1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

প্লেনের কেবিনে বাতাসটা কেমন?

যাত্রীবাহী জেট বিমানের কেবিনে বিষাক্ত ধোঁয়া ঢোকে – এমন সন্দেহ অনেকদিনের৷ তবে তা থেকে কি স্বাস্থ্যের হানি ঘটতে পারে? জার্মানির গ্যোটিঙেন শহরের বিজ্ঞানীরা এবার তা পরীক্ষা করে দেখেছেন৷

বিমান থেকে নামার পরে দূরপাল্লার যাত্রীরা মাঝেমধ্যে নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত অস্বস্তি-অসুবিধার কথা বলে থাকেন৷ এটা নতুন কিছু নয়৷ ফ্লাইট ক্রু, যাঁরা সারাক্ষণ কেবিনের বাতাস খাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে যে এ ধরনের ‘ব্যামো’ বা লক্ষণ যে কিছু বেশি হবে, সেটাও স্বাভাবিক৷ কিন্তু এই ব্যারামের পেছনে কোনো বাস্তবিক কারণ আছে কিনা, তা কি কেউ পরীক্ষা করে দেখেছেন?

হ্যাঁ, আস্ট্রিড হয়টেলবেক ও তাঁর সহযোগীরা গত তিন বছর ধরে এই সব মানুষদের রক্ত ও মূত্রের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে দেখছেন৷ তাঁরা যে ১৪০ জন রোগীকে পরীক্ষা করেছেন, তাঁদের অধিকাংশই ফ্লাইট স্টাফ৷ টেস্ট করার জন্য একাধিক নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন গ্যোটিঙেনের বিজ্ঞানীরা৷

রোগীদের রক্তের ও মুত্রের নমুনায়, মানে স্যাপেলে একাধিক অরগ্যানোফসফেট খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা, যা কিনা মানবশরীরের এনজাইমগুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে৷ বিজ্ঞানীরা আরো পেয়েছেন, যাকে পরিভাষায় বলে ‘ভোলাটাইল অরগ্যানিক কমপাউন্ডস’, সংক্ষেপে ভিওসি৷ এই ভিওসি থেকে শ্বাসনালীর দাহ থেকে শুরু করে স্নায়ু প্রণালীর ক্ষতি হতে পারে৷ বিমানের ইঞ্জিনে যে কেরোসিন, তেল অথবা অ্যান্টি-ফ্রিজ ব্যবহার করা হয়, তা থেকে এই ভিওসি বেরিয়ে পরে লিক করে কেবিনের বাতাসে মিশে গিয়ে থাকতে পারে, বলেই বিজ্ঞানীদের অনুমান৷



যাত্রী কেবিনের বাতাস টানা হয় বিমানের ইঞ্জিনগুলোর ভিতর দিয়ে৷ প্রায়ই দেখা যায় যে, এই ইঞ্জিনগুলোয় তেল অথবা অ্যান্টিফ্রিজ লেগে রয়েছে, যা থেকে ‘ফিউম ইভেন্ট’-এর সৃষ্টি হয়৷ বিমান পরিবহণের ভাষায়, কেবিনে ধোঁয়া সংক্রান্ত যাবতীয় ঘটনাকে বলা হয় ‘ফিউম ইভেন্ট’৷ গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকেই এ ধরনের ‘ফিউম ইভেন্ট’-এর কথা শোনা যাচ্ছে৷ শুধুমাত্র ২০০৬ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এক জার্মানিতেই এ ধরনের ৬৬৩টি ‘ফিউম ইভেন্ট’ ঘটেছে বলে জানাচ্ছে দেশের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত কর্তৃপক্ষ (বিএফইউ)৷ ২০১০ সালে একটি জার্মানউইংস বিমান কোলোনে ল্যান্ড করার সময় বিমানটির পাইলট ও কো-পাইলট অক্সিজেন মুখোশ পরতে বাধ্য হন, কেননা তারা নাকি কেবিনের ভিতরে পোড়ার গন্ধ পাচ্ছিলেন৷

এ সব সত্ত্বেও কেবিনের বাতাস থেকে যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, তার কোনো বৈজ্ঞানিক সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই৷ বিমানকর্মীরা সম্ভবত সাধারণ যাত্রীদের চেয়ে কিছুটা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন – এইটুকু বলাই যায়৷ গ্যোটিঙেনের বিজ্ঞানীদের আশা যে, তাঁদের আবিষ্কৃত তথ্য তথাকথিত ‘এয়ারোটক্সিক সিনড্রোম’-কে বুঝতে সাহায্য করবে৷

এসি/ডিজি (ডিডাব্লিউ, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন