1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

ফুটবলের অলরাউন্ডার: মানুয়েল নয়ার

ক্রিকেটে উইকেটকিপার হয়ে ভালো ব্যাট করা যায়, কিন্তু বল করা যায় কি? সোমবার পোর্তো আলেগ্রে-তে জার্মানির গোলকিপার মানুয়েল নয়ার দেখালেন, গোলে থেকেও কিভাবে ‘স্টপার' হওয়া যায়৷

ধরা যাক পোড়ো-ঝোড়ো মাঠঘাট৷ সেখানে উত্তেজনামূলক কিংবা কৌতূহল উদ্দীপক কিছু ঘটবার আশা কিংবা সম্ভাবনা নিতান্ত কম৷ সেই মলিন প্রান্তরে যদি হঠাৎ চারদিক আলোকিত করে কোনো দেবদূত আবির্ভূত হন, তাহলে যেমন হাঁটু গেড়ে বলতে ইচ্ছে করে: এতদিন পরে এলে, প্রভু? আলজেরিয়ার সঙ্গে জার্মান দলের ৯০ মিনিট প্লাস আধঘণ্টার ধস্তাধস্তি দেখার পর মানুষজন যখন সবে ধুত্তোর বলে টিভি বন্ধ করতে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই তাঁদের মুখে হাসি ফুটলো: অন্তত মানু নয়ারকে তো দেখা গেছে, যাকে বলে কিনা ‘ইন অ্যাকশন'৷

ডিফেন্সে চার-চারটে একেবারে খেজো ব্যাক রেখেছিলেন কোচ ইওয়াখিম ল্যোভ, যা-তে ছুঁচ কিংবা ছুঁচো পর্যন্ত গলতে না পারে৷ তা সত্ত্বেও দেখা গেল, জার্মান ডিফেন্সের মধ্যমণিটি সবার পিছনে: সেখান থেকেই ১৯ বার পেনাল্টি এরিয়ার বাইরে এসে ফুলব্যাকের কাজ করেছেন এই গোলরক্ষক, যাকে আজ বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক বলতে শুধু আমার কেন, বিশ্বের আরো অনেক বোদ্ধার কোনো দ্বিধা নেই৷

‘স্রেফ হারাকিরি'

গোলকিপার মাত্রেই প্রয়োজনে কুমির-ডাঙা খেলে থাকেন, মানে বুঁদির গড় ছেড়ে বাইরে এসে এটা-সেটা ক্লিয়ার করে থাকেন৷ এবং প্রতিবারেই সেটা একটা ঝুঁকি: মিস করলে সময় মতো আবার গোলে ফিরতে না পারার সম্ভাবনা; বিপক্ষের প্লেয়ারকে হিট করলে লাল কার্ড দেখার সম্ভাবনা; সবচেয়ে বড় কথা, নিজের চোট পাবার সম্ভাবনা৷ সাধে কি জার্মানি তথা বিশ্বের আরেক সেরা গোলরক্ষক অলিভার কান – যিনি এই বিশ্বকাপে জার্মান টেলিভিশনের হয়ে রিও ডি জানেরোর হোটেলের ছাদে দাঁড়িয়ে এক্সপার্ট কমেন্ট দিচ্ছেন – সেই অলিভার কান গতকাল মানুয়েল নয়ারের ‘অ্যাডভেঞ্চার'-কে বলেছেন স্রেফ হারাকিরি৷

তা-তে আবার জার্মান দলের বিটিটি, অর্থাৎ ফেডারাল গোলরক্ষক ট্রেনার আন্ড্রেয়াস ক্যোপকে তাবৎ প্রতিবাদ জানিয়েছেন: নয়ারের ঐ ‘‘ঝুঁকি নেওয়াটা আদৌ অপ্রয়োজনীয় নয়'', বলেছেন ক্যোপকে৷ বরং দেখা গেছে যে, মানুয়েল নয়ার খেলে মজা পাচ্ছেন এবং বেঞ্চে বসা কোচ ও কর্মকর্তারা নয়ারের কাণ্ডকারখানা দেখে বিন্দুমাত্র নার্ভাস হয়ে পড়েননি৷ ‘মানু' যেভাবে পরিস্থিতি আন্দাজ করতে পারেন, তা ‘ইউনিক' এবং ‘ফ্যান্ট্যাস্টিক', বলেছেন ক্যোপকে৷ দরকার হলে নয়ার ‘স্টপার' হিসেবে খেলতে পারেন, বলেছেন জাতীয় দলের আরেক সাবেক খেলোয়াড় ক্রিস্টফ মেটসেল্ডার৷

‘আমি জানি, আমি কি করতে পারি'

এবার শোনা যাক জার্মান দলের কোচ ইওয়াখিম ল্যোভ কী বলেছেন বায়ার্ন মিউনিখের ২৮ বছর বয়সি গোলরক্ষকটির সম্বন্ধে: ‘‘ও দারুণ খেলেছে৷ ও একজন স্টপারের মতো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং আমাদের একাধিক সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়েছে৷'' সেই সঙ্গে নয়ারের নিজের মন্তব্য যোগ করলে আলো ভালো লাগবে: নয়ার কিন্তু হাজার প্রশংসাতেও ‘কুল', মানে যাকে ইংরিজিতে বলে কিনা ঠান্ডা৷ এভাবে খেলার অর্থ বারংবার একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া, ‘‘কিন্তু একবার সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেলে আমি পুরোপুরি একশো ভাগ সেই কাজটা করি৷''

আর চোট পাবার আশঙ্কা? ‘‘ভয় পেলে আমি গোললাইনেই দাঁড়িয়ে থাকতাম৷ আমি চেষ্টা করি, ইনজুরির কথা না ভাবতে,'' বলেন নয়ার৷ ‘‘আমি জানি, আমি কি করতে পারি৷ এটাই আমার খেলা'' – আর ঠিক সেইজন্যেই নয়ার ‘বিশ্বখ্যাত', বলেছেন দলীয় সতীর্থ এবং ফুলব্যাক পের মের্টেসাকার৷

আর বিশ্বখ্যাত যদি এ যাবৎ না-ও হয়ে থাকেন, তবে এবার মানুয়েল নয়ারের বিশ্বখ্যাত হওয়া রোখে কে? গোল থেকে ৩০ মিটার দূরে গোলকিপারকে লাফ-ঝাঁপ করতে দেখা আর বাগেরহাটে বাঘ দেখতে পাওয়ার মধ্যে কোনো তফাৎ আছে কি?

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী (রয়টার্স, এসআইডি)

দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়