1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

বড়দিনের উপহারে কারাগারে তৈরি জিনিস

বার্লিনের টেগেল এলাকায় উঁচু প্রাচীরঘেরা দালানটিতে ‘বাস’ করেন ১,২০০ মানুষ৷ এটি একটি কারাগার৷ কারাগারের ওয়ার্কশপে যে সব জিনিস তৈরি হয়, তা তো এখন রীতিমত ‘বেস্টসেলার’৷

JVA Berlin Tegel

বার্লিন কারাগার

স্যাঁতসেঁতে শনিবারের এক দৃশ্য: শত শত মানুষ কারাগারের লাল ইঁটের দালানের সামনে ভিড় করেছেন৷ অনেকের হাতেই কারাগারের ছাপ মারা ব্যাগ৷ প্রচুর জিনিসপত্র তাতে৷ এতে রয়েছে ক্রিসমাসের রকমারি উপহার, কাঠের তৈরি ছোট ছোট পাখির বাসা, আডভেন্টসক্রানৎস, বিস্কুট ইত্যাদি৷

চারিদিকে উৎসবের আমেজ

জার্মানিতে বড়দিন উৎসবের চার সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় ‘আডভেন্টসসাইট বা খ্রিস্টের আবির্ভাবের সময়'৷ চারিদিকে দেখা যায় একটা উৎসবের আমেজ৷ প্রতি শহরেই বসে রকমারি বড়দিনের বাজার৷

প্রতিবছরই এই সময়টায় বার্লিন-টেগেলের কারা কর্তৃপক্ষ শীতকালীন বাজারের আয়োজন করে থাকেন৷ লোকমুখে শুনে শুনে বার্লিনের বাসিন্দাদের কাছেও পরিচিত এই বাজারটি৷

Winterbasar der Justizvollzugsanstalt Berlin Tegel

প্রতিবছরই এই সময়টায় বার্লিন-টেগেলের কারা কর্তৃপক্ষ শীতকালীন বাজারের আয়োজন করে থাকেন৷

এক প্রবীণা বলেন, ‘‘আমি প্রতিবছর এখানে আসি, কারণ এখানে সুন্দর সুন্দর জিনিস পাওয়া যায়৷'' দুটো আডভেন্টসক্রানৎস কিনেছেন তিনি৷ এছাড়া রকমারি বল ও মোমবাতি দিয়ে সাজানো চারকোণা একটি কাঠের বাক্সও কিনেছেন৷ নাতনির জন্য উপহার এটা৷

নিমেষে খালি হয়ে যায় বাজার

খোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাজারের টেবিল ও স্টলগুলি খালি হয়ে যায়৷ বিশেষ করে বড়দিনের জিনিসগুলি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে৷ জেলখানার বেকারিতে তৈরি কেকই তো একদিনে বিক্রি হয়েছে কয়েক হাজার ইউরোর৷

জেলের উঁচু প্রাচীরের সামনে আডভেন্টসসাইট-এর এই ডামাডোলটা কারাবাসীদের কাছে পৌঁছায় না৷ ১,২০০ বন্দি আটক রয়েছেন সেখানে৷ তাঁরা ১৪টির মতো ওয়ার্কশপে কাজ করেন৷ বই বাঁধাই থেকে শুরু করে জুতা তৈরি সব ধরনের কাজই চলে সেখানে৷

টেগেল কারাগারের কর্মসংস্থান সেক্টরের ডিটার ব্লাঙ্ক এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমাদের এখানে অনেক কয়েদি রয়েছেন, যারা কারাবাসের আগে নিয়মিত কোনো কাজ করতেন না৷ এখানে তাঁরা কাঠামোটা শিখতে পারেন৷ তাঁরা যথাসময়ে কাজ শুরু করেন৷ নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করেন৷

JVA Berlin Tegel

কারাবাসীদের তৈরি জিনিসপত্র

এরমধ্যে যতটুকু করার ততটুকু কাজ সেরে ফেলেন৷'' সপ্তাহে ৩৭ ঘণ্টা কাজ করতে হয় কারাবাসীদের৷ তাঁদের উৎপাদনের গুণগত মানের ওপর জোর দেওয়া হয়৷ ব্লাঙ্ক বলেন, ‘‘ছাড়া পাওয়ার পরও কয়েদিরা যাতে কর্মজীবনে সম্পৃক্ত হতে পারেন, সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখি আমরা৷ একারণে বাইরের শ্রমিকদের মতোই তাদের কর্মদক্ষতা থাকতে হয়৷''

প্রদর্শনী থেকে বাজার

কর্মশালায় তৈরি জিনিসগুলি যেমন খাট, চেয়ার, কাঠের খেলনা ইত্যাদি আগে কিন্ডারগার্টেন ও বিভিন্ন অফিসে পাঠানো হতো৷ এরপর কর্তৃপক্ষ কারা প্রাচীরের বাইরে একটি কক্ষ স্থাপন করে সেখানে তাদের জিনিসগুলি প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন৷

কিন্তু আগত দর্শকরা শুধু জিনিসগুলি দেখেই সন্তুষ্ট হননি, ওগুলি কেনার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন৷ এইভাবেই ২০০২ সালে স্থাপিত হয় এক ‘কারাশপ'৷

কিছু নিয়মিত ক্রেতা আসেন এই দোকানে৷ তাঁরা সস্তার জুতা, চামড়ার নানা ধরনের জিনিসপত্র কিনতে পেরে খুশি হন৷ অনেকে আবার পুরানো সোফা ও চেয়ার ঠিকঠাক করার জন্য নিয়ে আসেন৷ ভিড় বেশি বলে প্রায়ই অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় ক্রেতাদের৷ কাঠের ওয়ার্কশপটিতে কারাগারের বন্দিরা বড় বড় আসবাবপত্রের পাশাপাশি ছোট ছোট পাখির বাসাও তৈরি করেন৷ শীতকালে পাখিদের খাওয়ানোর জন্য এই বাসাগুলি অনেকে বাগান ও ব্যালকনিতে ঝুলিয়ে রাখেন৷ এইসব লুফে নেয় মানুষ৷

আত্মমর্যাদা বাড়ায়

কারাগারের এক বন্দি বলেন, ‘‘আমি সাজানোর জিনিস বানাতে পছন্দ করি৷ এর মাধ্যমে আমি সৃজনশীল হতে পারি৷'' ৩৮ বছর বয়সি এই ব্যক্তি কাঠের কর্মশালায় তাঁর কাজটি হারাতে চান না৷ আটক হওয়ার আগে এক রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরে কাজ করতেন৷ এখন তাঁর কাঠের কাজ করতে ভাল লাগছে৷

এসব কাজকর্মের মাধ্যমে কারাবন্দিদের আত্মমর্যাদা বাড়ানো হয়৷ জীবনটা যে অর্থহীন নয়, সেটাও বুঝতে দেওয়া হয়৷ কারাবন্দিদের দিয়ে বিনাপয়সায় কাজ করানো হয় না৷ ক্রেতারা এই বিষয়টিকে ভাল চোখে দেখেন৷ এইভাবে পরস্পর পরস্পরের কাছ থেকে লাভবান হতে পারেন৷ বার্লিনবাসীরা প্রাচীরের বাইরে থেকে আর কারাগারের বন্দিরা প্রাচীরের ভেতরে থেকে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়