1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ফেসবুক কি ক্রমশ জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে?

অল্প বয়সিদের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারের হার কম৷ তারা বরং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ সাইট ব্যবহার করছে৷ ফলে কারো কারো মনে প্রশ্ন জেগেছে, ফেসবুক কি তাহলে সত্যিকার অর্থেই বুড়ো হয়ে যাচ্ছে?

ফেসবুক বুড়ো হয়ে গেছে৷ অন্তত তরুণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের আচরণ নিয়ে গবেষণারতরা তাই মনে করছে৷ ২০১৩ সালে ফেসবুকে খানিকটা সমস্যায়ও দেখা দেয়৷ আর তাহচ্ছে, ৩৫ বছরের কম বয়সিরা ফেসবুক ছেড়ে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিকে ঝুঁকছে৷ বিষয়টি জানিয়েছে খোদ ফেসবুক কর্তৃপক্ষ৷ বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই সামাজিক যোগাযোগ সাইটের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ডেভিড এবের্সম্যান অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকদের এক সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন৷ শেয়ার বাজারেও ফেসবুক এখনো সুবিধা করতে পারেনি৷

তবে এটা এখনো ফেসবুকের জন্য কোনো সমস্যা নয়, বলেন নিলস ব্রুগেন৷ মিউনিখের জেএফএফ মিডিয়া রিসার্চ ইন্সটিটিউটের এই শিক্ষক বলেন, ‘‘দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলা সামাজিক যোগাযোগ ব্যবসায় ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম এত বড় হয়ে গেছে যে এটি এই মুহূর্তে কোনো ধরনের ঝুঁকিতে নেই৷''

Facebook Alternative Social Networks

৩৫ বছরের কম বয়সিরা ফেসবুক ছেড়ে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিকে ঝুঁকছে

জার্মান স্টুডেন্ট নেটওয়ার্ক ‘‘স্ট্যাডি-ভিজেড''-এর ক্ষেত্রে অবশ্য বিষয়টি সেরকম নয়৷ ফেসবুকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে ক্রমশ ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে নেটওয়ার্কটি৷ ইতোমধ্যে স্পেন, ফ্রান্স, ইটালি এবং পোল্যান্ড থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে ‘‘স্ট্যাডি-ভিজেড''৷ বার্লিনের ‘ইন্সটিটিউট ফর কমিউনিকেশন এন্ড সোশ্যাল মিডিয়ার' কার্স্টেন ভেন্সলাফ এই বিষয়ে বলেন, ‘‘স্টুডেন্ট নেটওয়ার্কটির সমস্যা হচ্ছে, একটি পর্যায়ে গিয়ে তারা আর নতুন কিছু দিতে পারেনি৷''

আগ্রহ ধরে রাখা

ফেসবুকের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন৷ ভেন্সলাফ বলেন, ‘‘আমরা বলতেই পারি ফেসবুক সেকেলে হয়ে গেছে৷ তবে এটা কোনো ইস্যু নয়৷'' প্রতিষ্ঠানটি নিত্য নতুন অ্যাপস এবং বিভিন্ন ফিচারের মাধ্যমে নিজেদের উপর ব্যবহারকারীদের আগ্রহ ধরে রাখতে পারছে, বলেন তিনি৷ তবে তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটু ভিন্ন মানসিকতার কথাও স্বীকার করেন ভেন্সলাফ৷ সেটি হচ্ছে, তরুণরা সবকিছু এক প্ল্যাটফর্মে করার চেয়ে কাজ ভেদে ভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে৷ তাই তারা ছবি শেয়ারের ক্ষেত্রে ইন্সটাগ্রাম এবং চ্যাটের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ বা স্ন্যাপচ্যাট বেছে নিচ্ছে৷

কিছু সামাজিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, তরুণদের এই আচরণ ফেসবুকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে৷ তবে ফেসবুক এক্ষেত্রে বেশ সক্রিয় রয়েছে৷ তাই সামাজিক যোগাযোগ সংক্রান্ত কোনো ‘‘আইডিয়া'' পছন্দ হলেই কিনে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি৷ এক্ষেত্রে ইন্সটাগ্রাম একটি উদাহরণ৷

Cryptoparty Köln älterer Teilnehmer

অল্পবয়সিরা মনে করে ফেসবুক আসলে অভিভাবকদের জায়গা

‘‘তরুণবান্ধব নয়''

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তারপরও ৩৫ বছরের কম বয়সিরা ফেসবুকের উপর থেকে আগ্রহ হারাচ্ছে কেন? গবেষকরা মনে করেন, ফেসবুকে আসলে প্রাপ্তবয়স্ক এবং অল্পবয়সিদের মধ্যে একটি পার্থক্য তৈরি করা প্রয়োজন৷ কেননা স্কুলগামীরা মনে করেন, ফেসবুকে বাবামা, শিক্ষক এমনকি ফুটবল কোচের থাকার বিষয়টি ‘‘আনকুল''৷ ফলে তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, ফেসবুক আসলে অভিভাবকদের জায়গা৷ ভেন্সলাফ এই বিষয়ে বলেন, ‘‘বাস্তব জীবনেও অল্পবয়সি ছেলে-মেয়েরা সেই সব বার পরিহার করে চলে, যেসবে তাদের বাবা-মায়েরা যান৷''

এই সামাজিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ফেসবুক ক্রমশ ‘‘তরুণবান্ধব নয়'' হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে৷ তাছাড়া আগে একটি সামাজিক মাধ্যম ছেড়ে অন্যটিতে যেতে জটিলতা হতো৷ কিন্তু এখন স্মার্টফোনের কল্যাণে সে সমস্যা আর থাকছে না৷ বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগও এখন সম্ভব হচ্ছে৷ তাই তরুণ প্রজন্ম চাইলেই সহজে নেটওয়ার্ক বদলাতে পারছে৷

তবে ফেসবুকের জন্য বিষয়টি এখনো বড় ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি৷ যে পরিমাণ ব্যবহারকারী তাদের ছেড়ে যাচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি নিয়মিত এই নেটওয়ার্কে যোগ দিচ্ছে৷ আর ৩৫ বছরের বেশি বয়সি বিশ্বস্ত ব্যবহারকারীও ফেসবুকের কম নয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়