1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ফেলানী হত্যার রায়, ভারতে চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি

ভারতের আদালতে কয়েকদিনের মধ্যে বাংলাদেশের কিশোরী ফেলানী হত্যায় বিএসএফ-এর দেয়া রায়কে চ্যালেঞ্জ করা হবে৷ এ জন্য বাংলাদেশেও চলছে প্রস্তুতি৷ সেখানে এই আপিলের জন্য কাজ করছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র৷

২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে বাবার সঙ্গে সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে দেশে ফিরছিল কুড়িগ্রামের কিশোরী ফেলানী৷ তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল দেশে৷ কিন্তু দালালদের সাহায্যে কাঁটাতারের বেড়ার সঙ্গে মই লাগিয়ে ফেলানী যখন সীমানা পার হওয়ার চেষ্টা করছিল, সেই সময়ে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ তাঁর সার্ভিস রাইফেল থেকে গুলি চালান৷ নিহত ফেলানীর লাশ কাঁটাতারে ঝুলে থাকে দীর্ঘক্ষণ৷ পরে বিএসএফ নিজেই তার বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে৷ আইন অনুযায়ী, বিএসএফ তাদের নিজের আদালতেই বিচার করে ২০১৩ সালে অমিয়কে নির্দোষ বলে রায় দেয়৷ পরবর্তীতে বিএসএফ মহাপরিচালক সেই রায়ের পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন৷ আর গত বৃহস্পতিবার, সেই রায়ই বহাল রেখে অমিয়কে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ ও ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে৷

এই মামলার আইনজীবী বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম আদালতের পিপি আব্রাহাম লিংকন ডয়চে ভেলেকে বলেন,‘‘মামলার রিভিউ চলাকালে আমি এবং ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ভারতের বিএসএফ আদলাতে উপস্থিত ছিলাম৷ আমাদের তখনই সন্দেহ হয়েছিল৷ কারণ ২০১৩ সালে যে বিচারকরা বিএসএফ সদস্যকে নির্দোষ বলে রায় দিয়েছিলেন, তাঁরাই রিভিউয়ের বিচারক ছিলেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘রায়ে বিএসএফ-এর সদস্য যে ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করেছেন, তা প্রমাণিত৷ তবে আদালত মনে করছে যে, আত্মরক্ষার জন্য বিএসএফ সদস্য গুলি করতে বাধ্য হয়েছেন৷ কিন্তু একজন নিরস্ত্র কিশোরী কীভাবে একজন বিএসএফ সদস্যের জীবনের হুমকি হলো, সেই ব্যাখ্যা নেই রায়ে৷''

আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘‘এই রায় গ্রহণযোগ্য নয়৷ বিএসএফ হয়ত তাদের সদস্যদের মনোবল অটুট রাখতে এই রায় দিয়েছে৷ তারা ভারতীয় সংবিধানে জীবনরক্ষার অধিকারকে আমলে নেননি৷''

Bangladesch Dhaka Tod von Felani Khatun

ভারতের মানবাধিকার সংগঠনও ফেলানী হত্যার রায়কে চালেঞ্জ করতে উচ্চ আদালতে যাবে

ভারতের মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম)-এর প্রধান কিরীটি রায় এরইমধ্যে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, তারা ফেলানী হত্যার রায়কে চালেঞ্জ করতে উচ্চ আদালতে যাবেন৷ তিনি আরো বলেছেন, ‘‘আমাদের দেশের সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে বলেছে যে, কোথাও কোনো অন্যায়-অবিচার হলে যে কেউ প্রতিকার চাইতে আদালতে আসতে পারে৷ বিএসএফ-এর নিজস্ব আদালতের রায় ভারতের সংবিধান আর ন্যায়বিচারের পরিপন্থি৷''

মাসুম-এর পক্ষ থেকে এরইমধ্যে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে৷ আসক -র পরিচালক নূল খান ডয়চে ভেলেক জানান, ‘‘ফেলানী হত্যার ব্যাপারে যাতে তার পরিবার ন্যায়বিচার পায়, সেজন্য আমরা ভারতের মানবাধিকার সংগঠন মাসুম-এর সঙ্গে কাজ করছি৷ আমরা মামলার কাগজপত্র এবং ফেলানীর বাবার লিখিত সম্মতি ভারতের মানবাধিকার সংগঠনের কাছে পাঠিয়ে দেবো৷'' তিনি আরো জানান, ‘‘ফেলানীর বাবা এই মামলায় ভারতের উচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ে সম্মত হয়েছেন৷''

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি আমার সন্তান হত্যার ন্যায়বিচার পাইনি৷ তাই ন্যায়বিচার পেতে আমাকে যাঁরা সহযোগিতা করবেন, আমি তাঁদের সঙ্গে আছি৷ আমার সঙ্গে মানবাধিকার সংগঠন যোগাযোগ করেছে৷ আমি তাদের সম্মতি দিয়েছি৷ তারা দু-একদিনের মধ্যে লিখিতভাবে আমার সম্মতি নেবে৷''

তবে নূর খান বলেন, ‘‘এবার এই আইনি লড়াই চালাতে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারের মধ্যে সহযোগিতার ঐক্যমত হওয়া প্রয়োজন৷ অর্থাৎ ফেলানীর বাবাকে ভারত যেতে হবে৷ এ জন্য তাঁর ভিসাসহ আরো অনেক ‘ডকুমেন্ট'-এর প্রয়োজন পড়বে, মামলার কাগজ-পত্র লাগবে৷ তাই সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়