1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

বড়দিন নিয়ে জার্মানদের রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য

বছর ঘুরে আবার এসে গেল বড়দিন৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে দিনটি পালন করে৷ জার্মানিতেও কয়েক সপ্তাহ ধরে এই উৎসবকে ঘিরে চলেছে নানা আয়োজন৷

ঐতিহ্যের প্রতি বিশেষ অনুরাগ রয়েছে জার্মানদের৷ ক্রিসমাসকে ঘিরে পুরানো ঐতিহ্য, রীতি-নীতির সমাহার চোখে পড়ে সর্বত্র৷ অফিস আদালত ও বাড়িতে বাড়িতে চোখে পড়ে আলোক সজ্জিত ক্রিসমাস ট্রির বাহার৷

জার্মানদের নিজস্ব ঐতিহ্য

বড়দিনের উৎসব পালনেও জার্মানদের রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস৷ অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বড়দিনের উৎসবটা যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন ২৫ শে নয় বরং আগের দিনই অর্থাৎ ২৪ ডিসেম্বর থেকেই শুরু হয়৷ কয়েকশ বছর ধরে উৎসবটাকে এগিয়ে আনা হয়েছে৷ মিডনাইট মেস থেকে শুরু করে ক্রিসমাস ট্রির নীচে রাখা উপহার বিতরণ – এসব কিছুই চলে ২৪ তারিখ অর্থাৎ পবিত্র রাতে৷

বড়দিনের বাজারেও বিশেষত্ব রয়েছে জার্মানদের৷ মাল্ডওয়াইন, স্টোলেন বা এক ধরনের ফ্রুট কেক এসব একান্তই জার্মান

তবে ঠিক কোন দিনটি পবিত্র রাত এটা জিজ্ঞেস করলে মানুষজন একটু গোলমাল পাকিয়ে ফেলেন৷ এক নারী বলেন, ‘‘আমার মতে পবিত্র রাত হলো ২৪ তারিখে৷'' আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘‘আমার মতে ২৫ তারিখ৷'' আরেক মহিলা উত্তর দেন, ‘‘যখন দারুচিনির গন্ধে চারিদিক ভুরভুর করে, যখন চারিদিক আলোকোজ্জ্বল হয়ে ওঠে তখন৷''

উপহারগুলি কে নিয়ে আসে কে?

উপহারগুলি কে নিয়ে আসে এব্যাপারেও জার্মানদের মতভেদ রয়েছে৷ এক মহিলা বলেন, স্যান্টাক্লজ বা ভাইনাখটসমান, এক ছেলে বলে না না ক্রিস্টকিন্ড (ক্রিস্ট-চাইল্ড), আরেক মেয়ে বলেন, নানা স্যান্টা ক্লজ, আরেক ছেলে বলে আমার বাবা-মা৷

স্যান্টাক্লজ বা ক্রিস্টকিন্ড যেই উপহার আনুক না কেন জার্মানরা এব্যাপারে দ্বিধাবিভক্ত৷ প্রটেস্টান্ট অধ্যুষিত উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের মানুষজন স্যান্টাক্লজকে বিশ্বাস করেন৷ আর ক্যাথলিক অধ্যুষিত দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে ক্রিস্টকিন্ডের প্রভাবটাই বেশি৷

আরো কিছু বিশেষত্ব রয়েছে জার্মানিতে

ক্রিসমাসের আরো কিছু বিশেষত্ব রয়েছে জার্মানিতে৷ জার্মানিতে বড়দিনের উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় প্রায় চার সপ্তাহ আগে থেকেই৷ এই সময়টাকে বলা হয় ‘আডভেন্টৎসাইট'৷ অর্থাৎ (যিশুর) আবির্ভাবের সময়৷ উৎসবের সময়টাকে ‘কাছাকাছি' আনার জন্যই এতসব আয়োজন৷ এই সময় তৈরি করা হয় ‘আডভেন্টক্রানৎস'৷ এটির যাত্রা শুরু ১৮৩৯ সালে জার্মানির হামবুর্গে৷ ফার গাছের পাতা পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে বানানো একরকম তোড়া৷ এটি টেবিলে রাখা হয় কিংবা জানালায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয় অনেক বাড়িতে৷ তার ওপর গেঁথে দেয়া হয় চারটা মোমবাতি৷

Symbolbild Gehstock

বড়দিনের সময় মা-বাবারা ছেলেমেয়েদের কাছে পাবার আশায় দিন গুণতে থাকেন

বড়দিনের আগের চার সপ্তাহে প্রতি রোববার একটি করে মোমবাতি জ্বালানো হয়৷ চারটা মোমবাতি জ্বালানো হয়ে গেলে বুঝতে হবে বড়দিন আসন্ন৷ আডভেন্ট ক্যালেন্ডারও জার্মানদের সৃষ্টি৷ পরিবারের বড়রা আডভেন্ট ক্যালেন্ডার তৈরি করে তার খোপে খোপে ছোটদের জন্য রেখে দেন বাদাম, ফল, চকলেট বা খেলনা৷ এক এক দিন এক একটা জিনিস পেয়ে বাচ্চাদের আনন্দ আর ধরে না৷

পারিবারিক উৎসব

জার্মানদের জন্য বড়দিন বিশেষ করে পারিবারিক উৎসব৷ এই দিন পরিবার পরিজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকেন সবাই৷ বিশেষ করে মা-বাবারা ছেলেমেয়েদের কাছে পাবার আশায় দিন গুণতে থাকেন৷ এদিক দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে জার্মানদের মিল রয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়