1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘ফ্যাক্টরি বন্ধ কোনো সমাধান নয়'

৪ঠা ফেব্রুয়ারি তেজগাঁয়ের একটি ভবনে দুটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির উত্‍পাদন বন্ধ করে দেয় অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্স নামের দুটি বিদেশি জোট৷ প্রথম পর্যায়ের পরিদর্শনে ১০টি কারখানার ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করে তারা৷

এরা হলো ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ (অ্যাকর্ড) এবং উত্তর অ্যামেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি (অ্যালায়েন্স)৷ অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৭৮টি কারখানা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ বাকি কারখানার পরিদর্শন প্রতিবেদন পরবর্তীতে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে তারা৷ এছাড়া, আরো প্রায় ১ হাজার ৭০০টি কারখানা আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে পরিদর্শন সম্পন্ন করতে চায় অ্যাকর্ড৷ অন্যদিকে, অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে আরো প্রায় ৮০০টি কারখানা পরিদর্শন কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে৷

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএ-র সহ-সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ আজীম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘একটি কারখানা হঠাত্‍ পরিদর্শন করে কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে উত্‍পাদন বন্ধ করে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না৷ সংগঠন দুটির এ ধরনের সিদ্ধান্ত মোটেও ঠিক না৷ আমরা একটি রিভিউ কমিটি গঠন করেছি৷

Bangladesch - Feuer in einer Textilfabrik in Dhaka

বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানার অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা পরীক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ কিছু ত্রুটি চিহ্নিত করেছে অ্যাকর্ড

অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স যে কারখানাগুলি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করবে, রিভিউ কমিটিতে আলোচনা করে সেই সব কোম্পানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে৷ কিন্তু হঠাত্‍ কারখানা বন্ধ করা যাবে না৷'' তবে তিনি এও মনে করেন যে, ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সকেও জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন৷

বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানার অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা পরীক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ কিছু ত্রুটি চিহ্নিত করেছে অ্যাকর্ড৷ এর মধ্যে একটি কারখানার প্রতিটি ফ্লোরকে দ্রুত অতিরিক্ত ভারমুক্ত করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে৷ এছাড়া ভবনের কাঠামোগত ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি পাওয়া গেছে এমন কারখানাকে আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সেই সব ত্রুটি সারানোর জন্য বলা হয়েছে৷ তবে এখনই কোনো কারখানার কাজ বন্ধ করে দেয়ার মতো বড় ধরণের ত্রুটি পাওয়া যায়নি৷

গত মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে পরিদর্শন হওয়া প্রতিটি কারখানার নিরাপত্তা প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরা হয় অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে৷ অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশের প্রধান নিরাপত্তা পরিদর্শক ব্রাড লোয়েন প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন৷ এ সময় বাংলাদেশে অ্যাকর্ডের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েজ ও অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটির বাংলাদেশি সদস্য শ্রমিক নেতা রায় রমেশ চন্দ্র উপস্থিত ছিলেন৷ সাংবাদিক সম্মেলনে রব ওয়েজ বলেন, ‘‘কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র নয়, কারখানা পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা৷''

অ্যাকর্ডের প্রতিবেদনের ব্যাপারে বিজিএমইএ-র সহ-সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ আজীম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘যে সব ফ্যাক্টরিতে ছোটখাট সমস্যা আছে সেগুলো আমরা নিজেরাই সমাধান করব৷ অনেক ফ্যাক্টরি ইতিমধ্যে তাদের সমস্যার সমাধান করে ফেলেছে৷ কিন্তু দুই কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ যেসব ফ্যাক্টরিতে করতে হবে, সেসব ফ্যাক্টরির জন্য অ্যাকর্ডের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে৷ পরবর্তীতে আমাদের অর্ডার থেকে মাসিক ভিত্তিতে কেটে ঐ টাকা পরিশোধ করা হবে৷ কিন্তু টাকা চাওয়াতে অ্যাকর্ড গড়িমসি করছে৷ তারা যদি টাকাই না দেয় তাহলে তাদের পরামর্শ কেন শুনতে হবে? আমাদের ক্রেতারা কিন্তু নিয়মিত ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেই অর্ডার দিচ্ছেন৷ এছাড়া, বিজিএমইএ-র কোনো কোনো নেতা অ্যাকর্ডের এই প্রতিবেদনে ‘ষড়যন্ত্রের গন্ধ' খুঁজে পাচ্ছেন৷

তবে এই বিষয়ে অ্যাকর্ডের সদস্য ও শ্রমিক নেতা রায় রমেশ চন্দ্র বলেছেন, ‘‘ষড়যন্ত্র ‘তত্ত্ব' বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়৷ সব কিছুতেই এই তত্ত্ব ব্যবহার করা হয়৷'' তিনি বলেন, তাজরীন ও রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরই অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে৷ তারা সরকার ও বিজিএমইএ-র সঙ্গে একত্রে কাজ করতে চায়৷ তাদের সব কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে, নিয়মের মধ্যে থেকেই চলছে বলে দাবি করেন এই শ্রমিক নেতা৷

বিজিএমইএ-র সভাপতি আতিকুল ইসলাম সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘‘এ খাত এখন সত্যিই হুমকির মুখে৷'' পরিদর্শন চলাকালীন কারখানার অর্ডার প্রত্যাহার করা হবে না বলে ইউরোপের ক্রেতারা চুক্তি অনুযায়ী প্রতিশ্রিুতিবদ্ধ৷ কিন্তু অনেক কারখানায় ইতিমধ্যেই অর্ডার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে৷ এছাড়া শ্রমিকের মজুরি বাড়ানোর পর গার্মেন্টস পণ্যের দাম বাড়ানো হবে বলা হলেও কার্যত দাম বাড়েনি৷ তাই তিনি বলেন, রাতারাতি কারখানার পরিবর্তন সম্ভব নয়৷

সমীর কুমার দে, ঢাকা

দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়