1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

ফিস্টেল রোগে আক্রান্ত আফ্রিকায় মায়েরা

আফ্রিকা মহাদেশে অনভিজ্ঞ চিকিৎসক বা ধাত্রীর হাতে সন্তান হতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ মহিলা শারিরীকভাবে নানা ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হন৷ দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা তারা জানতেও পারেন না৷

default

কে সুস্থ ?

রোগের নাম ফিস্টেল৷ অর্থাৎ মল বা মূত্র নিয়ন্ত্রণে রাখতে অসমর্থ হওয়া৷

সারাহ ওমেগা কিদানগাসির বয়স ৩৩৷ মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি শিকার হন ধর্ষণের এবং এর ফলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি৷ সন্তান জন্মদানের সময় দেখা দেয় হাজারো সমস্যা৷ বাচ্চার মাথা ছিল শরীরের তুলনায় বেশ বড়৷ প্রথমে বাড়িতে বাচ্চা প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়৷ অনেকক্ষণ ধরে চলে টানা-হেঁচড়া৷ পরে বাধ্য হয়ে ক্লিনিকে নেওয়া হয় সারা ওমেগাকে৷ ততক্ষণে বাচ্চাটি মারা যায় এবং সিজারিয়ান করে বাচ্চাটি বের করা হয়৷ যন্ত্রণার শেষ কিন্তু এখনো হয়নি৷ অপারেশনের তিনদিন পর সারাহ লক্ষ্য করেন যে তাঁর যোনিপথ ছিঁড়ে গেছে৷ যোনি পথ এবং পায়ুপথ এক হয়ে গেছে৷ এর মূল কারণ ছিল বাচ্চার মাথার অস্বাভাবিক মাপ৷

Junge Mutter in Sierra Leone

অল্প বয়সে বাচ্চা হলে সমস্যা বাড়তেই থাকে

সারা বিশ্বে প্রায় দু'লক্ষ মহিলা এই সমস্যায় ভুগছেন৷ তবে লজ্জায় অনেকেই এই রোগের কথা স্বীকার করতে চান না বা পারেন না তাই সঠিক হিসাব পাওয়া কঠিন৷ অনেক অনুন্নত বা স্বল্পোন্নত দেশে মায়েদের এই সমস্যাকে কোন সমস্যা বলে ধরে নেওয়া হয় না যার ফলে সঠিক কোন পরিসংখ্যানও সে দেশগুলো থেকে পাওয়া যায় না৷ সাহায্যও করা সম্ভব হয় না ভুক্তভোগীদের৷ সারাহ ওমেগা তাদের মধ্যেই একজন৷

সারাহ জানালেন, ‘‘যখনই কোন পুরুষ আমার সঙ্গে কোন ধরণের সখ্যতা বা বন্ধুত্ব করতে আগ্রহ দেখায় প্রথমে আমি খুব উৎসাহিত হই৷ আশার আলো দেখি৷ কিন্তু যত দিন যায় ততই আমার চোখে পড়ে অনীহা, অবহেলা এবং অযত্ন৷ তখন সময় কাটে একা৷ তখনই আমার সব সময় মনে হয় আমি যদি মরে যেতে পারতাম৷''

Bilder aus dem Township Katatura Namibia Windhuk

একটি সুস্থ মা-ই পারেন একটি সুস্থ জাতি উপহার দিতে

গত ১২ বছরে অনেক চেষ্টা করেও সারাহ কোন কাজ খুঁজে পাননি৷ এই দীর্ঘ সময়ে তিনি ছিলেন একটি মানসিক ক্লিনিকের রোগী৷

সারাহ একা নন

যে সমস্যায় সারাহ ভুগছে এ ধরণের সমস্যা মূলত সেসব মেয়েরই হয় যারা খুব অল্প বয়সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে৷ অবস্থা আরো করুণ হয় যদি অনভিজ্ঞ চিকিৎসক বা ধাত্রীর হাতে তারা পড়ে যায়৷ উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে নাইজারে মাত্র ২৬ শতাংশ মহিলা সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যায়৷ পরিসংখ্যান অনুযায়ী এক লক্ষ প্রসূতি মায়ের মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয়শ' মহিলাই মৃত্যুবরণ করেন৷ এর সঙ্গে যদি ফ্রান্সের তুলনা করা হয় তাহলে দেখা যাবে সেখানে মারা যাচ্ছে মাত্র দশ জন মহিলা৷ প্রসবকালে মারা যাওয়া ছাড়াও রয়েছে প্রসবকালীন নানা সমস্যা, যার সংখ্যাও কম নয়৷ ২০০৩ সালে

Illustration Kinder und Müttersterblichkeit

এদের সুস্থ রাখার দায়িত্ব শুধু কি সরকারের?

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় প্রসবকালীন জটিলতা এড়াতে তৈরি করেছেন বেশ কিছু নেটওয়ার্ক৷ মূল লক্ষ্য হল দেশি-বিদেশি সব ধরণের সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য এবং পরামর্শ যোগাড় করা, একসঙ্গে বসে আলোচনা করা, সচেতনতা দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে দেওয়া৷ এর মধ্যে একটি হল যে সব মেয়ে ইতিমধ্যেই এই সমস্যায় ভুগছে পুনরায় তাদের সমাজে ফিরিয়ে আনা, স্বাভাবিক জীবন যাপনে সহায়তা করা৷

এরপর কোন্ ধরণের পরিবর্তন এসেছে নাইজারে ? সে বিষয়ে জানালেন মারিয়ামা মুসা৷ তিনি ধাত্রী হিসেবে কাজ করছেন দীর্ঘদিন৷ তিনি নিজেও এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত৷

মুসা জানান, ‘‘ আমরা প্রায় তিন হাজার মহিলাকে সনাক্ত করেছি যারা এ ধরণের সমস্যায় ভুগছে৷ এর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার মহিলার ওপর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, সার্জারি করেছেন ২১ জন বিশেষজ্ঞ৷ এর মধ্যে ১৪ জন বিশেষজ্ঞ সারা দেশে ঘুরে ঘুরে অপারেশন করে যাচ্ছেন৷ যে সব মহিলার ওপর অপারেশন করা হয়েছে তাদের মধ্যে থেকে প্রায় এগারশ' আমাদের এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত৷ এবার এরাই এগিয়ে আসছে অন্যান্যদের সাহায্যে করতে, সমাজের ফিরিয়ে নিতে, একটি কাজের সন্ধান দিতে৷ ''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদন: আবদুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়