ফুটবলে স্পেনের স্বর্ণযুগ কি শেষ হতে চলেছে? | খেলাধুলা | DW | 07.06.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

ফুটবলে স্পেনের স্বর্ণযুগ কি শেষ হতে চলেছে?

গত বছর কনফেডারেশনস কাপের ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরেই যে ‘লা রখা’ বা লাল জার্সিধারীদের বিদায়, এটা ভাবলে ভুল করা হবে৷ সাবি আলন্সো এবার ইনজুরিতে নন, অন্যদিকে কোকে বা হুয়ান মাতার মতো তরুণরা বেঞ্চে৷

ছ'বছর আগে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ; তার দু'বছর পরে বিশ্বকাপ; তার দু'বছর পরে আবার ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ৷ এ হচ্ছে সেই দলের কথা, যারা নিজেদের পায়ে বল রেখে মাঠে যা ইচ্ছে, তাই করে – অথবা করতো৷ কনফেড কাপের ফাইনালে সাবি আলন্সো ছিলেন না বলে মিডফিল্ডে সাবি-বুস্কেটস জুড়িও ছিল না৷ ব্রাজিল তাদের খেলার ইন্টেন্সিটি বা তীব্রতা দিয়েই যেন স্পেনের এতদিনের ‘মিথ' বা কিংবদন্তিকে ভেঙে-চুরে, টেনে-হিঁচড়ে চুরমার করে দেয়৷

এর ছ'বছর আগে কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কে স্পেনের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন৷ সে যাবৎ স্পেন মাত্র তিনটি খেলায় হেরেছে, তার মধ্যে একটি ছিল রিও ডি জানেরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে কনফেড কাপের ফাইনাল৷ ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালও অনুষ্ঠিত হবে সেই মারাকানায় – কে জানে, হয়ত সেই ব্রাজিল আর স্পেনের মধ্যেই৷

স্পেন যখন ২০০৮ সালে ইউরোপীয় খেতাব জেতে, তখন তাদের কোচ ছিলেন লুইস আরোগোনেস৷ তারপর দেল বস্কেকে বিশেষ কোনো রদবদল করতে হয়নি – যে দলের গোলে ইকার কাসিয়াস, মিডফিল্ডে সাবি-বুস্কেটস এবং সেই বুনিয়াদের উপর ভিত্তি করে সামনে সাবি, ইনিয়েস্তা, ফাব্রেগাস-এর জাদু, সে দলে বিশেষ রদবদল করার কোনো প্রয়োজন পড়ে না৷

বলতে কি, এই মাত্র সেদিন দেল বস্কে স্পেনের যাকে বলে কিনা প্রমিসিং ইয়ংস্টার, অর্থাৎ তরুণ প্রতিভাদের আরো বেশি করে মাঠে নামাতে শুরু করেছেন৷ কাজেই ব্রাজিলে খুব বেশি এক্সপেরিমেন্ট না করলেও, তিনি প্রয়োজনে সৃজনীশীল মিডফিল্ডার কোকে কিংবা ফরোয়ার্ড হুয়ান মাতাকে বিকল্প হিসেবে নামাতে পারবেন৷

তবে দেল বস্কে গোটা ব্রাজিলকে ইতিমধ্যেই চটিয়ে রেখেছেন, গতবছর দিয়েগো কস্তাকে স্কোয়াডে ঢুকিয়ে: দিয়েগো আবার আদতে ব্রাজিলেরই লোক কিনা! গত মার্চে ইটালির বিরুদ্ধে একটি ফ্রেন্ডলি-তে ব্রাজিল জেতে ১-০ গোলে – সেই খেলা থেকেই বোঝা গিয়েছিল, দিয়েগো লা রখা-র মাঝেমধ্যে কিছুটা ভোঁতা আক্রমণকে নতুন ধার দেবার, মানে আরো ধারালো করার ক্ষমতা রাখেন৷ ২৫ বছর বয়সি দিয়েগো এ মরশুমে অ্যাটলেটিকোর হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে যা করেছেন, সেটাও স্পেনের প্রতিপক্ষদের নজর এড়ায়নি নিশ্চয়৷

তবে দিয়েগো কস্তাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস কিংবা আদিখ্যেতা করার অর্থ এই নয় যে, স্পেনের বাকি স্কোয়াড সম্পর্কে পরোক্ষভাবে দ্বিধা প্রকাশ করা৷ সাভি, ইনিয়েস্তা, ফাব্রেগাস, ডেভিড সিলভা – এঁরা হলেন পাস দেওয়ায় বিশ্ব সেরা৷ দিয়েগো কস্তার কাজ হবে তাঁর নিজস্ব পদ্ধতিতে সেই পাস যেখানে পৌঁছবে, সে স্থানটি লক্ষ্য করে দৌড় দেওয়া৷ ক্লাব পর্যায়ে এই খেল বারংবার দেখিয়েছেন তিনি৷

Fußball WM Finale Spanien Niederlande Weltmeisterschaft Siegerehrung

২০১০ সালে বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দল

দেল বস্কে এর আগেও প্রথাগত সেন্টার ফরোয়ার্ড না রেখে যাকে বলা হয় ‘‘ফল্স নাইন'' বা ‘ভুয়ো নয় নম্বর (জার্সি)', তার আশ্রয় নিয়েছেন, যেমন ফাব্রেগাস৷ মিডফিল্ডে থাকছেন আলন্সো, বুস্কেটস, সাবি এবং ইনিয়েস্তার চতুষ্টয়৷ ব্যাকে সের্জিও রামোস ও জেরার পিকের পার্টনারশিপ, বাঁ দিকে জর্দি আলবা৷ আলভারো আর্বেলোয়া মনোনীত না হওয়ার ফলে রাইট ব্যাক পজিশনে সেজার আজপিলিচুয়েতার থাকার কথা৷ গোলে অবশ্যই ক্যাপ্টেন ইকার কাসিয়াস৷

এ দলের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা জিরো, এ কথা বলার মতো বুকের পাটা ক'জন পাড়ার মস্তানের আছে, বলতে পারেন?

এসি/ডিজি (রয়টার্স, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন