইচ (ডিপিএ, এএফপি, এপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন