1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ফুটবল পরিবর্তন করছে কেনিয়ার মেয়েদের জীবন

ফুটবল পুরুষদের খেলা৷ দিন পাল্টেছে৷ মেয়েরাও মেতেছে ফুটবলে৷ কেনিয়ার কিলিফি অঞ্চলে মেয়েদের ফুটবল খেলায় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে৷ যা কিছু এতদিন পুরুষদের আয়ত্বে ছিল এখন মেয়েদের কাছেও তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে৷ ফুটবল এর মধ্যে একটা৷

ফুটবল মেয়ে কেনিয়া ‘মুভিং দ্যা গোলপোস্টস' এমটিজি জীবন পরিবর্তন football kenya women MTG moving the goalposts life change marriage teenage

ফুটবল খেলছে কেনিয়ার মেয়েরা

সামাজিক জীবনে মেয়েদের এগিয়ে আসার জন্য, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য কিলিফি অঞ্চলের মেয়েদের প্রেরণা দেওয়া হচ্ছে৷

টিনাওয়েজা – এর অর্থ হল আমরাও তা করতে পারি৷ কেনিয়ার একটি সংস্থা নাম ‘মুভিং দ্যা গোলপোস্টস' সংক্ষেপে এমটিজি৷ এই সংস্থাটিই কেনিয়ার কিলিফি অঞ্চলের মেয়েদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে৷ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো যাতে মেয়েরা নিজেরাই নিতে পারে তার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে৷

দুটি গোলপোস্ট, একটি ফুটবল আর খেলার জন্য খোলা জায়গা – এর বেশি কিছু প্রয়োজন নেই৷ কিলিফি অঞ্চলে প্রায় ৩ হাজার মেয়ে ফুটবল খেলে৷ কেনিয়াতে মেয়েরা ফুটবল খেলছে এই ব্যাপারটাই অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়৷ কারণ এতদিন ধরেই নেওয়া হয়েছিল যে, ফুটবল ছেলেদের খেলা৷

নিজ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া

মোম্বাসার উত্তরে সোকোকে শহরে ২২ জন মেয়ে ফুটবলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে৷ ধুলায় মাখা ফুটবলের মাঠ৷

Flash-Galerie MTG in Kenia

এখানে একটি ট্রেনিংক্যাম্প রয়েছে৷ এখানেই মেয়েদের ফুটবল খেলা শেখানো হচ্ছে৷ মার্গারেট জানান,‘‘ কিভাবে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় তা-ই মেয়েদের শেখানো হচ্ছে৷ প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিজেকে নিতে হবে, নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে তা সে যে ধরণের সিদ্ধান্তই হোক না কেন৷ সাধারণত দেখা যায়, একটি মেয়ের জীবনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নেয় বাবা, ভাই অথবা স্বামী৷ অনেক সময় দেখা গেছে ভাই ছোট হলেও সে বড় বোনের হয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে৷''

মার্গারেট বেলেওয়া ‘মুভিং দ্যা গোলপোস্ট্স' বা এমটিজি প্রকল্পের ম্যানেজার৷ ‘মুভিং দ্যা গোলপোস্ট্স' অর্থাৎ গোলপোস্ট সরিয়ে নেওয়া৷ এই প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে মেয়েদের আরো সক্রিয় করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ প্রতিটি মেয়ে যেন নিজের প্রতিটি বিষয়ে আরো সচেতন হয় তার দিকে নজর রাখা হচ্ছে৷ তবে তা করা হচ্ছে ফুটবল খেলার মধ্যে দিয়ে৷ বোঝানো হয়েছে এতদিন যা পুরুষরা করতো তা এখন মেয়েরাও করতে পারে৷ মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে কোন অংশে পিছিয়ে নেই বা থাকতে পারে না৷ যে সব বাধার সম্মুখীন এতদিন মেয়েরা হয়েছে সে সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে এখন৷

পরিবর্তন এসেছে লিডিয়ার জীবনে

লিডিয়া কাসিনা জানান, ফুটবল খেলার মধ্যে দিয়ে যে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে তা সত্যি সফল হচ্ছে৷ লিডিয়ার ভাষ্য, ‘‘আমি এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত হতে পেরে সত্যিই খুব আনন্দিত৷ যদি এই প্রকল্পটি চালু না হত তাহলে আমি হয়তো এখন, এই মুহূর্তে অন্য কোথাও থাকতাম৷ হয়তো এতদিনে আমার বিয়ে হয়ে যেত, বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে আমি ব্যস্ত হয়ে যেতাম৷ কিন্তু আমি পড়াশোনা করছি, নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ আমি আমার পরিবারের দেখাশোনা করতে পারবো৷ আমি নিজে একটি বাড়ি ভাড়া করে থাকি৷ আমি আমার বাবা-মাকে দেশে টাকা পাঠাই৷ আমি তাদের আর্থিকভাবে সাহায্য করতে সক্ষম৷''

লিডিয়া ‘মুভিং দ্যা গোলপোস্টস' প্রকল্পে কাজ করছেন৷ মেয়েদের স্বাস্থ্য রক্ষাসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামের বিষয়েও মেয়েদের সাহায্য এবং সহযোগিতা করে থাকেন লিডিয়া৷ প্রতিটি পদক্ষেপেই লিডিয়ার শরণাপন্ন হয়

Flash-Galerie MTG in Kenia

লিডিয়া কাসিনা’র জীবনে পরিবর্তন এনেছে ফুটবল

মেয়েরা৷ লিডিয়া আরো বললেন, ‘‘অনেক মেয়ে আছে যারা স্কুলে যাচ্ছে অথচ সেই সময়েই তারা গর্ভবতী হয়ে পড়ছে৷ যেসব মেয়ের বয়স ১৪ থেকে ২৫ তাদের মধ্যে এইচআইভি রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে৷ ছেলেদেরও একই অবস্থা৷''

এগিয়ে যাচ্ছে এমটিজি

এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্যই ‘মুভিং দ্যা গোলপোস্টস' হাতে নিয়েছে এই বিশেষ প্রকল্পটি৷ সব ধরণের সমস্যা নিয়ে এখানে কথা বলা হয়, মেয়েদের সতর্ক করা হয়৷ যে কোন ধরণের সমস্যার প্রতিকার কী হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করা হয় ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে৷ অনেক মেয়ের গ্রাম পর্যন্ত এমটিজি-র কর্মীরা গিয়েছে৷ ফুটবলে অংশগ্রহণ ছাড়াও মেয়েদের অনেক বিষয় নিয়ে তারা কথা বলেছে৷

সমস্যা সম্পর্কে লিডিয়া জানালেন, ‘‘অনেক সময় মেয়েরা অনেক বিষয়ই ভুল বোঝে৷ সঠিক ধারণা বেশিরভাগ মেয়েরই থাকেনা৷ সেসব নিয়ে আমরা আলোচনা করি৷ ভ্রান্ত ধারণা থেকে মেয়েদের বের করে আনি৷ সঠিক এবং নির্ভুল তথ্য দেই আমরা৷ তবে আমরা কখনোই বলি না যে বন্ধু থাকা উচিত না বা বন্ধুর সঙ্গে মেলামেশা করা উচিত না৷ তবে পড়াশোনা, নিয়মিত স্কুলে যাওয়াকেই আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি৷ এসব মেলামেশার কারণে কোন মেয়ে যেন গর্ভবতী হয়ে না পড়ে সেজন্য আমরা কনডম ব্যবহারের ওপর জোর দেই৷''

স্কুল ছাত্রী সারা কিটসাও৷ ১৭ বছরের এই মেয়েটি ফুটবল খেলায় বেশ পারদর্শী হয়ে উঠেছে৷ ফুটবল নিয়ে সে বাতাসের বেগে এগিয়ে যায় মাঠে৷ সারা জানে এ জন্য সে এমটিজি-র কাছে কৃতজ্ঞ৷ নয়তো এ সুযোগ সে কখনোই পেত না৷ সারার কৃতজ্ঞতা ভরা সুর,‘‘আমাকে পড়াশোনায় সাহায্য করছে এমটিজি৷ আমার বাবা-মা যখন স্কুলের বেতন দিতে পারেনি তখন এই সংস্থাটি এগিয়ে এসেছে৷ এই কারণেই আমি এখনো আমার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছি৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়