1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ফেসবুকে লিখতে শেখাবে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য বিষয় হতে চলেছে ফেসবুক পোস্ট রাইটিং৷ সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর কমিটির বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ তবে, আপাতত ঐচ্ছিক বিষয় হবে ফেসবুক পোস্ট৷ পড়ানো হবে আধুনিক লেখক চেতন ভগতের বইও৷

ইদানিং সোশ্যাল সাইট নিয়ে ভারতে হইচই মোটেই কম হচ্ছে না৷ মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক চলছেই৷ এরই মধ্যে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলিতে স্নাতকস্তরে ইংরেজি সাহিত্যের পাঠ্যে পড়ানো হবে ‘‌ফেসবুকের দেওয়ালে পোস্ট লেখার পদ্ধতি’৷ ক’দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷

অডিও শুনুন 01:39

সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত: সোমশ্রী হোড়

এটি আপাতত ঐচ্ছিক পত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে৷ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করছে, ব্লগ লেখা এবং কভার লেটারের মতোই ফেসবুক পোস্ট লেখাতেও সাবলীলতা থাকা জরুরি৷ সেখানেও ভাষা ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে ব্যবহারকারীদের৷ সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা৷

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ছাত্রী সোমশ্রী হোড় বললেন, ‘‘‌সোশ্যাল সাইট এবং আমাদের সমাজের মধ্যে আজ আর খুব বেশি পার্থক্য নেই৷ নির্ভয়ে বহু মানুষ এখানে নিজেদের মত প্রকাশ করেন৷ যে কোনও ছাত্র, যিনি ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করছেন, তিনি নিজেকে প্রকাশ করতে চান৷ সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পাঠ্যসুচীতে ফেসবুক পোস্ট লেখা শেখানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ তবে, শুধু দিল্লি নয়, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও যদি তা করে তাহলে শিক্ষা ক্ষেত্রে নবজাগরণ হবে৷ এতে ভবিষ্যতে উপকৃত হবে ছাত্রছাত্রীরা৷’’

ইতিমধ্যেই প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ডিগ্রি কলেজে পাঠানো হয়েছে৷ সেখানকার অধ্যাপকদের মতামত নিয়েই প্রস্তাবটি কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ ‌১ মে’র মধ্যে কলেজগুলিকে ফিডব্যাক দিতে বলা হয়েছিল৷ কারণ, শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই প্রস্তাবটি কার্যকর করতে চাইছে তারা৷

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষের ছাত্র দ্বৈপায়ন মুখার্জির কথায়, ‘‘‌আজকের দিনে ফেসবুক এমনই একটা জরুরি বিষয় হয়ে উঠেছে যেখানে সারাক্ষণ বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে৷ মতামত বিনিময় হচ্ছে৷ সেদিক থেকে বিষয়টিকে অবহেলা না করে শিক্ষার অঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াও প্রয়োজন৷

অডিও শুনুন 02:26

'চেতন ভগতের বইকে পাঠ্যসূচিতে নিয়ে আসা সমর্থন করি না’

তবে, চেতন ভগতের বইকে পাঠ্যসূচীতে নিয়ে আসাকে সমর্থন করি না৷ কারণ, ইংরেজি সাহিত্য শেখার জন্য বহু গুনী সাহিত্যিক রয়েছেন৷ তাঁদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত৷’’

যুব প্রজন্মের কাছে প্রায় কিংবদন্তির পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছেন চেতন ভগত৷ ইঞ্জিনিয়ার থেকে ব্যাঙ্কার৷ অবশেষে সব ছেড়ে সাহিত্যের দুনিয়ায় প্রবেশ৷ ভাষার বাহুল্য নয়, সরল, অকপট ভাষায় একের পর এক উপন্যাসে তুলে ধরেছেন সাধারণ মানুষের কথা৷ পৌঁছে গিয়েছেন খ্যাতির শীর্ষে৷ এবার তাঁর মুকুটে জুড়ছে এক নতুন পালক৷ এবার থেকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকস্তরের ইংরেজি পাঠ্যক্রমে থাকবে তাঁর লেখা ‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’ নামের উপন্যাসটি৷ চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই চালু হবে নয়া পাঠ্যক্রম৷

জানা গেছে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকস্তরের দ্বিতীয় বর্ষের সিলেবাসে থাকছে ‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’৷ পাশাপাশি এই নতুন পাঠ্যক্রমে থাকছে জে কে রাউলিংয়ের ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোজফার্স স্টোন’৷ থাকছে আগাথা ক্রিস্টির ‘মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস’ এবং মার্কিন কবি ও লেখক লুইসা এম এলকটের উপন্যাস৷ নতুন সিলেবাসের খসড়া তৈরি হয়ে গিয়েছে৷ এবার অ্যাকাডেমিক ও একজিউটিভ কাউন্সিলের সন্মতি পেলেই চালু হবে এই পাঠ্যক্রম৷

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়