1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ফ্রান্সের ঘটনা ইসলামকে নিয়ে বিতর্ক বাড়াবে

ইসলাম তথা শরণার্থী নিয়ে জার্মানি প্রমুখ দেশে ইতিমধ্যেই যে বিতর্ক চলেছে, প্যারিসে হত্যাকাণ্ড তা আরো উত্তপ্ত করবে৷ কিন্তু স্বাধীনতা অথবা সহিষ্ণুতা, দু’টোর কোনোটাই বর্জন করা উচিত নয়, বলে মনে করেন ক্রিস্টোফ হাসেলবাখ৷

আক্রমণ যে পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল, এমন বলা চলে না৷ ২০০৬ সালে ডেনমার্কের ‘‘ইলান্ড্স পোস্টেন'' পত্রিকায় হজরত মোহাম্মদের যে সব ব্যঙ্গচিত্র বেরিয়েছিল, সেই সময়েই সেগুলো প্রকাশ করেছিল ফরাসি ব্যঙ্গ-পত্রিকা ‘‘শার্লি এব্দো''৷ ব্যঙ্গচিত্রগুলির ফলে গোটা বিশ্বে মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ ও উষ্মার সৃষ্টি হয়, বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ডেনমার্ক ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের দূতাবাসের উপর হামলা চলে৷ ২০১১ সালে প্যারিসে শার্লি এব্দো-র অফিসেও আগুনে বোমা ছোঁড়া হয়েছিল৷ তা সত্ত্বেও পত্রিকাটি হজরত মোহাম্মদ এবং ইসলামকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও ছবি ছাপা বন্ধ করেনি: বিশেষ করে তাদের ‘‘শরিয়া'' সংস্করণটিতে সম্পাদকের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘‘প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ''৷ এবং শার্লি এব্দো-র সর্বাধুনিক সংস্করণটির প্রচ্ছদে যে বিতর্কিত ফরাসি লেখক মিশেল উলেবেক-এর ছবি মুদ্রিত হয়েছে, সেটাও অ-পরিকল্পিত নয়৷ উলেবেক তাঁর সর্বশেষ উপন্যাসের কহিনি হিসেবে নিয়েছেন, যদি কোনো মুসলিম ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হন, তাহলে দেশের পরিস্থিতি কিরকম হবে৷

মুসলিমদের বিশেষ সুযোগসুবিধা দেওয়া চলবে না

একটি পত্রিকা কি কোনো ধর্ম ও তার সন্ত, মুনি-ঋষিদের নিয়ে ব্যঙ্গ-রসিকতা করতে পারে? নিশ্চয় পারে, দেশের আইন না ভেঙে৷ শার্লি এব্দো একাধিকবার পোপকে নিয়ে ঠাট্টা করে একটি ক্যাথলিক সংগঠনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই মামলায় জিতেছে৷ ক্যাথলিক খ্রিষ্টানরা পোপকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টায় রুষ্ট হতে পারেন, কিন্তু শেষমেষ সেটা তারা মেনে নেন৷ সরকারও এখানে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না৷

২০০৬ সালে হজরত মোহাম্মদ-এর ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে বিরোধ চলাকালীন ডেনমার্কের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আন্ডার্স ফঘ রাসমুসেন এ ধরনের ‘‘ঈশ্বরনিন্দা''-র বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে অস্বীকার করে ঠিক কাজই করেছিলেন – যদিও মুসলিমরা সে'ধরনের পদক্ষেপ দাবি করছিলেন৷ একটি মুক্ত, গণতান্ত্রিক সমাজের পক্ষে এটা সহ্য করতে পারা উচিত৷ এবং একটি রাষ্ট্র তার সব নাগরিকদের কাছ থেকে এ ধরনের সহিষ্ণুতা প্রত্যাশা করতে পারে৷ মুসলিমদের কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া চলবে না৷

উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে

এ ধরনের একটি প্রাণঘাতী আক্রমণের পর মনে হতে পারে, সকলকে একটু নরম হতে বলাটাই শ্রেয়: ‘‘ওহে ইসলাম নিয়ে মশকরা-করিয়েরা, তোমরা এবার একটু ক্ষ্যামা দাও৷ আমরা ধর্ম নিয়ে যুদ্ধ চাই না৷'' কিন্তু আততায়ীরা তো ঠিক তা-ই চায়: মানুষজন যা-তে স্বেচ্ছায় তাদের নিজেদের স্বাধীনতা সীমিত করে৷ এ রকম ব্ল্যাকমেইল সফল হলে চলবে না৷ তবুও এই আক্রমণের ফলশ্রুতির কথা ভাবলে ভয় করে: ফ্রান্সে ইতিমধ্যেই যে উত্তেজনা রয়েছে, তা আরো বাড়বে৷

ফ্রান্সে মুসলিমদের সংখ্যা প্রচুর, প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ৷ তাদের মধ্যে অনেকে কর্মহীন, সমাজের প্রান্তে এদের বাস৷ সে'ধরনের কোনো ‘ঘেটো' বা আবাসিক এলাকায় পুলিশও পা দিতে সাহস পায় না৷ অপরদিকে চরম দক্ষিণপন্থি রাজনৈতিক দল ফ্রঁ নাসিনাল বা ন্যাশনাল ফ্রন্ট বহিরাগত এবং বিশেষ করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গীরণ করে আসছে৷ গতবছর ইউরোপীয় সংসদের নির্বাচনে ন্যাশনাল ফ্রন্ট সবচেয়ে বেশি ভোট পায়৷ ন্যাশনাল ফ্রন্টকে যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁরা এবার তাঁদের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে গণ্য করবেন৷ ইসলামের প্রতি বিরাগ বাড়বে, অপরদিকে মুসলিমদের গোঁসাও বাড়বে – চক্রবৎ৷

অনেকে আগেই জেনে বসে ছিলেন

প্যারিসের ঘটনার ফলশ্রুতি শুধু ফ্রান্সেই সীমাবদ্ধ থাকবে না৷ বিগত কয়েক বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি দেশে বহিরাগত-বিদ্বেষি রাজনৈতিক দলগুলির প্রভাব বেড়েছে৷ এবার তারা বলবে: ‘‘দেখলে তো, আমাদের সঙ্গে মুসলিমদের মেলে না৷ ওদের সমাজের অংশ করে তোলা সম্ভব নয়৷'' মুসলিমদের একটি সংখ্যালঘু অংশের মধ্যে মুষ্টিমেয় কয়েকজনের কার্যকলাপ একটি গোটা ধর্ম ও সেই ধর্মের অনুগামীদের প্রতীক হয়ে দাঁড়াচ্ছে৷

জার্মানিতেও তথাকথিত ‘পেগিডা' আন্দোলন আবার প্রতীচ্যের ইসলামীকরণের বিপদ দেখবে৷ জার্মানিতেও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান কঠিনতর হবে৷ এই পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখাটা অত্যাবশ্যক৷ হ্যাঁ, এটা আমাদের স্বাধীনতার উপর একটা ভয়ংকর আক্রমণ, কোনো যুক্তিতেই যা সমর্থন করা যায় না৷ কারুকেই সেই স্বাধীনতা কেড়ে নিতে দেব না আমরা৷ কিন্তু আমরা আমাদের সহিষ্ণুতাকেও কেড়ে নিতে দিতে পারি না৷ সব মুসলিমকে সন্দেহ করার অথবা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আদর্শে অবিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়