1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

বনজঙ্গল বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ

সরকারি নিয়মের বেড়াজাল নয় – বনাঞ্চল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের সক্রিয় ভূমিকাই কার্যকর হতে পারে৷ জার্মান এক সংস্থার সাহায্যে তাজিকিস্তানে এভাবে সাফল্য পাওয়া গেছে৷

পামির মালভূমির সাদা চূড়ার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাত হাজার মিটার৷ পৃথিবীর অন্যতম উঁচু মালভূমি এটি৷ পামিরের কোল ঘেঁষে খরগ শহরের অবস্থান৷ তাজিকিস্তানের দক্ষিণে, আফগান সীমান্তসংলগ্ন এলাকা এটি৷

সোভিয়েত আমলে শহরের বাসিন্দারা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ এবং কয়লা পেতেন৷ কিন্তু সে সব দিন চলে গেছে৷ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এখানকার বাসিন্দারা স্থানীয় বন থেকে জ্বালানি এবং ঘরবাড়ি তৈরির কাঠ জোগাড় শুরু করেন৷ এই প্রক্রিয়ায় ধ্বংস হয় অধিকাংশ বনাঞ্চল৷

জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড-এর জন্য কাজ করেন মানুচের ফেজাকভ৷ তাঁর বাড়ি এখানে৷ বনজঙ্গলের এরকম ধ্বংসলীলা দেখে ব্যথিত তিনি৷ তিনি বলেন, ‘‘বনের এই অংশে সবার প্রবেশাধিকার আছে৷ এখানে কোনো বেড়া নেই আর কেউ এর দায়িত্বও নিচ্ছে না৷ সুতরাং মানুষ এবং গবাদিপশু সহজে প্রবেশ করছে৷ মানুষ গাছপালা কেটে নিয়ে যাচ্ছে আর পশু চারাগাছ খেয়ে ফেলছে৷''

কয়েক কিলোমিটার দূরে অবশ্য পাওয়া গেলো ভিন্ন চিত্র৷ জঙ্গলের চারপাশে রয়েছে বেড়া৷ ফলে গবাদি পশু ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না৷ বন রক্ষায় বিশেষজ্ঞদের আইডিয়া হচ্ছে, প্লট আকারে বনের বিভিন্ন অংশের দায়িত্ব স্থানীয় মানুষের হাতে তুলে দেয়া৷

এই আইডিয়া অনুযায়ী, বন যারা ব্যবহার করবেন, তারাই বনের চারপাশে বেড়া দেবেন এবং নতুন গাছ লাগাবেন৷ আর মানুচের-এর মতো বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত তাদের কাজ তদারকি করবেন৷ দু'বছরের মধ্যে যারা লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন না, তাদের কাছ থেকে বনের প্লট আবার নিয়ে নেওয়া হবে৷ আর কাজের প্রতিদান হিসেবে স্থানীয়রা তাদের আয়ত্তে থাকা বনের কাঠ সংগ্রহ করে ব্যবহার কিংবা বিক্রি করতে পারবেন৷

ইতোমধ্যে ৪৫০টি প্লটে এই আইডিয়া কাজে লাগিয়ে বিশ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় পুনরায় বন তৈরি সম্ভব হয়েছে৷ স্থানীয়দের মাঝে পুস্তিকাও বিতরণ করা হয়েছে৷ এতে গাছ লাগানো এবং সেগুলো গবাদি পশুর হাত থেকে রক্ষার উপায় ছবিসহ বাতলে দেয়া হয়েছে৷ আশার কথা হচ্ছে, পরিবেশ এবং বন বাঁচাতে স্থানীয় কিছু পরিবার জ্বালানি কাঠের ব্যবহার কমাতে শুরু করেছেন৷

এর মূল কারণ অবশ্য জ্বালানি সাশ্রয়ী জানালা৷ হিমাংকের নিচে ত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস ঠাণ্ডা এই মালভূমিতে অস্বাভাবিক নয়৷ তা সত্ত্বেও কারাশেরভ পরিবার এখন অনেক কম কাঠ ব্যবহার করেন৷ আর সেটা হচ্ছে এই বিশেষ জানালার কল্যাণে৷ এই পরিবারকে ক্ষুদ্রঋণ নিতেও সহায়তা করেছেন ফেজাকভ৷ জ্বালানি সাশ্রয়ী জানালার দাম প্রায় ষাট ইউরো, যা এই পরিবারের মাসিক বাজেটের প্রায় এক তৃতীয়াংশ৷ জিআইজেড তাদের আর্থিক সহায়তা করেছে৷ পরিবারের সদস্য রাউফ কারাসাও বলেন, ‘‘জ্বালানি সাশ্রয়ী জানালাগুলো দেখতেও সুন্দর৷ আমরা আমাদের নতুন বাড়িতে সেগুলো লাগিয়েছি৷ ফ্লোরে তাপ নিরোধক টাইলসও বসিয়েছি৷ ফলে শীতকালে হিটার কম ব্যবহার করলেও ঘর গরম থাকে৷''

খরগ-এ এখনো অনেক প্লট রয়েছে, যেগুলোতে অদূর ভবিষ্যতেও কোনো গাছপালা জন্মাবে বলে মনে হচ্ছে না৷ তবে এসব প্লটেই নতুন করে বনায়নের চেষ্টা শুরু হয়েছে৷ শর্ত মেনে এই কঠিন কাজ করতে আগ্রহীদের কিস্তিতে অর্থ দেয়া হবে৷ বছরে একশো ইউরো, পাঁচ বছর ধরে পাবেন তারা৷

নতুন করে বনায়নের আইডিয়া স্থানীয়রা পছন্দ করেছেন মনে হচ্ছে৷ তাই প্রচণ্ড গরম সহ্য করে সকাল থেকে কয়েক ডজন চারা লাগিয়েছেন এই মানুষগুলো৷ রাখিমবেক রাখমনভ বলেন, ‘‘আমাদের জীবনের জন্য, দেশের জন্য বন গুরুত্বপূর্ণ৷ সকল তাজিক – বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটা দরকার৷ আমরা সবাই বনের উপর নির্ভরশীল৷''

পামির মালভূমিতে অবস্থিত এই নদীর দু'পাশে আবারো বন সৃষ্টিতে কয়েক দশক সময় প্রয়োজন৷ তবে মানুচের ফেজাকভ আশাবাদী৷ আর সেই প্রচেষ্টার অংশ হওয়ায় তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা গর্বিত৷

ইন্টারনেট লিংক