1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

‘ফ্রুট ব্যাট' বাদুড়রা কী করে, কীভাবে বাঁচে

কঙ্গোর অথবা জাম্বিয়া, ফলভোজী বাদুড়রা বছরের শেষ তিন মাস কোথায় কাটায়? উত্তর-পূর্ব জাম্বিয়ার ছোট্ট এক টুকরো জঙ্গলে – মাত্র এক কিলোমিটার লম্বা আর কোথাও কোথাও চার মিটারের বেশি চওড়া নয়৷ এখানকার ফল বাদুড়দের বিশেষ ভালো লাগে!

অক্টোবর মসের শেষে যখন বাদুড়রা আসে, তখন জাম্বিয়ার কাসানকা ন্যাশনাল পার্কে সাড়া পড়ে যায়৷

ও-এন'এর প্রোজেক্ট ম্যানেজার ডায়ন স্কট জানান, ‘‘বাদুড়রা আসে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে, কিন্তু জাম্বিয়াতেও এদের কলোনি আছে৷ ওরা এই সময়ে আসে কেননা তখন ফলগুলো পাকে৷ প্রধানত ওরা স্থানীয় মাসুকু ফল, ওয়াটারবেরি কুল ইত্যাদি খায়৷ আবার আম বা কলার মতো গ্রামে যে সব ফল পাওয়া যায়, সেগুলোও খায়৷''

তিনি আরো জানান, ‘‘প্রতিবার দেখি আর অবাক লাগে৷ খুবই মজার: মরশুমের গোড়ায় যখন বাদুড়রা প্রথম আসতে শুরু করে, তখন আমরা কতগুলো বাদুড় এসেছে, হয়ত তা দেখতে আসি৷ অত আগের দিকে এসে শুধু দশ অথবা বিশ হাজার বাদুড় দেখেই চমকে যেতে হয়৷''

ভিডিও দেখুন 05:23

কেমনতরো বাদুড় এই ‘ফ্রুট ব্যাট’?

এই খোড়ো রঙের ফলভোজী বাদুড়গুলোর ইংরেজি নাম ‘স্ট্র-কলর্ড ফ্রুট ব্যাট'৷ এদের কাসানকা ন্যাশনাল পার্কে আগমন হলো বিশ্বে স্তন্যপায়ী জীবদের সবচেয়ে বড় অভিবাসন৷

এখানকার ফলগুলোতে এমন কী আছে, যে আনুমানিক এক কোটি বাদুড় তা খেতে প্রতিবছর এখানে আসে? আসলে সেটা একটা রহস্য৷

অপরদিকে সারা আফ্রিকাতেই বাদুড়দের হ্যাবিটাট, মানে বাসের জায়গা বিপন্ন হতে চলেছে৷ ডায়ন স্কটের কথায়, ‘‘বাদুড়দের পক্ষে মূল চ্যালেঞ্জ হলো তাদের বাসের যোগ্য স্থান কমে যাওয়া৷ কাজেই তারা জঙ্গলে বাসা বাঁধে, আফ্রিকার এই অঞ্চলে যা প্রধানত ক্রান্তীয় অরণ্য৷ বাদুড়দের জঙ্গলটা আসলে খুব ছোট: এক কিলোমিটার লম্বা আর চার থেকে পাঁচশ' মিটার চওড়া৷ কাসানকার জঙ্গলে মূল বিপদ হলো আগুন৷''

এ বছরের গোড়ায় বাদুড়দের জঙ্গলের এই এলাকাটায় একটা বড় আগুন লাগে৷ এখানকার জমি ‘পিট সয়েল', যা ভেজা কয়লার মতো পোড়ে, কাজেই আগুন মাটির নীচে ঢুকে গাছের শিকড়গুলোকে পুড়িয়ে দেয় – এই গাছটার যা হয়েছে, একেবারে ভেতর থেকে পুড়ে গিয়েছে৷

চোরাশিকারীরাই বেশি আগুন ধরায়৷ ওরা ঘাস পুড়িয়ে দেয়, যাতে ঘাস আরো তাড়াতাড়ি গজায়৷ হরিণেরা তখন সেই ঘাস খেতে পার্কের খোলা জায়গাগুলোতে আসে, তখন তাদের শিকার করা হয়৷

নিয়মিত টহলদারী আর গাছ কেটে ফায়ারব্রেকের ব্যবস্থা করে সেটা রোখার চেষ্টা করা হয়৷ কিন্তু ন্যাশনাল পার্কের বাইরে বহু মানুষের বাস, যাদের কাছে বনের জীবজন্তু সস্তার খাবার ছাড়া আর কিছু নয়৷

পার্কের টহলদারী প্রহরী মার্লে কাটিন্টা জানান, ‘‘কোনো হদিশ দেখলে আমরা তাদের হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করি৷ ধরুন দেখছি, কিছু পায়ের ছাপ একটা পায়ে হাঁটা পথ ধরে পার্কের মধ্যে ঢুকেছে, তাহলে আমাদের তাদের ধরার একটা ফাঁদ পাততে হবে৷ পার্কের ভেতরে গুলির আওয়াজ শুনলে ফলো-আপ করতে হবে৷ রাত্রে ওরা টর্চ ব্যবহার করে৷ টর্চ বহুদূর থেকে দেখা যায়; তখন তাদের পিছু করতে হবে৷''

মানুষজনকে বোঝানো তার চেয়ে ভালো পন্থা৷ কেননা গাঁয়ের মানুষ বাদুড়দের ভয় করে৷ বাদুড়রা নাকি নানাধরনের অসুখবিসুখের জন্য দায়ী; ঝাড়ফুঁকেও বাদুড়রা কাজে লাগে৷ যে কারণে সংরক্ষণ প্রকল্পের কর্মীরা নিয়মিত পার্কের বাইরের বসতিগুলো থেকে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এসে ফলভোজী বাদুড় দেখান৷

একজন ইকো-গাইড অকুস্থলেই তাদের বোঝান, বাদুড়রা কী করে ও কীভাবে বাঁচে৷ এর ফলে অনেক কুসংস্কার দূর হয়ে যায়৷ বাদুড়রা যে নিরীহ, শুধু ফল খায়, এটুকু বোঝে পড়ুয়ারা৷ ছেলে-মেয়েরা এই প্রথম প্রকৃতির এই আশ্চর্য খেলা দেখছে৷

ইকো-গাইড হিগালিনে মুসাকার কথায়, ‘‘ছোটদের আগে শেখানো দরকার৷ ছেলে-মেয়েরা এই বার্তা তাদের বাবা-মায়েদের কাছে নিয়ে যাবে৷ বাবা-মায়েরা যদি বাদুড়দের সম্বন্ধে জানতে পারেন, তাহলে কাসানকায় প্রচুর বাদুড় বাড়বে৷ এখানকার মানুষদের মধ্যে বাদুড়দের সম্পর্কে একটা ভুল ধারণা আছে, কেননা বাদুড়রা নিশাচর প্রাণী৷ কাজেই লোকে বলে ডাকিনিবিদ্যেতে বাদুড়েরা কাজে লাগে৷ কিন্তু দেখলে তারা বোঝে যে, এগুলো শুধু খোড়ো রঙের ফলভোজী বাদুড়৷''

ফলভোজী বাদুড়রা পরিবেশ প্রণালীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে৷ তারা বহু মাংসাশী পশুর জন্য শিকার; আবার বাদুড়রা যে গাছের ফল খায়, তাদের বীজ ছড়ায়৷ প্রতি রাত্রে বাদুড়রা পার্কের মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার ওড়ে৷ জঙ্গলকে সুরক্ষিত করা যাবৎ ওরা এখানে নিশ্চিন্তে থাকতে পারে৷

বর্ষশেষের মধ্যে পার্কে আবার শান্তি ফিরে আসে, পরের বছর অবধি, যখন আবার লক্ষ লক্ষ বাদুড় উত্তর-পূর্ব জাম্বিয়ার একটি ছোট্ট জঙ্গলের খোঁজে আকাশ ছেয়ে ফেলবে৷

ইয়ুর্গেন শ্নাইডার/এসি

প্রতিবেদনটি পড়লেন? দেখলেন ভিডিওটা? কেমন লাগলো জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও