1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

ফুকুশিমা বনাম চেরনোবিল

দু’টি পারমাণবিক দুর্ঘটনা৷ দু’টিই এখন আন্তর্জাতিক আইএইএর মানদণ্ডে সাত মাত্রার আণবিক বিপর্যয়৷ কিন্তু দু’টির মধ্যে অনেক তফাৎ৷

default

দুর্ঘটনার পর ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র

এক) ১৯৮৬ এবং ২০১১৷ উক্রেইনের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে রিয়্যাক্টরগুলি সাধারণভাবে চলার সময় একটি রিয়্যাক্টর বিস্ফোরিত হয়৷ অগ্নিগোলকের মতো সেই বিস্ফোরণ আকাশে উঠে তেজস্ক্রিয়তা বহুদূর অবধি ছড়িয়ে দেয়৷ অপরদিকে গত ১১ই মার্চ জাপানের পূর্ব উপকূলে ভূমিকম্প এবং সুনামির পর ফুকুশিমার রিয়্যাক্টরগুলি স্বয়ংক্রিয় ভাবে বন্ধ হয়ে যায়৷

দুই) চেরনোবিলে মাত্র একটি রিয়্যাক্টরে দুর্ঘটনা ঘটে৷ ফুকুশিমায় তিনটি রিয়্যাক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ সুনামিতে রিয়্যাক্টরগুলির ভিতরের পারমাণবিক জ্বালানির রডগুলি ঠান্ডা রাখার প্রণালী খারাপ হয়ে যাওয়ার ফলে তথাকথিত নিউক্লিয়ার মেল্টডাউনের বিপদ দেখা দিয়েছে৷ অপরদিকে চেরনোবিলে ফুকুশিমার মতো কোনো অভ্যন্তরীণ আধার বা পাত্র ছিল না৷

তিন) সেটা প্রায় এক প্রজন্ম আগে বলেই হোক বা আমলটা সোভিয়েত আমল ছিল বলেই হোক, চেরনোবিলের দুর্ঘটনা সামাল দিতে হাজার হাজার কর্মী পাঠানো হয়৷ তাদের কাজ ছিল গোটা রিয়্যাক্টরটাকে একটি কংক্রিটের আস্তরণ দিয়ে মুড়ে দেওয়া৷ ফুকুশিমায় অনেক কম কর্মী এবং প্রযুক্তিবিদ কাজ করছেন৷ তাদের কাজ হল পারমাণবিক জ্বালানিকে ঠান্ডা রাখা, নানা ধরণের ফাটল ও ছিদ্র সারানো এবং প্রয়োজনে তেজস্ক্রিয় জল সাগরে ফেলা৷

Flash-Galerie Deutschland 60 Jahre Kapitel 4 1979 – 1989 Atomkatastrophe in Tschernobyl

বিস্ফোরণের পর চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র

চার) চেরনোবিলে ১৩৪ জন সোভিয়েত কর্মী অতিমাত্রার তেজস্ক্রিয়তা থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন, এমনকি তাদের মধ্যে ২৮ জন প্রাণ হারান বলে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের ধারণা৷ জাপানে এযাবৎ তিনজন কর্মীর তেজস্ক্রিয় জলে পা ডুবিয়ে কাজ করতে গিয়ে পা পুড়ে গেছে৷

পাঁচ) ফুকুশিমা থেকে এযাবৎ যে পরিমাণ তেজস্ক্রিয়তা বেরিয়েছে তার অনুপাত চেরনোবিলের দশ ভাগের এক ভাগ৷ তবে তেজস্ক্রিয়তা বিকিরণের ক্ষেত্রে ফুকুশিমা শেষমেষ চেরনোবিলকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পরিচালক সংস্থা টেপকোর ধারণা৷

ছয়) চেরনোবিলে আরো একটি সমস্যা ছিল রিয়্যাক্টরের ভিতরের গ্রাফাইটে অগ্নিকাণ্ড৷ এর ফলে তেজস্ক্রিয় কণাগুলি যেন সুউচ্চ চিমনি থেকে নির্গত হয়ে আকাশে উঠে হাজার হাজার কিলোমিটার দূর অবধি ছড়িয়ে পড়ে৷ ফুকুশিমায় গ্রাফাইটের বদলে জল ব্যবহার করে রিয়্যাক্টরের অভ্যন্তরে তথাকথিত চেইন রিয়্যাকশন নিয়ন্ত্রণ করা হয়৷ ফুকুশিমাতেও চূড়ান্ত পরিস্থিতিতে একটি ‘তেজস্ক্রিয় মেঘ' মাটি ছেড়ে ৫০০ মিটার উপরে উঠতে পারে৷ তবে সেই ‘মেঘ' আণবিক চুল্লিগুলির ৩০ কিলোমিটারের মধ্যেই মাটিতে নেমে আসবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা৷ জাপানের সমস্যা হবে প্রশান্ত মহাসাগরের তেজস্ক্রিয় দূষণ৷

প্রতিবেদন: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সম্পাদনা: সাগর সরওয়ার

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়