1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ফিরে আসছে পুরানো গেমস

এককালে ছোট্ট যন্ত্রের রঙিন পর্দায় নানা রকম শব্দের ঝনঝনানি শুনলে বোঝা যেত, ভিডিও গেম খেলা হচ্ছে৷ আজ কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের দৌলতে অসংখ্য গেম সবার নখদর্পণে৷ কিন্তু পুরনো গেম-এর আকর্ষণ মোটেই কমেনি৷

বার্লিনে ‘গেমসউইক' প্রদর্শনীতে এটাই সেরা আকর্ষণ৷ রেট্রো গেমস – বেশিরভাগই ৩০ বছরের বেশি পুরানো৷ অত্যন্ত সহজ বিন্যাস, গ্রাফিক্স-ও সেই মান্ধাতার আমলের৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও পুরো শক্তি দিয়ে এই গেমস খেলা চলছে৷ বার্লিনের দুই গেমস ডেভেলপার রিয়াদ জেমেলি ও ইয়োহানেস ক্রিস্টমান-ও বিষয়টি লক্ষ্য করছেন৷ তাঁরাও এই ক্ল্যাসিক গেম দেখে মুগ্ধ৷ ক্রিস্টমান বলেন, ‘‘ঠিক পুরানো আসবাবের মতো৷ মনে হয়, বিশাল বড় অথবা ভীষণ ভারি – তাই আজ আর এমন জিনিস বসার ঘরে রাখবো না৷ কিন্তু এমন নিপুণ হাতে তৈরি জিনিস দেখলে মুগ্ধও হতে হয় বৈকি৷''

এক বছর আগে এই দুই ডেভেলপার চাকরি ছেড়ে নিজেদের স্টুডিও খোলেন৷ তাঁদের প্রথম গেম-এর নাম ‘দ্য কিউরিয়াস এক্সপিডিশন'৷ মাত্র কয়েক মাস আগের হলেও দেখলে মনে হবে নব্বইয়ের দশকে তৈরি৷ ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রেক্ষাপটে তৈরি এই গেম-এ খেলোয়াড় নিজেই অভিযান পরিচালনা করছেন৷ দূরের দেশ আবিষ্কার করার সময় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন৷ যেমন নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে যোগাযোগ অথবা প্রাকৃতিক বিপর্যয়৷

সেকেলে ধাঁচে গ্রাফিক্স তৈরি করেছেন ইয়োহানেস ক্রিস্টমান৷ ল্যান্ডস্কেপ সৃষ্টি করতে সামান্য কিছু পিক্সেলই যথেষ্ট৷ দেখতে এমন সহজ সরল হওয়ার কারণে এই গেম-এর কিছু সুবিধাও রয়েছে৷ ক্রিস্টমান বলেন, ‘‘আমাদের গেম সহজে সেকেলে হবে না, কারণ অ্যান্টিকের উপর ভিত্তি করেই তো এটি তৈরি হয়েছে৷ আমাদের আশা, ৫ থেকে ১০ বছর পরেও এই গেম খেলা যাবে৷ অন্যদিকে আজ যে সব আধুনিক গেম বাজারে আসছে, ৬ মাস পরেই সে সব পুরানো হয়ে যাচ্ছে৷ তার উপর আমাদের গেমে গ্রাফিক্স কম৷ আমাদের আশা এর ফলে গেমারের কল্পনাশক্তি আরও উর্বর হয়ে উঠবে৷''

গেম-এর কনসেপ্টের উপরেও ক্ল্যাসিক যুগের প্রভাব রয়েছে৷ পুরানো অ্যাডভেঞ্চার গেমস-এর মতো এ ক্ষেত্রেও অনেক টেক্সট ও জটিল টাস্ক রয়েছে৷ একজন চরিত্রের মৃত্যু হলে আবার প্রথম থেকে খেলা শুরু করতে হয়৷ আগের গেম-এর পয়েন্ট সেভ-ও হয় না৷ রিয়াদ জেমেলি বলেন, ‘‘গেমটা বেশ গোলমেলে৷ কয়েক ঘণ্টা ধরে হিমশিম খেতে হতে পারে৷ অনেকটা আগেকার কঠিন গেম-গুলির মতো৷ খেলার মধ্যে এভাবে ডুবে যাওয়া বেশ রোমাঞ্চের ব্যাপার – এমনকি হেরে গেলেও৷ আমাদের গেম-এ নানাভাবে হেরে যাওয়া সম্ভব, সেটাই বিশাল রোমাঞ্চের বিষয়৷''

যে সব গেম ২০ বছরের বেশি পুরানো, সেগুলিকে সাধারণত ‘রেট্রো' বলা হয়৷ বাণিজ্যিক কম্পিউটার গেম-গুলির মধ্যে ১৯৭২ সালের ‘পং'-কে সেরা হিসেবে ধরা হয়৷ এর কিছুকাল পরে বাজারে এসেছিল ‘স্পেস ইনভেডার্স'৷

সেটা ছিল কম্পিউটার গেমস জগতে বড় অগ্রগতি৷ ১৯৮৩ সালে ‘মারিও' নামের চরিত্র আত্মপ্রকাশ করে৷ গোটা বিশ্বে ‘জাম্প এন রান' গেমস জনপ্রিয় হয়ে ওঠে৷

তারপর আসে প্রথম অ্যাডভেঞ্চার গেম-গুলি৷ ১৯৯০ সালের জনপ্রিয় গেম ‘মাংকি আইল্যান্ড'-এর চমকপ্রদ গ্রাফিক্স বিশেষ নজর কেড়েছিল৷ আজও অনেক গেম স্টুডিও সেই ধারা বজায় রেখেছে৷

২০০৯ সালের ‘মাইনক্রাফট'-ও এমন প্রভাব রেখেছে৷ প্রায় ৫ কোটি ৬০ লক্ষ কপি বিক্রি করে এটি দুনিয়ার সবচেয়ে সফল গেমগুলির অন্যতম হিসেবে পরিচিত৷ এই গেম অনেকের কাছে ছোটবেলার স্মৃতি জাগিয়ে তোলে৷ কম্পিউটার গেম বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস লাঙে বলেন, ‘‘প্রথম দিকের কম্পিউটার গেম-গুলি এমন একটা সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল, যখন সার্বিকভাবে কম্পিউটার প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়ছিল৷ প্রাথমিক যুগের কম্পিউটারের কারণেই এই গ্রাফিক্স জনপ্রিয় হয়েছিল৷ আজ আমরা ফিরে তাকিয়ে বুঝতে পারি, সেটা কতটা জরুরি ছিল৷ এটা তো একটা ডিজিটাল বিপ্লব, যা তখন শুরু হয়েছিল৷ তাই এই রেট্রো-গ্রাফিক্স শুধু দারুণ সব গেম-এর নয়, সামগ্রিকভাবে কম্পিউটার প্রযুক্তিরও প্রতীক৷

শিল্পকলার জগতেও এই সব রেট্রো গেমস তাদের জায়গা করে নিয়েছে৷ বার্লিন গেম উইকে পর্দায় এইট বিট গ্রাফিক্স দেখানো হচ্ছে৷ প্রদর্শনীতে ‘গেমবয়' সত্যি নজর কাড়ছে৷ অথবা নিনটেন্ডো চরিত্রগুলি৷ এ সব ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দেয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়