1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ফরাসি মোরব্বার কথা

চেরিফলের সঙ্গে ভায়োলেট ফুল, কিংবা আপেলের সঙ্গে ক্যারামেল, কিংবা ব্লুবেরির সঙ্গে লিকরিস – ক্রিস্টিনে ফ্যার্বার-এর তৈরি মারমালেড বা মোরব্বাগুলো নানা স্বাদ ও গন্ধের মিশ্রণ৷ তাঁর তৈরি মোরব্বা বিশ্বের ভোজনরসিকদের কাছে পরিচিত৷

Marmelade-Gläser von Ursula Hölz

ফাইল ফটো

ক্রিস্টিনে জাতিতে ফরাসি৷ থাকেন আলসাস অঞ্চলের নিডারমর্শভিয়ার নামের একটি ছোট্ট শহরে৷ চার প্রজন্ম ধরে ফ্যার্বার-রা এখানে রুটি-কেক-মিষ্টির একটি দোকান চালাচ্ছেন৷

দোকানের পিছন দিকে মারমালেড তৈরির ঘর৷ ভোর ছ'টা থেকে ক্রিস্টিনে-কে এখানে পাওয়া যাবে৷ আশির দশকের গোড়ায় প্রথম মারমালেড বেচতে শুরু করেন, মায়ের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও৷‘মারমালেডের রানি' ক্রিস্টিনে ফ্যার্বার সে গল্প শোনালেন: ‘‘মা বলেছিলেন, ঐ মোরব্বা শুধু দোকান সাজানোর জন্য৷ খদ্দেরদের আমি শুধু ‘বন্ মামঁ'-র মতো নাম-করা মারমালেড বিক্রি করি৷ খদ্দেররা কিন্তু বলেছে, তারা ঠিক এই মারমালেডই চায়৷ তা কিনতে না পারলে, তারা অন্য জায়গায় খোঁজ করবে৷ তারপর সত্যিই তারা কিছু না কিনে চলে গেছে!''

সেদিনের কথা ভেবে ক্রিস্টিনে যেন কাজের নতুন উৎসাহ পান৷ কেক তৈরি শেষ করে মোরব্বা তৈরির কাজে লাগবেন৷ কতোটা মিষ্টি পড়বে, সেটাই হল আসল কথা৷ তার ওপরেই মারমালেডের ভালোমন্দ নির্ভর করবে৷ ‘‘আমি সবসময় চার কিলো ফল আর একটা গোটা লেবুর রস নিই,'' জানালেন ক্রিস্টিনে৷

ক্রিস্টিনে সব কিছু ছোট ছোট পরিমাণে নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন৷ ব্যবহার করেন শুধু মরসুমের ফল৷ ৮৫০টির বেশি বিভিন্ন ধরনের মারমালেড সৃষ্টি করেছেন তিনি৷ যেমন ধরুন ব়্যাস্পবেরি মারমালেড, যার রেসিপিটা এসেছে ক্রিস্টিনের দাদির কাছ থেকে৷ ক্রিস্টিনে বলেন: ‘‘আমি মারমালেড রাঁধি একটা বিশেষ ধরনের ঘনত্ব কিংবা রংয়ের কথা ভেবে৷ যতক্ষণ পর্যন্ত না রান্নায় ঠিক সেই রংটা ফুটে উঠছে, আমার মাথার ছবিটার মতো দেখাচ্ছে – ততোক্ষণ নেড়ে চলি৷''

এ ভাবে কাজ করেই ক্রিস্টিনে ‘মারমালেডের রানি' আখ্যা পেয়েছেন৷ তাঁর সে আখ্যায় লোভ নেই বটে, কিন্তু গর্ব আছে: ‘‘আমি মারমালেডের রানিও নই, পরিও নই৷ ও নাম দিয়েছে অন্য লোকে৷ কিন্তু আমারও ভালো লাগে: মারমালেডের রাঁধুনির চেয়ে রানি কিংবা পরি অনেক ভালো৷''

নিজের তৈরি মারমালেড বিক্রি করেন নিজেদের দোকান থেকে৷ বিশ্বের যে কোনো জায়গা থেকে অর্ডারও দেওয়া যায়৷ দাম: ২২০ গ্রামের গ্লাসের মূল্য ছয় ইউরো কিংবা তার বেশি৷ অর্থাৎ খুব সস্তা নয়৷

লেখক হিসেবেও ক্রিস্টিনে নাম করেছেন৷ একাধিক বইতে তিনি তাঁর রেসিপিগুলো দিয়েছেন৷ এছাড়া ফ্রান্স, ইটালি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে মারমালেড তৈরির কোর্স করিয়েছেন৷

আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন, ক্রিস্টিনে ফ্যার্বার নিজের বাগানে গিয়ে ফলগুলোর দিকে একবার নজর দেবেনই৷ মোরব্বা তৈরিতে তিনি স্থানীয়, অর্থাৎ আলসাস অঞ্চলের ফলই ব্যবহার করে থাকেন৷

চার কিলোগ্রাম ফল থেকে বিশ গ্লাস মারমালেড৷ ক্রিস্টিনের বাঁধাধরা খদ্দেরদের মধ্যে আল্যাঁ দুকাস কিংবা পোল্ বোকুস-এর মতো প্রখ্যাত শেফ-দের পাওয়া যাবে৷

‘‘মানুষজন যে বার বার কিনতে আসেন, আমাকে বলেন, ভালো হয়েছে না মন্দ হয়েছে৷ আমি যে সারা বিশ্ব থেকে স্বীকৃতি পেয়েছি, তার মানে হয়তো এই যে, আমি কিছু একটা ঠিকই করেছি,'' এই হল ক্রিস্টিনের অভিমত৷

ইন্টারনেট লিংক