1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

ফুটবল যে অজেয়, অমর, তার প্রমাণ আফগানিস্তান

যে দেশে ৩০ বছর ধরে ফুটবল প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল, তারা আজ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে অংশ নেবার স্বপ্ন দেখছে – এবং সঙ্গত কারণেই৷ হ্যাঁ আফগানিস্তান, ২০১৩ সালে দক্ষিণ এশিয়া চ্যাম্পিয়ন হয় দেশটি৷

Fussball SAFF Cup Afghanistan gegen Indien

ফাইল ফটো

এশিয়ায় বিশ্বকাপ৷ সে বিশ্বকাপে এশিয়ার একটি দেশ – আফগানিস্তান – অংশগ্রহণ করবে, সেই ‘‘অসম্ভব স্বপ্ন''-ই দেখছেন আফগানিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলি রেজা আঘাজাদা: ‘‘আমাদের ক্ষমতায় না কুলোতে পারে৷ আমরা হয়ত তা ঘটাতে পারব না৷ কিন্তু আমরা যে সে'বিষয়ে আদৌ কথা বলতে পারছি, তা থেকেই প্রমাণিত হয়, আমরা অতি স্বল্প সময়ে কতটা পথ এসেছি৷ আমরা যদি বিশ্বকাপ ফাইনালে না-ও যেতে পারি, বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইং-এ অংশ নেওয়া, দেখা, আমাদের খেলার কিভাবে বিকাশ ঘটছে, আমাদের টেকনিক আরো ভালো হচ্ছে, সেটাই হবে আমাদের পক্ষে একটা বিরাট সাফল্য – বিশেষ করে আমাদের দেশে ফুটবলের প্রায় অকালমৃত্যু ঘটার পর৷''

ফুটবলের প্রত্যাবর্তন

বলতে কি, আফগানিস্তানে পাক্কা ৩০ বছর ধরে ফুটবল প্রায় উঠে গিয়েছিল৷ জাতীয় দল ১৯৮৪ থেকে ২০০২ সাল অবধি কোনো ম্যাচ খেলেনি৷ আজ কিন্তু রাষ্ট্র পর্যায়ে চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজিত হয় – তা-তে অংশ নেয় দেশের ৩৪টি প্রদেশের সব ক'টি থেকে আগত দল৷ মরশুমের শেষে রাজধানী কাবুলে অনুষ্ঠিত হয় আটটি দলের একটি টুর্নামেন্ট – সে টুর্নামেন্ট চলে ৪৫ দিন ধরে৷ গাজি এবং কাবুল স্টেডিয়াম দু'টি ভরে যায় দর্শকে৷

২০১১ সালের প্রথম সিজনে আমন্ত্রণকর্তা টেলিভিশন সংস্থা একটি এক্স-ফ্যাক্টর গোত্রীয় টিভি শো সৃষ্টি করে৷ কোন প্লেয়ার কোন দলে খেলবে, শো'র দর্শকরা ভোট দিয়ে তা নির্ধারণ করেন৷ ফরম্যাটটি খুবই জনপ্রিয় হয়৷ সে'বছরই আফগানিস্তান দক্ষিণ এশীয় ফুটবল ফেডারেশন কাপ টুর্নামেন্টে রানার-আপ হয় – এবং ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন! বিজয়ের পথে আফগানিস্তান ছ'বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারায় ২-০ গোল: নেপালের কাঠমান্ডুতে সেই বিজয়ের দৃশ্য আফগানিস্তানের মানুষ ভুলে যাননি, যেমন তারা ভোলেননি কাবুলের রাজপথে আনন্দের জোয়ার, যুদ্ধ সত্ত্বেও, তালেবান সত্ত্বেও৷

আফগানিস্তানের ফুটবল সমিতি কিন্তু তৈরি হয় ১৯২২ সালে; আফগানিস্তান ফিফা-তে যোগ দেয় ১৯৪৮ সালে৷ ৩০ বছর অনুপস্থিতির পর তাদের বিশ্ব ফুটবল পরিবারে প্রত্যাবর্তনের পিছনে সবচেয়ে বড় দান সম্ভবত প্রিমিয়ার লিগের৷ বিভিন্ন প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব আফগানিস্তানের কোচ ও প্লেয়ারদের প্রশিক্ষণের জন্য দুবাইতে কোচিং কোর্সের ব্যবস্থা করেছে৷ আজ আফগানিস্তান ফিফা তথা এশীয় ফুটবল বিকাশ নিধির অর্থানুকুল্য পাচ্ছে বটে – কিন্তু কাবুলের গাজি স্টেডিয়ামে তালেবানের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরি করার বিভীষিকা পুরোপুরি মিলিয়ে যেতে আরো কিছুটা সময় লাগবে৷

এসি/ডিজি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন