1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ফ্রান্সের নির্বাচনে ল্য পেন মোটেই জয়লাভ করেননি

ফ্রান্সের আঞ্চলিক নির্বাচনে ‘ন্যাশানাল ফ্রন্ট' দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে৷ আন্দ্রেয়াস নল অবশ্য মনে করেন, যে ইতিহাসে তাদের সেরা ফলাফল সত্ত্বেও দলের তেমন উৎসাহিত হবার কারণ নেই৷

Frankreich Paris Departementswahlen Marine Le Pen

মারিন ল্য পেন

মারিন ল্য পেন প্রতীকী আচরণ ভালোই বোঝেন৷ দক্ষিণপন্থি ন্যাশানাল ফ্রন্ট দলের নেত্রী নির্বাচনের দিন সন্ধ্যায় তাঁর বার্তায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের যেভাবে অপমান করার চেষ্টা করলেন, তার মধ্যেই এর পরিচয় পাওয়া যায়৷ ‘ন্যাশানাল ফ্রন্ট ফ্রান্সের প্রথম দল' – এই স্লোগান নিয়েই গত বছর এই দল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর প্রতিবাদি দলের তকমা ঝেড়ে ফেলে মূল স্রোতের রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চেয়েছিলো৷ কিন্তু নির্বাচনের সন্ধ্যায় মারিন ল্য পেন-কে দাঁতে দাঁত চেপে মেনে নিতে হলো, যে তাঁর দল নিকোলা সার্কোজি-র রক্ষণশীল দল থেকে বেশ কয়েক শতাংশ কম ভোট পেয়েছে৷ অথচ জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী এতটা ফারাক হবার কথা ছিল না৷ তাই জয়ের উল্লাসের বদলে দলের নেত্রী সরকারের পদত্যাগের দাবির পুনরাবৃত্তি করে গেলেন৷

সাম্প্রতিক কিছু সাফল্যের পর বিরোধী দলের থেকে পিছিয়ে পড়া ন্যাশানাল ফ্রন্ট দলের জন্য সন্তোষজনক নয়৷ এটা স্পষ্ট, যে আগামী রবিবার দুই অবশিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে রান-অফ ভোটে এই দক্ষিণপন্থি দল তেমন ভোট পাবে না৷

সরকারের জন্য আরও শিক্ষা

ন্যাশানাল ফ্রন্ট ধাক্কা খেলেও এই নির্বাচনে বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়েও সমাজতন্ত্রী দলের প্রধানমন্ত্রী মানুয়েল ভাল্স-এর ভরাডুবি হয়েছে৷ জনমত সমীক্ষায় এ পূর্ববাণী তিনি খণ্ডন করতে পারেন নি৷ যদিও পরিস্থিতি মোটেই তেমন খারাপ ছিল না৷ কয়েক সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী ভাল্স ও প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদ ইসলামপন্থি সন্ত্রাসের ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় তাঁদের সক্রিয় ভূমিকার জন্য বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন৷ কিন্তু ভাল্স যেভাবে ন্যাশানাল ফ্রন্ট-কে শয়তানের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, ভোটারদের তা পছন্দ হয় নি৷

Frankreich Paris Departementswahlen Nicolas Sarkozy

নিকোলা সারকোজি

প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ফ্রান্সের সামনে বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে৷ উলটে অনেক ভোটার মনে করেছিলেন, সরকারকে শিক্ষা দিতে গেলে ন্যাশানাল ফ্রন্ট দলকেই ভোট দেওয়া উচিত৷ শুধু শ্রমবাজারের পরিস্থিতি নিয়েই ভোটাররা উদ্বিগ্ন নয়, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত সমাজতন্ত্রী দলের ভাবমূর্তি সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে দুর্বলতার জন্যও অনেক ভোটার সরকারকে শিক্ষা দিতে চেয়েছেন৷

ফ্রান্সের সামনে অশান্ত সময়

সরকার ঘোষণা করেছে, সেই নেপোলিয়ানের আমলে দেশকে ছোট ছোট জেলা বা ‘দেপার্তেমঁ'-তে যেভাবে ভাগ করা হয়েছিলো, ২০২১ সালের মধ্যে তা দূর করে দেশকে কিছু বড় অঞ্চলে বিভক্ত করা হবে৷ কয়েক দশক ধরে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক প্রশাসনের মধ্যে দায়িত্ব-বণ্টন নিয়ে লাগাতার বিরোধের পর এটা একটা যুগান্তকারী পরিবর্তন হতে পারে৷ বিশেষজ্ঞ ও শিল্প-বাণিজ্য জগতও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে৷ কিন্তু সংসদে সমাজতন্ত্রী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও কয়েক দিন আগে এর ঠিক বিপরীত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ ‘দেপার্তেমঁ' বা জেলার কাঠামো অক্ষত থাকবে৷ উলটে তারা আরও অধিকার পাবে৷ নির্বাচনের দিনেই সংসদে এই প্রশ্নে ভোটাভুটি হচ্ছিলো৷ ফলে সেটি নির্বাচনি পরিহাস ও সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকারের দুর্বলতাই তুলে ধরেছে৷

বলা বাহুল্য, ন্যাশানাল ফ্রন্টের নেত্রী এমন সুযোগ হাতছাড়া করেন নি৷ অথচ দলের মূল বিষয় – অর্থাৎ অভিবাসন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অর্থনীতি ইত্যাদি এবারের নির্বাচনে তেমন গুরুত্ব পায় নি৷ তা সত্ত্বেও দল নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো৷ তার উপর চরম দক্ষিণপন্থি বিদ্রোহী দল হওয়া সত্ত্বেও ন্যাশানাল ফ্রন্ট আইন মেনে যথেষ্ট নারী প্রার্থীর মনোনয়ন দিতে পেরেছিলো৷ এমনকি সরকারি সমাজতন্ত্রী দলও তা পারে নি৷

প্রেসিডেন্ট মারিন ল্য পেন?

সারা দেশে স্থানীয় পর্যায়ে ন্যাশানাল ফ্রন্টের উপস্থিতি বাড়ছে, নেত্রী হিসেবে মারিন ল্য পেন-এর জনপ্রিয়তাও তুঙ্গে৷ তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী যখন ল্য পেন-এর প্রেসিডেন্ট হবার সম্ভাবনা সম্পর্কে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন, তখন সেটা বাড়াবাড়ি হয়ে যায়৷ ন্যাশানাল ফ্রন্টের ক্ষমতার সীমা আছে৷ শার্ল দ্য গোল-এর উত্তরসূরি দলের সম্মিলিত ক্রোধ সত্ত্বেও এটা ঘটনা, যে ল্য পেন-এর প্রেসিডেন্ট হবার সম্ভাবনা সত্যি বড় ক্ষীণ৷ ফ্রান্সের ভোটাররা ফরাসি প্রজাতন্ত্র ও ইউরোপীয় ভাবাদর্শ ছাড়ার মতো ধৃষ্টতা দেখাতে চান না৷

Porträt Andreas Noll

আন্দ্রেয়াস নল, ডয়চে ভেলে

কিন্তু মারিন ল্য পেন আগামী মাসগুলিতে রাজনৈতিক মধ্যপন্থিদের আরও কাছে টানার চেষ্টা করবেন৷ বর্তমান নির্বাচনি প্রচারের সময়ই মূল বিষয়গুলি স্পষ্ট হয়ে গেছে৷ রক্ষণশীল ইউএমপি দলের নেতা ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলা সার্কোজি বিদেশিদের নিজস্ব সংস্কৃতির বদলে ফরাসি সংস্কৃতি গ্রহণ করার পক্ষে সওয়াল করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন৷ সাফল্যের জোয়ারে তিনি এই সব বিষয় হাতছাড়া করবেন না৷

২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ন্যাশানাল ফ্রন্ট শক্তিশালী হয়ে উঠলে তার পরিণাম কী হবে, তা সবাই জানে৷ ল্য পেন রান-অফ ভোট পর্যন্ত পৌঁছবেন এবং তারপর তাঁর পরাজয় হবে – এটা প্রায় নিশ্চিত৷ ফলে প্রথম পর্যায়েই এই নির্বাচনের ফয়সালা হয়ে যাবে৷ রান-অফ ভোটে ল্য পেন-এর প্রতিদ্বন্দ্বীরই জয়ের সম্ভাবনা বেশি৷ ফ্রান্সের কোন্দলে জর্জরিত বামপন্থি শিবিরের জন্য তা প্রায় মৃত্যুদণ্ডের সমান হবে৷