1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ফর্সা হবার প্রসাধন নিষিদ্ধ করল ঘানা

ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি-র মতো ক্রিম উপমহাদেশেও অপরিচিত নয়৷ এ ধরনের প্রসাধন দ্রব্যে যে হাইড্রোকুইনোন থাকে, তা ক্যানসারের কারণ হতে পারে৷ তাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতো ঘানাও এবার তা নিষিদ্ধ করল৷

ঘটনাটা সামান্য মনে হলেও, এর পটভূমিতে রয়েছে ঔপনিবেশিকতা, জাতিবাদ ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার এক কলঙ্কিত অধ্যায়৷ ‘কালো? তা সে যতই কালো হোক' লিখে দরদ দেখিয়ে গেছেন যে মহাকবি, তিনিও জানতেন না, তিনি তথাকথিত কালো মেয়েদের কত বড় ক্ষতি করে গেছেন৷

ঔপনিবেশিকতার আমল থেকেই শ্বেতাঙ্গরা প্রভু, কৃষ্ণাঙ্গরা কর্মচারী, করণিক, ভৃত্য বা দাস৷ ঔপনিবেশিকতার অন্ত ঘটলেও সেই সাদা চামড়ার ভূত মানুষজনের ঘাড় থেকে নামেনি৷ তবে সাদা চামড়ার লোভ সাহেবরা আসার অনেক আগে থেকেই ছিল, অন্তত ভারতের মতো দেশে, যেখানে উঁচুজাতের মানুষ চেনা যেতো তার গায়ের রং দেখে৷ সব মিলিয়ে এই সাদা-কালোর বর্ণপ্রথা কবে না জানি বিয়ের বাজারে ঢুকে গেছে৷ গোড়ায় ‘উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ', ‘রংটা একটু চাপা', এই সব বলে কাজ চালানো গিয়েছিল৷ পরে এলো ‘স্কিন লাইটেনিং প্রোডাক্টদের' বাজার৷ তার আগেই আবার সিনেমা আর বিজ্ঞাপনের জগতে প্রায় ডারউইনের ন্যাচারাল সিলেকশনের মতো যাদের গায়ের রং একটু বেশি সাদা, তারাই জায়গা করে নিয়েছেন৷ পাত্ররা যেমন ফর্সা পাত্রী খোঁজে, তেমনভাবে গোটা সমাজেই সৌন্দর্য ও সাফল্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে – সাদা চামড়া৷

পশ্চিমে জাতিবাদের চেহারা একরকম, উপমহাদেশে একরকম, আবার আফ্রিকায় একরকম৷ মনে রাখতে হবে, ঘানায় স্কিন ব্লিচিং করার প্রসাধন দ্রব্য ব্যবহার করে থাকেন ‘মাত্র’ ৩০ শতাংশ মহিলা৷ সে তুলনায় নাইজেরিয়ায় ক্রিম মেখে ফর্সা হবার চেষ্টা করেন শতকরা ৭৭ ভাগ ও সেনেগালে শতকরা ৫২ থেকে ৬৭ ভাগ মহিলা (ডেজ্ড অ্যান্ড কনফিউজ্ড পত্রিকার পরিসংখ্যান)৷

আফ্রিকার এক দরিদ্র দেশ ঘানার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি এবার ঘোষণা করে বসলেন যে, ২০১৬ সালের আগস্ট মাস থেকে ঘানায় হাইড্রোকুইনোন যুক্ত কোনো ধরনের প্রসাধন বিক্রয় করা নিষেধ৷ মাত্র দশ বছর আগে পদার্থটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হয়, কেননা হাইড্রোকুইনোন ক্যানসার ঘটায় কিনা, যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি৷ পদার্থটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় নিষিদ্ধ৷ এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ঘানা, একটি কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত দেশ৷ ঘানায় হাইড্রোকুইনোন যুক্ত স্কিন ব্লিচিং ক্রিমের ব্যবহার যেমন প্রচলিত, তেমনই কেউ স্বীকার করতে চান না যে, তিনি এই ক্রিম ব্যবহার করেন৷

অর্থাৎ আমাদের তালিকায় আরো যোগ হলো লজ্জা আর ভণ্ডামি৷ সাদা বা ফর্সা হবার লোভ এমনই৷

আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশেও ফেয়ারনেস ক্রিম নিষিদ্ধ করা উচিত? লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন