ফসল বাড়াতে হলে প্রকৃতিকে বাঁচাতে হবে | অন্বেষণ | DW | 25.08.2015
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ফসল বাড়াতে হলে প্রকৃতিকে বাঁচাতে হবে

নোনাজল এসে যেখানে চাষের জমি নাশ করে সেনেগালেও৷ জমির স্যালিনাইজেশন, অর্থাৎ লবণাক্তকরণ রোখার একটি পন্থা হলো – সেনেগালের ফরাসিতে – ‘দিগেৎ’ নামের এক ধরনের বাঁধ৷ কিন্তু তারপর?

ধান আর বজরার চাষ করা হতো এখানে৷ কিন্তু আজ আর কিছুই গজায় না৷ সাগর থেকে লবণাক্ত পানি এসে ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষিত করেছে৷ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর দ্য কনজার্ভেশন অফ নেচার বা আইইউসিএন-এর আল হাজি বালে সেই বলেন যে, এলাকার দশ শতাংশ চাষের জমি এ ভাবে নষ্ট হয়েছে: ‘‘গাছপালা মরে গেছে, মাটি লবণে ভরা৷ কোনো কোনো অংশ অম্লে পরিণত হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায়, লবণাক্তকরণ কতদূর ঢুকে পড়েছে৷''

গ্রামের নাম হলো পেজ৷ বাসিন্দারা সাধারণত এই চত্বরটিতে মিলিত হন৷ গাঁয়ের সাড়ে চারশো মানুষের সকলেই একটু প্রাচীনপন্থি৷ তাঁরা এখানে থাকতে পারবেন কিনা, তা নির্ভর করবে লবণাক্তকরণ বন্ধ করা সম্ভব হবে কিনা, তার উপর৷ আল হাজি বালে সেই এ কাজে গ্রামবাসীদের সাহায্য করতে চান৷

গ্রামবাসীরা খেতের ফসল থেকেই জীবনধারণ করেন৷ বর্তমানে চাষিরা ফসল বোনার জন্য খেত তৈরি করছেন৷ কিছু বজরা গতবারের ফসল থেকে বেঁচে গেছে৷ মহিলারা পরে এ দিয়ে কুসকুস তৈরি করবেন৷ আপাতত তাঁদের অন্য জায়গা থেকে শস্য কিনতে হচ্ছে৷ পেজ গ্রামের বাসিন্দা জোজো দিউফ বলেন, ‘‘লবণাক্তকরণের দরুন আমরা আর পর্যাপ্ত ধান পাচ্ছি না৷ আগে যা ফসল আনতাম, তাতে এক বছরের কাজ চলে যেত৷ কিন্তু লবণের কারণে মাটি আর তত উর্বর নয়৷ তবুও আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি৷''

‘দিগেৎ' বাঁধ প্রকল্প

আবার আমরা সেই-র সাথে পেজ গ্রামে গেলাম৷ তিনি এখানে এবং আরো পাঁচটি গ্রামে ‘দিগেৎ' নামের ছোট ছোট বাঁধ তৈরির প্রকল্প চালাচ্ছেন৷ এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো, লবণ যাতে আরো জমিতে ঢুকে না যায়, তা রোধ করা এবং জমির ক্ষয় রোধ করা৷ ‘দিগেৎ'-গুলি বৃষ্টির জল ধরে রেখে ভূগর্ভস্থ পানিতে তা যোগ করে৷ আল হাজি বালে সেই বলেন, ‘‘জমি বাঁচানোর এই সব পন্থার বাস্তবিক প্রভাব আমরা এখনো খতিয়ে দেখিনি, কিন্তু আমাদের এগুলো বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছে, কেননা এগুলোতে বিশেষ খরচ নেই৷ আবার এগুলো প্রথাগত প্রযুক্তিও বটে৷''

গ্রামবাসীরা দিগেৎ নির্মাণ এবং প্রকল্পের অপর অংশ – পুনর্বনানীকরণ, উভয়ই সমর্থন করেন৷ নতুন চারা রোপণ করে জমির ক্ষয় স্থগিত করা এবং হাওয়ায় মাটির ক্ষয় রোখা, গাছপালা যা করতে সক্ষম – এই হলো দুই লক্ষ্য৷ আল হাজি বালে সেই জানালেন, ‘‘সরকারের তরফ থেকে একটি ন্যাশনাল পার্ক স্থাপন করা হয়েছে৷ পৌর পর্যায়েও একাধিক প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা আছে৷ কিন্তু আমরা চাই যে, চাষবাসের জমিতেও প্রকৃতি আবার তার নিজের আকৃতি ফিরে পাক৷''

স্বার্থের সংঘাত

কিন্তু সেটা সবসময় সহজ নয়৷ একটি পরিবেশ প্রণালীতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে অনেক আপোশের প্রয়োজন পড়ে৷ পানি ভাগাভাগি করে নিতে হয়, গরুবাছুর সর্বত্র চরতে পারবে না৷ প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করার জন্য অনেক সময় নিজের ভোগ এবং প্রয়োজন কমাতে হয়৷ যা থেকে স্বার্থের সংঘাত দেখা দেয়৷

গ্রামবাসীদের বৈঠকে সেই সব সমস্যা আলোচিত হয়৷ এক মহিলা হয়ত অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর গরুর পাল আর যথেচ্ছ চরতে পারছে না; কাজেই তারা কম খেতে পাচ্ছে এবং কম দুধ দিচ্ছে৷ আরেকজন বলেছেন, জনতাকে অপরের স্বার্থ বুঝতে হবে এবং সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে৷ অথচ নিজেদের মধ্যে নিয়মকানুন ঠিক করা সহজ কাজ নয়; এছাড়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সব কিছু আইনানুগ হতে হবে৷

আল হাজি বালে সেই বলেন, ‘‘কখনো কখনো স্থানীয় রীতিনীতি আর হালের আইনকানুনের মধ্যে বিরোধ বাধে৷ বৈঠকে আমরা স্থানীয় রীতিনীতি এবং সরকারি আইনের মধ্যে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করছি৷ আপোশে এমন একটি দলিল সৃষ্টি করার চেষ্টা করছি, যার মাধ্যমে আমরা শান্তি ও সম্প্রীতি সহ প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারব৷''

অতীতে এই অজ্ঞাত স্থানে নাকি রাজা-রাজড়াদের গোর দেওয়া হতো৷ আজ এখানে পেজ গ্রামের অধিবাসীরা আসেন বৃষ্টির প্রার্থনা করতে, ফসলের জন্য বৃষ্টি৷ কেননা, তারা যদি তাঁদের জীবিকা হারিয়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন, তবে তাঁরা তাঁদের সাংস্কৃতিক সত্তাও হারাবেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক