1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ফরএভার অ্যাম্বার

অ্যাম্বার পাথর শুধু বাল্টিক সাগরের তীরেই নয়, ইউক্রেনের উত্তর-পশ্চিমেও পাওয়া যায়৷ তবে চোরাইভাবে জঙ্গলের গাছ কেটে, মাটি খুঁড়ে, মাটিতে জল পাম্প করে যেভাবে পরিবেশের ক্ষতি করা হচ্ছে, তা সত্যিই ভয়াবহ৷

ভিডিও দেখুন 05:23

অমূল্য অ্যাম্বারের খোঁজে...

হলুদ রঙের অ্যাম্বার পাথর, যার খোঁজে ইউক্রেনের মাটি খুঁড়ে যেন চাঁদের পিঠ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ দিমিত্রো লেওন্তিয়ুক আসলে ইউক্রেনের সুবিখ্যাত আভটো-ময়দান আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য৷ অপরদিকে এই স্থানটিতে একটি সরকারি সংস্থা অ্যাম্বার পাথর সংগ্রহ করছে – সংস্থাটির দায়িত্ব ছিল, এলাকাটিকে গাছ পুঁতে আবার সবুজ করে তোলা, যার কিছুই করা হয়নি৷ বরং নতুন নতুন গহ্বর সৃষ্টি হচ্ছে৷

আভটো-ময়দান নাগরিক উদ্যোগের দিমিত্রো লেওন্তিয়ুক বললেন, ‘‘এটা সম্ভবত বেআইনি অ্যাম্বার-সন্ধানীদের কাজ৷ ওরা হয় সুযোগ বুঝে, নয়ত যে পুলিশরা এলাকাটা পাহারা দেয়, তাদের ঘুস দিয়ে ঢুকেছে৷’’

কিছুটা গিয়েই দিমিত্রো দু’জন লোকের দেখা পেলেন৷ এদের বাস উত্তর-পশ্চিম ইউক্রেনের এই অঞ্চলের ক্লেসিভ গ্রামে৷ খানিকক্ষণ কথাবার্তার পর দু’জনের একজন দেখাল, তারা মাটি খুঁড়ে কী খুঁজে পেয়েছে৷ এভাবে অ্যাম্বার খোঁড়া দণ্ডনীয় অপরাধ, এমনকি চোরাই অ্যাম্বার নিজের কাছে রাখাটাও ইউক্রেনে নিষিদ্ধ৷ কিন্তু অ্যাম্বার নিয়ে চোরাই ব্যবসা কোটি কোটি ডলারের: কালোবাজারে শুধু এই ক’টি পাথরের দামই এক হাজার মার্কিন ডলার৷ বিশেষ করে চীনারা চোরাই অ্যাম্বার কিনে থাকে, জানালেন দুই চোরাই অ্যাম্বার-সন্ধানী৷



বেআইনি ব্যবসা থেকে কিছু কিছু স্থানীয় বাসিন্দা সুখ-সমৃদ্ধির মুখ দেখেছেন৷ নতুন নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে৷ এটা ওদের অধিকার বলে গ্রামবাসীরা মনে করেন৷ চোরাই অ্যাম্বার বিক্রির টাকায় গ্রামটাকে নতুন করে গড়ে তুলছেন এরা৷ বাচ্চাদের খেলার জায়গা বানিয়ে দিয়েছেন৷ গ্রামের রাস্তাটিও মেরামত করতে চান ওরা৷

অ্যাম্বার খোঁজার জন্য ফ্র্যাকিং!

অ্যাক্টিভিস্ট দিমিত্রো লেওন্তিয়ুক ঠিক তারই সমালোচনা করেন৷ কেননা ইউক্রেনের অ্যাম্বার খনি এলাকায় হাজার হাজার হেক্টার জমি এভাবে নষ্ট হয়েছে৷ ‘‘বেশ কয়েক হাজার এমনকি কয়েক লাখ মানুষ বলে শোনা যায়৷ এরা সবাই যেভাবে হোক, যে করে হোক জঙ্গলে ঢুকে অ্যাম্বার খোঁজে’’, জানালেন লেওন্তিয়ুক৷

গাছ কেটে ফেলার পর চোরাই অ্যাম্বার-সন্ধানকারীরা মাটির ২০ মিটার তলা অবধি হোসপাইপ ঢুকিয়ে জল পাম্প করেন৷ এভাবে অ্যাম্বার পাথর ওপরে উঠে আসে৷ এ যেন অ্যাম্বার খোঁজার জন্য ফ্র্যাকিং! দিমিত্রো ও তাঁর সঙ্গিসাথীরা নিজেরা লুকিয়ে থেকে মোবাইল ফোন দিয়ে এই বেআইনি খননকার্যের ছবি তুলেছেন৷

অ্যাম্বার-সন্ধানীরা ডিপ নেট বা স্কুপ নেট দিয়ে পাথরগুলোকে তুলে নেন৷ ছ’জন লোক মিলে একটা জলের পাম্প বসানোর জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের ৬০০ মার্কিন ডলার পরিমাণ ঘুস দিতে হয় বলে শোনা গেল৷ তাহলে আর সরকারি কর্মকর্তারা এদিকে নজর দেন না৷



পড়ে থাকে এই ধরনের গর্তে ভরা একটি দৃশ্য, যেন চন্দ্রপৃষ্ঠ৷ যে ডোবাটা খোঁড়া হয়েছিল, তার চারপাশে এখনও ঘাস পর্যন্ত গজায়নি৷ লেওন্তিয়ুক বললেন, ‘‘এটা সত্যিই বীভৎস৷ অ্যাম্বার-সন্ধানীরা এর পরে আর কিছুই করেনি ও করবে না – যদিও তাদের অন্তত নতুন করে গাছ লাগানোর কথা৷’’

রাজধানী কিয়েভ এখান থেকে অনেক দূর৷ কাজেই ইউক্রেন সরকার দেশের উত্তর-পশ্চিমে প্রকৃতির কী সর্বনাশ ঘটছে, তা নিয়ে মাথা ঘামান না৷ কালেভদ্রে সরকারি কর্মকর্তারা উদয় হন৷ যেমন দিমিত্রো খবর পেয়েছেন, অ্যাম্বার কাটার, শান দেওয়ার আর পালিশ করার একটি কারখানায় হানা দেওয়া হবে৷

কারখানার মালিক ওলে ক্রাভচুক স্বীকার করলেন যে, তিনি অন্যভাবে আইন এড়ান: ইউক্রেনে বৈধভাবে অ্যাম্বার কেনা সম্ভব নয় বলে তিনি ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে অ্যাম্বার কেনেন৷ জানালেন, ‘‘আমি পোল্যান্ডে এই অ্যাম্বার কিনেছি, যাতে কাজ শুরু করা যায়৷’’ অথচ পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, ইউক্রেনের অ্যাম্বার – আগে বেআইনিভাবে পোল্যান্ডে পাচার করে পরে আবার কেনা হয়েছে৷ ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ সেকথা খুব ভালো করেই জানেন বলে দিমিত্রোর ধারণা৷

খুদকুঁড়ো

অ্যাম্বার যে খুব মূল্যবান বস্তু, এমন নয়৷ তা সত্ত্বেও ইউরোপ বা চীনের বাজারে অ্যাম্বার বেচাকেনা করে লাখপতি, কোটিপতি হওয়া যায়৷ কাজেই এই হতদরিদ্র এলাকার মানুষজন যে সেই ব্যবসার খুদকুঁড়ো কুড়িয়েই খুশি, দিমিত্রো লেওন্তিয়ুক তা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারেন৷ তিনি বলেন, ‘‘অ্যাম্বার খোঁড়াটা বৈধ করে দেওয়া যেতে পারে ও এমনভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে যে, সকলেই তা থেকে কিছু পাবে৷ দশ-পনেরোজন স্থানীয় বাসিন্দার একটি সমবায়ের জন্য তিন-চার বছর ধরে যথেষ্ট কাজ থাকবে৷ সব অ্যাম্বার বার করে নেওয়ার পর তাদের আবার গর্তগুলো বুজিয়ে, গাছ লাগিয়ে জমিটাকে ঠিক করে দিতে হবে৷’’



সেটাই হল দিমিত্রোর কামনা: ইউক্রেনের বনাঞ্চলের এই ‘সোনা’ দুর্নীতিপরায়ণ সরকারি কর্মকর্তাদের পকেটে না গিয়ে স্থানীয় মানুষজনের উপকারে আসুক৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়