1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

বনজঙ্গলের ভার্চুয়াল মডেল সংরক্ষণে সাহায্য করতে পারে

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর বুকে বনজঙ্গলের চরিত্র বদলে যাচ্ছে৷ পৃথিবী ও মহাকাশ থেকে তা পর্যবেক্ষণ করছেন বিজ্ঞানীরা৷ এই পরিবর্তনের খুঁটিনাটি বুঝতে উদ্যোগ নিচ্ছেন জার্মান বিজ্ঞানীরা৷

বিচ গাছের বনে বিপদের ছায়া৷ হাইনরিশ জাতীয় পার্ক গোটা ইউরোপের সবচেয়ে বড় ‘ডেসিডুয়াস' জঙ্গল৷ মাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউটের বায়ো-জিয়োকেমিস্টরা জানতে চান, সেখানকার মাটিতে কতটা কার্বন রয়েছে৷ ইয়েনা শহরে মাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউটের মার্কুস রাইশস্টাইন বলেন, ‘‘এখন যা দেখা যাচ্ছে, তাতে গাছপালার তুলনায় মাটিতেই কার্বনের মাত্রা বেশি৷ আমাদের অনুমান, গত ১০ বছরে মাটিতে কার্বনের পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ বেড়ে গেছে৷''

এর পরিমাণ প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টন৷ কিন্তু কার্বন চিরকাল মাটিতে থাকে না৷ মাশরুম ও ব্যাকটেরিয়া গাছের পাতা ও শিকড় প্রক্রিয়াকরণ করে৷ ফলে কিছুটা করে কার্বন আবার রিলিজ করে৷ এমনিতে এটা কোনো সমস্যা নয়৷ কিন্তু মানুষ বায়ুমণ্ডলে যে কার্বন ডাই-অক্সাইড সৃষ্টি করে, তার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে৷ মাইক্রো-অরগ্যানিজম আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং আরও কার্বন রিলিজ হয়৷

ল্যাবে মাটির স্যাম্পেল পরীক্ষা করা হচ্ছে৷ পোড়ানোর সময় বোঝা যায় মাটিতে কতটা কার্বন ডাই-অক্সাইড রয়েছে৷ তরলের মধ্যে অরগ্যানিক কার্বনের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়৷

বিজ্ঞানীরা আরও অনেক কিছু পরিমাপ করেন৷ যেমন দিনের কোন সময় গাছের পাতা সক্রিয়ভাবে সালোকসংশ্লেষ পদ্ধতি চালায় এবং এই কাজে তারা বায়ুমণ্ডল থেকে কতটা কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে৷ রাইশস্টাইন বলেন, ‘‘বনজঙ্গল ও বায়ুমণ্ডলের মধ্যে অ্যাসিমিলেশনের দিকে আমরা নজর দিচ্ছি৷ এটা অনেকটা মানুষের ফুসফুসের ক্রিয়া মাপার মতো বিষয়৷ আমরা গ্যাসগুলির কম্পোজিশন খতিয়ে দেখছি, মানুষের ক্ষেত্রে যাকে ব্লাড কাউন্ট বলা হয়৷ এভাবে আমরা পৃথিবীর বুকে সব সম্ভাব্য ক্রিয়াগুলির দিকে নজর দিচ্ছি – বিশেষ করে ইকো সিস্টেম ও বায়ুমণ্ডলের মধ্যে৷''

তারপর বিচ গাছের বন থেকে সংগৃহীত তথ্য নিয়ে অনেক অঙ্ক করতে হয়৷ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের মনিটারিং স্টেশন এবং পর্যবেক্ষক স্যাটেলাইট থেকে তথ্যও কাজে লাগানো হয়৷ এর ফলে কিছু মডেল সৃষ্টি হয়৷ রাইশস্টাইন বলেন, ‘‘রং যত সবুজ, তত বেশি সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া চলছে৷ আমাদের এখানে সেটা সাধারণত গ্রীষ্মেই ঘটে – জুন, জুলাই, আগস্ট মাসে৷ এশিয়ার মতো অঞ্চলে সেটা বর্ষার উপর অনেকটা নির্ভর করে৷ আবহাওয়া যখন শুষ্ক হয়ে ওঠে, তখন সালোকসংশ্লেষও কমে যায়৷ তারপর বর্ষা ও তার পরের মাসগুলিতে আর্দ্রতা বাড়লে সালোকসংশ্লেষও আবার বেড়ে যায়৷''

বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে গবেষকরা অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছেন৷ কিন্তু পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটে চলেছে৷ বনজঙ্গলের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের কী প্রভাব পড়ছে এবং ঘনঘন আবহাওয়ার ফারাক আরও তীব্র হতে থাকলে কী ঘটে, তার আরও নিখুঁত পূর্বাভাষ দেবার চেষ্টা চলছে৷ তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও বনজঙ্গল তা মোটামুটি সামলে নিতে পারে৷ তবে ঘনঘন খরা দেখা দিলে সেটা বড় বিপদের কারণ হতে পারে৷ রাইশস্টাইন বলেন, ‘‘ধরে নেওয়া যেতে পারে, যে নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতি এর ফলে অন্যদের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷ তখন কিছু প্রজাতির গাছ জঙ্গল থেকে উধাও হয়ে যাবে, আবার কিছু নতুন প্রজাতি যোগ হবে৷ অতএব ভবিষ্যতে গাছপালার ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তনের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে৷''

এই জঙ্গল হয়ত কোনো এক সময় এখনকার তুলনায় অনেক বদলে যাবে৷ বিজ্ঞানীরাও হয়ত আগেভাগেই তার পূর্বাভাষ দিতে পারবেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক