1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ফিনল্যান্ডে অভিনব পরিবেশবান্ধব বাড়ি

গাছপালা না কেটে, পাথর না সরিয়ে প্রকৃতির মাঝেই এক অভিনব বাড়ি তৈরি করেছেন ফিনল্যান্ডের এক স্থপতি৷ পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা ঘরও তৈরি করেননি তিনি৷ জাহাজের মতো দেখতে খোলামেলা এই বাড়িটি না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন৷

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকির উপকণ্ঠে মার্কো কাসাগ্রান্ডে-র বাড়ি৷ ২০১৩ সাল থেকে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান সহ এখানে বসবাস করছেন৷ গোল জানালাওয়ালা বাড়িটি দেখলে জাহাজের কথা মনে হয়৷ বাড়ির নক্সা নিয়ে কাজ করার সময় এই আইডিয়া তাঁর মাথায় আসে৷ পাথুরে জমি ও তার উপর যে সব গাছপালা ছিল, সেগুলি অক্ষত রেখে মার্কো বাড়ি তৈরি করতে চেয়েছিলেন৷ ‘আপেলে' বাড়ির মালিক মার্কো কাসাগ্রান্ডে বলেন, ‘‘তাই পাইন গাছ ও পাথরের মধ্যে বাড়িটিকে কোনোভাবে ‘ফিট' করতে হয়েছিলো৷ তখন মনে হয়েছিল, আমি যেন বাড়িটিকে কোনো স্বাভাবিক বন্দরে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছি৷ সেই ভাবনা থেকে ধাপে ধাপে নৌকোর ভাবনা এলো৷ আসলে এটা একটা জাহাজ যেটি এখানে এসে তার স্বাভাবিক বাসা খুঁজে পেয়েছে৷''

অনেক ছোট ঘরের বদলে একটি বড় ঘর৷ মাঝখানে বাথরুম৷ ফিনল্যান্ডের নিজস্ব ‘টুপা' ঐতিহ্যের মধ্যেই এই স্থপতি তাঁর আদর্শ খুঁজে পেয়েছেন৷ বড় তাঁবুর মধ্যে সবার জন্য জায়গা৷ মার্কো বলেন, ‘‘প্রত্যেকটি ঘরের নির্দিষ্ট ব্যবহারের বদলে গোটা জায়গাটাই খুলে দিলে ব্যাপারটা অন্যরকম হয়৷ একেবারেই ‘বোরিং' হয় না৷ একটা বড় ঘর দিন বা বছরের বিভিন্ন সময় অনুযায়ী বদলে যায়৷ সেটা মনে হয় অনেক কার্যকর হয়৷''

এমনকি শোবার ঘরেও দরজা নেই৷ তাই বিভিন্ন অংশে বিভক্ত একটি বড় ঘরের ভিন্ন ভিন্ন ব্যবহার হতে পারে৷ এর একটা বড় সুবিধা রয়েছে৷

প্রায় ১৪০ বর্গ মিটার আয়তনের কোনো অংশই বেশি দিন অব্যবহৃত থাকে না৷ ঘরটি এমনভাবে বিভক্ত করা হয়েছে, যে পরিবারের সদস্যরা যে যার একান্ত জায়গা খুঁজে পায়৷ ঘর বন্ধ করে নিজস্ব ‘প্রাইভেসি' খোঁজার তাগিদ অনুভব করেন না মার্কো৷ তিনি বলেন, ‘‘আলাদা সময় তো আমি অফিসেই পাই৷ বাচ্চারা স্কুলে যায়৷ নিকিতা-র তো নিজের বাড়ি আছে৷ দিনটা কেমনভাবে সাজানো, সেটাই আসল কথা৷ কিছু সময় আমরা একসঙ্গে কাটাই, তবে বেশিরভাগটাই আলাদা৷ তা সত্ত্বেও আমরা একটি পরিবার৷ কিন্তু নির্ধারিত কোনো অবস্থা নেই, সবই বদলে যাচ্ছে৷''

শীতকালে ফায়ারপ্লেস সুন্দর উত্তাপ দেয়৷ তবে তার উৎস জিও-থার্মাল৷ গোটা বাড়িটাই কাঠের তৈরি, কোনো প্লাস্টিক নেই৷ কাঠের ফাইবার দিয়ে থার্মাল ইনসুলেশন করা হয়েছে৷ প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে থাকা মার্কো-র কাছে কোনো ফ্যাশন নয়, সেটাই স্বাভাবিক স্পৃহা৷ মার্কো বলেন, ‘‘আমি ল্যাপল্যান্ডে বড় হয়েছি৷ বার বার আমাকে বাড়ি থেকে জঙ্গলে পাঠানো হতো৷ আমি বাড়ির তুলনায় জঙ্গলেই বেশি সময় কাটিয়েছি৷ বাড়িতে আসতাম শুধু খেতে আর ঘুমাতে৷ তারপর আমাকে স্কুলেও যেতে হতো৷ তবে জঙ্গলেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতাম৷ আমি প্রকৃতি খুব ভালোবাসি৷''

ফিনল্যান্ডে ‘আপেলে হাউস'-এর মাধ্যমে মার্কো কাসাগ্রান্ডে প্রকৃতির যতটা সম্ভব কাছে আসতে পেরেছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক