1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির নেই

বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাসান আলী নামে এক রাজাকার কমান্ডারকে গুলি করে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দিয়েছে৷ কিন্তু ফৌজদারি কার্যবিধিতে এভাবে দণ্ড কার্যকরের কোনো নজির নেই৷

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ মুক্তিযুদ্ধকালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় কিশোরগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার সৈয়দ মো. হাসান আলীকে মঙ্গলবার পলাতক অবস্থায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়৷

রায়ে বলা হয়, ‘‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে মৃত্যুদণ্ড কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা নেই৷ তবে ফৌজদারি কার্যবিধিতে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা আছে৷ আর ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে বলা হয় যে, ঐ আইনের অধীনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে৷ এ জন্য ট্রাইব্যুনাল মনে করে, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বা গুলি করে – সরকার যেভাবে চাইবে, সেভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে৷''

এ নিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৯টি মামলার রায় ঘোষণা করা হলো৷ এর মধ্যে ন'টি মামলার রায় ঘোষণা করলো ট্রাইব্যুনাল ১৷ বাকি ১০টি মামলার রায় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল ২ আর ১৭টি মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে৷ এছাড়া এই দু'টি ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত পাঁচটি মামলায় ছ'জন আসামির পলাতক অবস্থায় বিচার হয়েছে৷

এর মধ্যে ট্রাইব্যুনালের রায়ে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে৷

মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্ত সংস্থার সংস্থার সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান জানান, ‘‘ট্রাইব্যুনাল এই প্রথম গুলি করে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছে৷ এর আগে শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় বিচার আদালত আসামিদের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দিয়েছিল৷ তবে সেটাও কার্যকর হয়নি৷ সে সময় উচ্চ আদালত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেয়৷''

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী, অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ দণ্ড হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা বিচারক যে রকম মনে করবেন সেই শাস্তি দিতে পারবেন৷ আর কার্যকর কিভাবে হবে, তাও তাঁরা বলে দিতে পারেন৷ তাছাড়া ট্রাইব্যুনাল আইন একটি বিশেষ আইন৷ প্রচলিত ফৌজদারি আইনের থেকে এ আইন আলাদা৷ হাসান আলীর মামলায় ট্রাইব্যুনাল ফায়ারিং স্কোয়াড বা গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিলেও, আদালত তা চূড়ান্তভাবে সরকারের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দিয়েছে৷ রায়ে বলা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে গুলি করে অথবা সরকার যেভাবে চাইবে৷''

এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, ‘‘মৃত্যুদণ্ডের রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর তা কার্যকরের দায়িত্ব সরকারের৷ কখন তা কিভাবে কার্যকর হবে, তা কার্যবিধি অনুযায়ী সরকারই নির্ধারণ করে৷''

রানা দাসগুপ্ত বলেন, ‘‘ট্রাইব্যুনাল হয়ত জঘণ্য অপরাধের গুরুত্ব বোঝাতে ফায়রিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা বলেছে৷''

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট স. ম রেজাউল করিম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অতীত কোনো নজির নেই৷ ফৌজদারি কার্যবিধিতেও ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান নেই৷ বিধান হলো দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের৷''

তবে তিনি জানান, ‘‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন একটি বিশেষ আইন৷ এই আইনে বিচারকরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতির ব্যাপারে আদেশ দিতে পারেন৷ এক্ষেত্রে সাধারণভাবে প্রচলিত আইন প্রযোজ্য হবে না৷''

ওদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার কথায়, ‘‘কারাগারে দড়িতে ঝুলিয়ে ফাঁসি কার্যকরের ব্যবস্থা আছে৷ কিন্তু ফায়ারিং স্কোয়াড বা গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো ব্যবস্থা বা অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কারাগারগুলোর নেই৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়