1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

প্লাস্টিক সমস্যার সমাধান হলো বায়োপ্লাস্টিক

বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগ উদ্ভিদ পদার্থের মতোই পচে যায়৷ তা সত্ত্বেও বায়োপ্লাস্টিকের ফয়েল সহজে ছেঁড়ে না; তার উপর ছাপা যায়; মেশিনে কাট-ছাঁট করা যায়৷

প্লাস্টিকের ব্যাগ আমরা সবাই চিনি৷ দৈনন্দিন ব্যবহারের আর কোনো বস্তু এতটা হালকা-পলকা, অথচ এতটা দীর্ঘস্থায়ী নয়৷ জামাকাপড়, খাবারদাবার, ওষুধপত্র – সব কিছুই প্লাস্টিকের ব্যাগে করে বাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়৷ তারপর সেটা ফেলে দেওয়া হয়৷ আলাদা করে অন্যান্য আবর্জনার সঙ্গে পোড়ানো না হলে ঐ প্লাস্টিকের ব্যাগ রাস্তায় গিয়ে পড়ে, এমনকি শেষমেষ সাগরে৷ মুশকিল এই যে, প্লাস্টিক ক্ষয় হতে ৫০০ বছর অবধি সময় লাগে৷

একটি সমাধান হলো বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগ৷ এই ব্যাগগুলো ‘মিশ্র সারের' উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা চলে, কেননা এগুলো শেষমেষ উদ্ভিদ পদার্থের মতোই পচে যায়৷ তা সত্ত্বেও বায়োপ্লাস্টিক ফয়েল সহজে ছেঁড়ে না; তার উপর ছাপা যায়; মেশিনে কাট-ছাঁট করা যায়৷

বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগ আবর্জনা কমায়

প্যাকিং বিশেষজ্ঞ হ্যার্বার্ট পিয়েডে-র মতে, বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগের কারণে শহরে আবর্জনার পরিমাণ বাড়ে না: ‘‘বায়োপ্লাস্টিক ব্যাগের সুবিধা হলো এই যে, তা সাধারণ প্লাস্টিক ব্যাগের মতো সরানো বা পোড়ানোর কোনো দরকার পড়ে না৷ কাজেই বায়োপ্লাস্টিকের রিসাইক্লিং-এর জন্য আলাদা করে কোনো পদ্ধতির প্রয়োজন নেই৷ বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগ কিছুকাল পরে নিজে থেকেই পচে যায়, কাজেই তা আলাদা করে অপসারণ করতে হয় না৷''

বায়োপ্লাস্টিক তৈরিতে আরো কম ধাতব কিংবা খনিজ পদার্থ ব্যবহার করা হয়৷ এছাড়া বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগে রান্নাঘরের অর্গানিক জঞ্জাল জমিয়ে সবটাই নির্দিষ্ট অর্গানিক আবর্জনার জায়গায় ফেলা যায়৷ কিন্তু সেটা নিষিদ্ধ, কেননা জার্মানিতে নানা ধরনের আবর্জনা আলাদা আলাদা কনটেনারে ফেলার কথা৷ কাজেই অর্গানিক-আবর্জনা থেকে প্লাস্টিক বার করে নিতে হবে – বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগও যার মধ্যে পড়ে৷

মিশ্র সার কারখানার ওভারসিয়ার সিলভিও বুশ বলেন: ‘‘শুধু ব্যাগগুলো দেখে কী ধরনের প্লাস্টিক, তা বলার উপায় নেই৷ ওটা একটা সাধারণ প্লাস্টিকের ব্যাগ কিনা, কিংবা বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগ কিনা৷ আমাদের পক্ষে আর সেটা বোঝার উপায় নেই৷'' কাজেই অর্গানিক-আবর্জনা থেকে সব ধরনের প্লাস্টিক বার করে নিতে হবে৷

ওভারসিয়ার বুশ-এর আরো একটি সমস্যা হল: বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগগুলো পচতে বড় বেশি সময় নেয়৷ জার্মান শিল্পের একটি অর্থহীন বিধি বলে, তিন মাসের মধ্যে ওগুলো পচে যাওয়া চাই – একটি মিশ্র সারের কারখানার পক্ষে যা বড় বেশি সময়৷ সিলভিও বুশ-এর মতে: ‘‘ডিআইএন, মানে জার্মান শিল্প মান অনুযায়ী বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগ তিনমাসের মধ্যে পচে যাওয়া চাই৷ আমাদের এই কারখানায় আবর্জনা পচার সময় হলো ৩৫ দিন, যার মধ্যে ব্যাগগুলো পচার কোনো সম্ভাবনা নেই৷''

শেষমেষ খরচের প্রশ্ন

প্যাকিং বিশেষজ্ঞ হ্যার্বার্ট পিয়েডে সমস্যাটা জানেন৷ জার্মানিতে গোড়ায় বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগের খুব চল হওয়ার পর এখন সেটা আবার কমে এসেছে৷ কেননা সেই ব্যাগের দাম বেশি৷ কাজেই এখন পিয়েডের কারখানায় নীলপরী মার্কা ব্যাগ তৈরির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যে ধরনের ব্যাগের আশি শতাংশই রিসাইক্লিং করা সম্ভব৷

ওমার কোম্পানি লিমিটেডের সিইও পিয়েডে বলেন: ‘‘যেখানে ভালো রিসাইক্লিং পদ্ধতি আছে, সেখানে নীলপরী মার্কা ব্যাগ তৈরি করাটাই ভালো বিকল্প৷ যেখানে কোনো রিসাইক্লিং প্রণালী নেই, সেখানে বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করার অর্থ আছে বৈকি৷''

কাজেই জার্মানিতে না হলেও, যে সব দেশে প্লাস্টিকের আবর্জনা ধীরে ধীরে একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সেখানে বায়োপ্লাস্টিকের ব্যাগ একটা সমাধান হতে পারে৷ কেননা বায়োপ্লাস্টিক সত্যি-সত্যি কয়েক বছরের মধ্যে পানি আর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়৷

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়