1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ফতোয়া বৈধ, তবে তার মাধ্যমে শাস্তি দেয়া যাবেনা

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ ফতোয়াকে বৈধ বলে রায় দিয়েছেন৷ তবে ফতোয়ার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেয়া যাবে না৷ এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি শাহ আবু নাইম মোমিনুর রহমান পদতাগ করেছেন৷

Fatwa, bangladesh, koran

ফতোয়াকে বৈধ : সর্বোচ্চ আদালত

ফতোয়াকে বৈধতা দিলেও এর মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক কোনো ধরনের শাস্তি দেয়া যাবে না বলে রায় দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত৷ ফতোয়া নিয়ে আপিলের ওপর বৃহস্পতিবার এ রায় দেয় প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৬ বিচারকের বেঞ্চ৷ হাইকোর্টের রায়ে সব ধরনের ফতোয়াকে অবৈধ ঘোষণা করা হলেও আপিল বিভাগের রায়ে তা আংশিক বাতিল করা হল, তবে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কিছু পর্যবেক্ষণ৷

আপিল বিভাগ তার পর্যবেক্ষণে বলেছে, ধর্মীয় বিষয়ে ফতোয়া দেয়া যেতে পারে, তবে যথাযথ শিক্ষিত ব্যক্তিরা তা দিতে পারবেন৷ আর ফতোয়া গ্রহণের বিষয়টি হতে হবে স্বতস্ফূর্ত৷ এর মাধ্যমে কোনো ধরনের শাস্তি দেয়া যাবে না৷ এমন কোনো ফতোয়া দেয়া যাবে না, যা কারো অধিকার ক্ষুন্ন করে৷ রায়কে স্বাগত জানিয়ে সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, শাস্তি নিষিদ্ধ করায় ফতোয়ার মাধ্যমে নারী নির্যাতনের প্রবণতা কমবে৷ তবে জোর করে কারো উপর ফতোয়া চাপিয়ে দেয়া যাবে না বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল৷

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আপিলকারীরাও৷ আপিলকারীদের অন্যতম আইনজীবী ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে এ রায়৷ তবে একজনের মত জানাতে গিয়ে অন্যের মত প্রকাশ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে কথাও রায়ে বলা হয়েছে৷

২০০১ সালের পহেলা জানুয়ারি বিচারপতি গোলাম রাব্বানী ও বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার হাইকোর্ট বেঞ্চ এক স্ব-প্রণোদিত আদেশে সব ধরনের ফতোয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন৷ ওই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছর মুফতি মো. তৈয়ব ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আপিল করেন৷ ১০ বছরের বেশি সময় পর এ বছরের পহেলা মার্চ আপিলের শুনানি শুরু হয়৷ শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসাবে টিএইচ খান, রফিক উল হক, রোকনউদ্দিন মাহমুদ, মাহমুদুল ইসলাম, এম জহির, এবিএম নুরুল ইসলাম, এএফ হাসান আরিফ, তানিয়া আমীর এবং এমআই ফারুকীর বক্তব্য শোনেন আপিল বিভাগ৷ এছাড়া পাঁচ জন আলেমের বক্তব্যও শোনেন আদালত৷

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আপিল বিভাগ অবশ্য বলেছেন, যে ঘটনার প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের ওই রায় দেয়া হয়েছিলো সে ঘটনায় ওই রায় ঠিক ছিলো৷ তবে সব ধরনের ফতোয়ার বিষয়ে তা খাটে না৷

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি শাহ আবু নাইম মোমিনুর রহমান বৃহস্পতিবার সকালে পদতাগ করেছেন৷ সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্ট্রারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্রটি জমা দেন৷ পরে রেজিষ্ট্রার সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে নিয়ে যান৷ দুই বার তাকে ডিঙিয়ে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করায় তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠজন সূত্রে জানা গেছে৷ তবে পদত্যাগপত্রে তিনি ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন৷ প্রথমবার জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বর্তমান প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক৷ আর বুধবার নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে মোজাম্মেল হোসেনকে৷ ১৮ই মে মোজাম্মেল হোসেন প্রধান বিচারপতি হিসেবে যোগ দেবেন৷

প্রতিবেদন: সমীর কুমার দে, ঢাকা

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়