1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ফুটবলে জার্মানি আজ একটি পরাশক্তি

সেটা শুধু বিশ্বকাপ জেতার কারণেই নয়৷ জাতীয় দল হিসেবে জার্মানি ব্রাজিলে জয়লাভ করে, কিন্তু এ সপ্তাহে আমরা চ্যাম্পিয়নস লিগে যা দেখেছি, তাতে মনে হতে পারে: জার্মান ক্লাব ফুটবলই বা কম যায় কীসে?

বুধবার বোরুসিয়া ডর্টমুন্ড গালাতাসারাই ইস্তানবুল-কে হারায় ৪-০ গোলে – সেটা ইস্তানবুলেই৷ সেদিনই বায়ার লেভারকুজেন জেনিট সেন্ট পিটার্সবুর্গ-কে হারায় ২-০ গোল৷ তার আগের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার বায়ার্ন মিউনিখ রোমে গিয়ে এসি রোমা-কে পর্যুদস্ত করে আসে ৭-১ গোলে! সেদিনের অপর খেলাটিতে শালকে হারায় স্পোর্টিং লিসাবন-কে ৪-৩ গোলে৷

জার্মানির চারটি ক্লাবই নক-আউট স্টেজের দিকে এগোচ্ছে দুর্ধর্ষ গতিতে – তা স্বদেশে বুন্ডেসলিগায় তাদের স্থান, দশা – কিংবা দুর্দশা! – ই হোক না কেন৷ ডর্টমুন্ডের কথাই ধরা যাক: যাদের তিনটি খেলা থেকে নয় পয়েন্ট; সব মিলে গোল দিয়েছে ন'টি, কোনো গোল না খেয়ে –বলতে কি, চ্যাম্পিয়নস লিগে এর চাইতে ভালো সূচনা ডর্টমুন্ডের ভাগ্যে এর আগে কখনো ঘটেনি৷ সেই ডর্টমুন্ডই কিন্তু বুন্ডেসলিগায় আটটি খেলা থেকে সাত পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্টের তালিকায় চতুর্দশ স্থানে: কেননা আটটি খেলার মধ্যে পাঁচটিতে হেরেছে ডর্টমুন্ড৷

এটা কেন হয়? এটা কী বে হয়? কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ- সেটা বুঝে উঠতে পেরেছেন কিনা সন্দেহ৷ তাঁর ইনজুরির লম্বা লিস্টি সত্ত্বেও ডর্টমুন্ড যেভাবে, যে ধরনের ভুল করে একটির পর একটি খেলায় বিপক্ষকে গোল করার সুযোগ দিয়েছে, তাতে মনস্তত্ত্ব কেঁচে গণ্ডূষ করে বলতে হয়: খেলায় হারজিত সব কিছুর মূল মনে৷ বায়ার্নের মতো ডর্টমুন্ডের অতোগুলো খেলোয়াড় এখনও বিশ্বকাপ জেতার ক্লান্তিতে ভুগছেন, এমন তো নয়৷ তাহলে ধরে নিতে হয়: ডর্টমুন্ডের মহারথীরা বুন্ডেসলিগার ‘গাঁয়ের স্টেজের' চেয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ‘শহরের স্টেজে' নামতেই বেশি পছন্দ করেন৷ আর বিশ্বকাপ তো হল একেবারে ঢাকা-কলকাতার স্টেডিয়াম, বিরাট মঞ্চ, লোকে লোকারণ্য...

আরেকটা ব্যাখ্যা হতে পারে: বুন্ডেসলিগার মান এখন এতোই ওপরে যে, বুন্ডেসলিগার ক্লাবগুলোর কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগের খেলাই মফস্বলে খেপ খেলতে যাবার মতো হয়ে উঠেছে৷ অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে লিগ ফুটবলের মান আর ইউরোপীয় পর্যায়ে ক্লাব ফুটবলের মান, এ দুটির একটি আপেক্ষিক তুলনা পাওয়া যাচ্ছে স্বদেশের লিগে ও চ্যাম্পিয়নস লিগে ক্লাবগুলির পার্ফর্মেন্স দেখে৷ অবশ্য বায়ার্ন মিউনিখ, রেয়াল মাদ্রিদ কিংবা বার্সেলোনা-র মতো টপ ফ্লাইট ক্লাবগুলোর ক্ষেত্রে এই স্বদেশ-বিদেশের মান ও গুণগত পার্থক্যের হিসেব খাটে না – সে জন্যই তারা সম্ভবত বিশ্বায়িত বিশ্বে একটা সর্বজনবন্দিত বিশ্বজনীন পর্যায়ে উঠে গেছে৷ বায়ার্ন যেমন বুন্ডেসলিগায়, তেমনি চ্যাম্পিয়নস লিগে একবার গোল করতে শুরু করলে থামে না...

DW Bengali Arun Sankar Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

ভাবুন একবার: যে ক্লাবের প্লেয়ার আর কর্মকর্তারা রোমে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ স্টেজে খেলতে গিয়ে – এবং রোমা'কে ৭-১ গোলে হারিয়ে – সেই ফাঁকে রোমের বিশপ পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গেও দেখা করে আসে, তারা যে এই মর্ত্যলোকে, ধুলোমাটিকাদার পৃথিবীতে আদৌ ফুটবল খেলছে, সে জন্যই তো আমাদের ধন্য বোধ করা উচিত৷ অন্যভাবে বলতে গেলে: ফুটবল ইজ বিগ বিজনেস এবং একটা ভালো ক্লাব ভালোভাবে চালানোর সঙ্গে সফলভাবে বিগ বিজনেস চালানোর অনেক মিল আছে...

যেমন ‘হেড হান্টিং'-এর কথাই ধরা যাক৷ মানে, অন্য ক্লাবের ভালো প্লেয়ার ভাঙিয়ে আনা৷ মারিও গ্যোৎসে আর রবার্ট লেভান্ডোভস্কি ডর্টমুন্ড ছেড়ে বায়ার্নে না এলে কি আজ বায়ার্নের এতো ছছল-বছল হতো? এবার শোনা যাচ্ছে নাকি মার্কো রয়েস-এর ওপরেও চোখ পড়েছে বায়ার্নের, যার অর্থ, রয়েস এ মরসুমের শেষে তাঁর চুক্তির সংশ্লিষ্ট শর্তটি সক্রিয় করলে ডর্টমুন্ডের রয়েস-কেও হারাতে হতে পারে৷ আমার বিশ্ববাসী তাতে আপত্তি করব না এই কারণে যে, রবেন-রিবেরি-ম্যুলার-গ্যোৎসে-লেভান্ডোভস্কি-র অ্যাটাকিং লাইনের খেলা দেখার মধ্যে মহাকাব্যের যুদ্ধ দেখার একটা স্বাদ ও তৃপ্তি আছে৷

ঠিক সেই মহাকাব্যটির নাম হল ফুটবল৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়