1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

‘ফেয়ারফোন’ আসলে কতটা ‘ফেয়ার’?

মুঠোফোনের জীবনকাল মাঝেমাঝে খুবই স্বল্পস্থায়ী হয়৷ ধরুন কেনার দশ মাসের মধ্যেই ফোনটি হাত থেকে পড়ে ভেঙে গেলো৷ তখন কী হবে? রুট ক্রাউসে এরকম এক সমস্যায় পড়ার পর জানিয়েছেন তাঁর অভিজ্ঞতা৷

রুট ক্রাউসে লিখেছেন, – আমি এখন নতুন আরেকটি ফোন খুঁজছি৷ গড়ে প্রতি দু'বছরে একটি নতুন ফোন কেনে জার্মানরা৷ ২০১৩ সালে বিশ মিলিয়নের বেশি মুঠোফোন বিক্রি হয়েছে এদেশে৷ কিন্তু কেনার জন্য সঠিক ফোন কোনটি?''

আমার কাছে মূল বিষয় হচ্ছে: ফোনে ব্যবহৃত মেটেরিয়াল পরিবেশবান্ধব হতে হবে৷ তাছাড়া যে সব শ্রমিকরা ফোন তৈরির পেছনে কাজ করেছেন, তাঁরা ন্যায্য মজুরি পেয়েছেন কিনা তাও জানতে চাই আমি৷ প্রযুক্তি পণ্য বিক্রেতা স্টেফান ট্রটৎসিনস্কির কাছে আমার চাহিদার কথা জানাতে তিনি বললেন, ‘‘আমি ফোনে ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং প্রস্তুতকারী সম্পর্কে বলতে পারি৷ তবে ফোনের বিভিন্ন উপকরণ কোথা থেকে এসেছে তা জানিনা৷ অ্যাপলের বিষয়টি ভিন্ন৷ কেননা আইফোনের সব উপকরণ চীন থেকে আসে৷''

মুঠোফোনে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উৎপাদনের জটিল প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করছে পরিবেশ বিষয়ক জার্মান সংগঠন জার্মানওয়াচ৷ সংস্থাটির প্রধান কর্নেলিয়া হাইডেনরাইশ আমাকে জানান, ফেয়ারট্রেড চকোলেট, বা ফেয়ারট্রেড কফি নিয়মিত ব্যবহৃত পণ্য৷ কিন্তু একটি মুঠোফোন তৈরিতে ত্রিশ ধরনের ধাতুর প্রয়োজন হয়৷ মূলত এশিয়ায় কাঁচামাল সংগ্রহের সময় উৎপাদনের পরিবেশই ধরুন৷ ফোন আবর্জনা হিসেবে আফ্রিকায় চলে যায়৷ দুটোই বিপজ্জনক৷ বাতিল ফোনে থাকা হেভি মেটাল থেকেও সমস্যা হয়৷

কর্নেলিয়া আমাকে যে পরামর্শ দিলেন তা হচ্ছে, ‘‘একটি মুঠোফোন যতদিন সম্ভব ব্যবহার করা উচিত৷ তাছাড়া নতুন ধরনের একটি সেলফোন বাজারে আসছে, যার নাম ‘ফেয়ারফোন৷' এই ফোনটি বর্তমান কিছু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে৷''

‘ফেয়ারফোন' নামটি বেশ আশাপ্রদ মনে হচ্ছে৷ এই ফোনের সন্ধানে আমি পৌঁছাই টিউলিপ, কফিশপ আর খালের দেশে৷ মুঠোফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ফেয়ারফোন' এর মূল কার্যালয় আমস্টারডামে৷ প্রতিষ্ঠানটির তৈরি পরিবেশবান্ধব ফোন গোটা বিশ্বেই আলোড়ন তুলেছে৷

ইতোমধ্যে ২৫ হাজার মুঠোফোন বাজারে ছেড়েছে ফেয়ারফোন৷ প্রতিষ্ঠানটির কমিউনিকেশন্স ডিরেক্টর টেসা ভ্যারনিন্ক বলেন, ‘‘আমরা ফোনে ব্যবহৃত দু'টি খনিজ পদার্থ শনাক্ত করতে পেরেছি৷ এগুলো হচ্ছে টিন এবং টানটালুম৷ এই দু'টি খনিজ পদার্থ সংগ্রহে আমরা কঙ্গোর একটি উদ্যোগের সঙ্গে জোট বেঁধেছি৷ এই প্রক্রিয়ায় সংঘাতমুক্ত এবং বৈধ খনি থেকে সেগুলো আমরা সংগ্রহ করি৷ তবে বাকি আটাশটি খনিজ পদার্থের উৎস আমরা এখনো খুঁজে পাইনি৷ এটা পুরো শিল্পের জন্য এক সমস্যা৷ এসব খনিজের উৎস খুঁজে পাওয়া অনেক জটিল ব্যাপার৷''

ফেয়ারফোন তাহলে পুরোপুরি ফেয়ার নয়! আমি তাই ফোন ছাড়াই বার্লিনে ফিরে এসেছি৷ নতুন ফোনের সন্ধানে আপাতত ইতি টানছি৷ বরং পুরনোটা মেরামত করার লক্ষ্যে গেলাম একটি দোকানে৷ দোকানদার আমাকে জানালেন৷ মুঠোফোনের ভাঙা স্ক্রিনটি বদলে নতুন একটি স্ক্রিন লাগানো সম্ভব৷ এ জন্য খরচ সত্তর ইউরো৷ যা তুলনামূলকভাবে সস্তা এবং পরিবেশবান্ধব৷

দু'দিন দৌড়াদৌড়ির পর ফোনটি শেষমেষ ঠিক করা গেলো৷ আশা করছি, এটা আরো কিছুদিন কাজ করবে৷ কেননা সত্যিকারের ‘ফেয়ার' মুঠোফোন কিনতে আমার আরো অপেক্ষা করতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়