1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

বন্ধ কোরো না পাখা

দুনিয়ার সাগরে যে সব বড় বড় কনটেইনার জাহাজ চলছে, সেগুলো চলে জলের তলায় সুবিশাল প্রপেলার বা পাখার ঘূর্ণনে৷ আর সেই ১৩০ টন অবধি ভারী প্রপেলারগুলো তৈরি হয় জার্মানির পূর্বাঞ্চলের একটি ফাউন্ড্রিতে৷৷

ভাবতে পারেন, বিশ্বের বৃহত্তম জাহাজগুলির প্রপেলার তৈরি হয় জার্মানির পূর্বাঞ্চলে, প্রায় অজ পাড়াগাঁয়ে? ১১ মিটার লম্বা, ওজনে ১৩০ টন৷ কিন্তু শেষ পালিশটা পড়ে মানুষের হাতে৷ জাহাজ তৈরির ইঞ্জিনিয়ার গ্যার্ড টিমান বলেন, ‘‘যিনি শেষ পালিশটা দেন, তিনি একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন৷ এর আগে যা কিছু করা হয়েছে, পালিশ ভুল হলে তার সব কিছু পণ্ড হয়ে পারে৷ কাজেই এই পালিশ মিস্ত্রির হাতের আন্দাজের গুরুত্ব অসীম৷''

রেডিমেড প্রপেলার কিনতে পাওয়া যায় না৷ প্রত্যেকটি প্রপেলার অর্ডার দিয়ে তৈরি করাতে হয়, তা সে মালবাহী পোতের জন্যই আর ক্রুইজ জাহাজের জন্যই হোক৷ একটা নতুন প্রপেলার তৈরি করতে বেশ কয়েক মাস সময় লেগে যায়৷

ঢালাই-এর কারখানায়

ফাউন্ড্রিতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে নানা ধরনের ধাতু গলিয়ে মেশানো হয়৷ তামা, অ্যালুমিনিয়াম আর লোহার আদর্শ সংমিশ্রণ খুঁজে পেতে বেশ কয়েক বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে৷ একটি প্রপেলার ছাঁচে ঢালতে লাগে কিন্তু মাত্র ১৫ মিনিট সময় ৷ অথচ সেই ১৫ মিনিটে বহু মাসের কাজ নষ্ট হতে পারে৷ গ্যার্ড টিমান বলেন, ‘‘ঢালার প্রক্রিয়ায় যদি কোনো গলদ থেকে যায়, তাহলে এমনও হতে পারে যে, প্রপেলারটা ব্যবহার করা যাবে না, বরং তা গলিয়ে নতুন করে ঢালতে হবে৷ সেটা কারো কাম্য নয়, কাজেই ঢালাও-এর কাজটা আগে কম্পিউটারে নকল করে দেখে নিতে হয়, বাস্তবে সেটা কিভাবে কাজ করবে৷''

তরলীকৃত ব্রোঞ্জকে ১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় আনা হয় – আগ্নেয়গিরির ভিতরে যেমন থাকে৷ শুধুমাত্র নিরাপত্তা-পোশাক পরে ঐ তরল অগ্নিকুণ্ডের কাছে যাওয়া সম্ভব৷ সব মিলিয়ে প্রায় ১৫০ টন ব্রোঞ্জকে ঐ তাপমাত্রায় পৌঁছানো বিশ্বের বৃহত্তম ইন্ডাকশন ফার্নেসের পক্ষেও একা করা সম্ভব নয়, তাই একাধিক চুল্লি ব্যবহার করা হয়৷

ঢালাই শুরু হলে কর্মীরা সবাই অখণ্ড মনোযোগ সহকারে কাজ করেন, কেননা তরলীকৃত ধাতুর প্রবাহ বন্ধ হলে চলবে না৷ একাধিক চ্যানেল দিয়ে সেই ফুটন্ত ধাতু একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢালা হয়৷ জাহাজের প্রপেলার যেমন-তেমন ভাবে তৈরি করলে চলবে না৷ জাহাজের ইঞ্জিনেরর শক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে প্রপেলার তৈরি করতে হবে৷ এক লক্ষ অশ্বশক্তির ইঞ্জিনের প্রপেলার নিখুঁত হলে, জ্বালানি আর সময়, দুইই বাঁচবে৷

সায়েন্স ফিকশন

সুবিশাল প্রপেলারটা পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দু'সপ্তাহ সময় লেগে যায়৷ এবার হবে গ্রাইন্ডিং আর পলিশিং৷ দেখলে মনে হবে যেন কোনো সায়েন্স ফিকশন ফিল্ম৷ কর্মীরা জয়স্টিক দিয়ে গ্রাইন্ডিং টুলগুলি চালনা করেন – একটু বেশি ঘষা হয়ে গেলেই প্রপেলারের বারোটা বেজে যাবে৷ কাজেই বার বার হাতে মেপে দেখতে হয়৷ চূড়ান্ত পালিশটাও দিতে হয় হাতে করে, কেননা কোনো যন্ত্রের পক্ষে তা করা সম্ভব নয়৷ প্রপেলারের ওপরে যে প্যাটার্নটা ফুটে উঠবে, সেটা এক হিসেবে গ্রাইন্ডার-পলিশারের হস্তলিপি৷ গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রপেলারটা যেন শেষমেষ এক মিলিমিটারের দশ ভাগের এক ভাগের বেশি কম্পিউটারের হিসেবনিকেশ থেকে আলাদা না হয়৷

গ্যার্ড টিমান বলেন, ‘‘কোণাগুলোর চূড়ান্ত ঘষামাজা যন্ত্র দিয়ে করতে বড় বেশি খরচ পড়ে যাবে৷ স্ট্রিমলাইনিং করতে যে হাতের আন্দাজ দরকার, তা কোনো যন্ত্রের নেই, তা কোনো যন্ত্র শিখতে পারে না৷ মানুষ দশকের পর দশক কাজ করে ঐ কাজ শেখে৷''

বিশ্বের বড় বড় জাহাজের প্রপেলারের দুই-তৃতীয়াংশ আসে জার্মানির পূর্বাঞ্চলের এই কারখানাটি থেকে, সেখান থেকে যায় অতলান্তিক বা প্রশান্ত মহাসাগরে, অগণিত সমুদ্রযাত্রায়৷

এসি/ডিজি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়