1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ফরাসি আঞ্চলিক নির্বাচনে ধরাশায়ী সার্কোজির দল

ফ্রান্সের স্থানীয় নির্বাচনে বেশ ভালোই বেকায়দায় পড়েছে প্রেসিডেন্ট নিকোলা সার্কোজির মধ্য দক্ষিণপন্থী রক্ষণশীল জোট৷ সমাজবাদী এবং বিশেষ করে বামপন্থীরা নিজেদের বিজয় স্পষ্ট সুনিশ্চিত করেছেন৷কিন্তু ভোট পড়েছে খুবই কম মাত্রায়৷

default

স্ত্রী কার্লা ব্রুনিকে নিয়ে ভোট দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট সার্কোজি, রবিবার, প্যারিসে৷

ফলাফল এখন কোথায় দাঁড়িয়ে

প্রায় ৯৬ শতাংশ ভোটগণনার কাজ শেষ হয়েছে এ পর্যন্ত৷ তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট নিকোলা সার্কোজির মধ্য দক্ষিণপন্থী রক্ষণশীল ইউএমপি পার্টি প্রায় ধরাশায়ী৷ মাত্র ৩৯.৮ শতাংশ ভোট তাদের সংগ্রহে৷ আর বিরোধী সমাজবাদী এবং বামপন্থী প্রার্থীরা সব মিলিয়ে পেয়েছেন ৫৩.৬ শতাংশ৷ ম্যানডেট খুবই স্পষ্ট৷ ক্ষমতাসীন রক্ষণশীলদের বিরুদ্ধেই গিয়েছে জনমত৷

কেন এমন ধাক্বা খেলেন সার্কোজি

একদিকে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক অবনমন, যার কিছুটা কারণ বিশ্বজোড়া মন্দা৷ এবং যার প্রভাবে বেকারীর হার বৃদ্ধি পাওয়া, আর অন্যদিকে ফ্রান্সের উদার অভিবাসী নীতির প্রতি সাধারণ ফরাসিদের অসমর্থন৷এই দুটি কারণকেই প্রধান বলে ব্যখ্যা করছে ফরাসি মিডিয়া৷ দু'একটি টেলিভিশন চ্যানেল আবার অন্য ব্যাখ্যাও দিচ্ছে৷ ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এতদিন রাজনৈতিক সমর্থন সেভাবে না পাওয়া চরম দক্ষিণপন্থী এবং জাতীয়তাবাদী ন্যাশনাল ফ্রন্ট পার্টি এই স্থানীয় নির্বাচনে ১২ শতাংশ ভোট পেয়েছে৷

Regionalwahlen in Frankreich

প্যারিসে নির্বাচনী প্রচার

ব্যাপারটা বেশ বিস্ময়কর৷ এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের অভ্যন্তরে অভিবাসী ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাবৃদ্ধি মেনে নিতে পারছে না অনেক ফরাসি৷ সে কারণেই জঁ মারি ল পেন-এর নেতৃত্বে উগ্র জাতীয়তাবাদী দলটি জনসমর্থন লাভ করেছে খানিকটা৷ তবে, আর্থিক মন্দার মোকাবিলায় সার্কোজির রক্ষণশীল সরকারের ব্যর্থতার ফলেই বামপন্থী এবং সমাজবাদীদের লাভ হয়েছে আঞ্চলিক নির্বাচনে৷

এই ফলাফলের প্রভাব কী সার্কোজি সরকারের ওপরে পড়বে

এক্ষুনি না হলেও ভবিষ্যতে প্রভাব পড়তেই পারে৷ তার কারণ আগামী রবিবার ফ্রান্সের বকেয়া দুটি প্রদেশ, কর্সিকা আর আলসাসেতে ভোটগ্রহণ৷ যদি সেখানেও উল্টে যায় সার্কোজির ইউএমপি দল এবং তাদের ক্ষমতাসীন জোটের প্রাদেশিক সরকার, সেক্ষেত্রে ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিকোলা সার্কোজির জন্য দুঃসংবাদ অপেক্ষা করে থাকারই সম্ভাবনা৷ নির্বাচনের আগেই সমীক্ষা থেকে শোনা যাচ্ছিল, সার্কোজি সরকারের আর্থিক সংস্কার নীতিতে আদৌ সন্তুষ্ট নয় সাধারণ মানুষ৷ দেখা গেল সমীক্ষা খুব একটা ভুল বলে নি৷

কিন্তু ভোট পড়েছে খুবই কম

সবমিলে টেনেটুনে মাত্র ৪৬.৫ শতাংশ৷ ফ্রান্সে সবচেয়ে কম ভোট পড়ার রেকর্ড এটা৷ ২০০৪ সালে শেষবারের আঞ্চলিক নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৬০ শতাংশ৷ প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া ফিলোঁ বলছেন, এত কম ভোট পড়ার ফলে ভোটারদের জাতীয় মানসিকতার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না৷ তবে, ইউরোপ জুড়েই ভোটারদের মধ্যে এই ভোটদানে অনীহা সাম্প্রতিক অতীতে একটা বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে৷ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই অনীহা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে ইউরোপে৷ ফ্রান্স যে কোন ব্যতিক্রম নয়, সেটাই প্রমাণ হল রবিবার৷

প্রতিবেদন- সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

সম্পাদনা- আরাফাতুল ইসলাম

সংশ্লিষ্ট বিষয়