1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

প্লাস্টিক ব্যাগ দূষণের এক বড় উৎস

পরিবেশ দূষণ রোধ করতে ২০০২ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার রাজধানী ঢাকায় প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে৷ কিন্তু আসলেই কি প্লাস্টিক ব্যাগের প্রচলন বন্ধ হয়েছে? নাকি কেবল নতুন আদলে ব্যবহৃত হচ্ছে প্লাস্টিকের ব্যাগ?

default

নতুন আকারে প্লাস্টিকের ব্যাগের ব্যবহার আরো বেড়ে গেছে

বাংলাদেশে প্লাস্টিক ব্যাগের প্রচলন শুরু হয়েছে প্রায় তিন দশক হতে চললো৷ যত্রতত্র ব্যবহার হতে থাকে প্লাস্টিকের ব্যাগ৷ তার উপর ব্যবহার শেষে নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলার কারণে একদিকে তা রাস্তাঘাট নোংরা করে ফেলে৷ অন্যদিকে প্লাস্টিকের ব্যাগ জমে আটকে যায় ড্রেনের পথ৷ ফলে পরিবেশের ব্যাপক দূষণ নিয়ে উচ্চকন্ঠ হন পরিবেশবাদীরা৷ ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে সরকার ঢাকা শহরে প্লাস্টিকের ব্যাগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে৷

এ প্রসঙ্গে ‘পরিবেশ বাঁচাও' আন্দোলনের সভাপতি আবু নাসের খান বললেন,‘‘দীর্ঘদিনধরে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করার জন্য আমরা আন্দোলন করে আসছি৷ তারই প্রেক্ষিতে পরিবেশ আইন ১৯৯৫ এর আওতায় একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয় ২০০৩ সালে৷ কিন্তু তার আগেই কার্যকরভাবে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিলো অনেক জায়গায়৷''

এখন আগের সেই ব্যাগ ব্যবহার হয়না ঠিকই৷ কিন্তু নতুন আকারে প্লাস্টিকের ব্যাগের ব্যবহার আরো বেড়ে গেছে৷ আবু নাসের খান বললেন,‘‘এখন পলিথিন ব্যাগের মধ্যে হাতল নেই৷ কিন্তু অন্যভাবে এই ব্যাগগুলো চলে আসছে৷ এর কারণ হিসেবে দু'টো বিষয় কাজ করছে৷ প্রথমত সরকার যখন পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করেছিল তখন তার মধ্যে যথেষ্ট আন্তরিকতা ছিল৷ পরে এই বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার অভাব দেখা যায়৷ দ্বিতীয়ত পলিথিন ব্যাগের বিকল্প পাট বা চটের যেসমস্ত ব্যাগ দেওয়ার কথা ছিল এখন সেই ব্যাগগুলো পাওয়া যায়না বললেই চলে৷ বিকল্প হিসেবে যে ব্যাগগুলো রয়েছে সেগুলো যথেষ্ট ভালো নয়৷ কিছু ব্যাগ ব্যবহার উপযোগীই নয়৷ অন্যদিকে খুবই ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ৷ এই ঘনবসতির দেশে অল্প পলিথিন এবং অন্যান্য আবর্জনাগুলো ব্যাপক আকার ধারণ করে৷''

শুধু বাংলাদেশে নয়৷ ইউরোপের একজন নাগরিক গড়ে প্রতিবছর ৫০০ প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করে৷ প্রায় ক্ষেত্রে যে ব্যাগগুলোর শেষ পরিণতি হয় সাগরে৷ ইউরোপে প্রতিবছর টন টন প্লাস্টিক, আবর্জনা হিসেবে ভূ-মধ্যসাগরে ফেলা হয়৷ যা পরিবেশের ক্ষতি করছে৷ যেকারণে ইউরোপীয় কমিশনও প্লাস্টিকের ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে৷ পরিবেশকে রক্ষা করার জন্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে এর উপর কর আরোপ করার কথাও ভাবছে ইউরোপীয় কমিশন৷

Deutschland Einzelhandel C&A Geschäft in Frankfurt

এখন আমরা মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য ঐ ব্যাগ ব্যবহার করি এবং সেগুলো দশকের পর দশক পরিবেশ দূষিত করে চলে

ইউরোপের কিছু দেশে দোকান থেকে প্লাস্টিক ব্যাগ উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ সুপার মার্কেটে বাজার শেষে প্লাস্টিকের ব্যাগ নিতে হলে ক্রেতাদের তার জন্য দাম দিতে হয়৷ ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিদিন নতুন একটি ব্যাগ কিনতে আগ্রহী হননা ক্রেতারা৷ কেউ কেউ কাপড়ের ব্যাগ ব্যাবহার করছেন৷ প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি কমানোর সেরা পন্থা কি সেটা জানতে ইউরোপীয় কমিশন জনমত সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে৷

আবু নাসের খান বললেন, ‘‘সরকারের একার পক্ষে আইনটাকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়৷ আমরা যারা ক্রেতা বা সাধারণ মানুষ তাঁদেরও কিন্তু এই পলিথিন ব্যবহারের দিকটা দেখতে হবে৷ খাদ্যদ্রব্যে প্যাকিং ম্যাটেরিয়াল হিসেবে যে পলিথিন ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলো যে স্বাস্থ্যসম্মত নয় তা আমাদেরকে বুঝতে হবে৷''

ইউরোপীয় পরিবেশ কমিশনার ইয়ানেজ পোটোকনিক বলেছেন, ৫০ বছর আগেও কেবল একবার ব্যবহার উপযোগী প্লাস্টিক ব্যাগের কথা বলতে গেলে কেউ শোনেইনি৷ অথচ এখন আমরা মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য ঐ ব্যাগ ব্যবহার করি এবং সেগুলো দশকের পর দশক পরিবেশ দূষিত করে চলে৷ কিন্তু এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত বড় এক ব্যাপার৷ তাই এই দূষণ থেকে পরিবেশ রক্ষা করার উপায় সম্পর্কে আমরা সবার মতামত চাচ্ছি৷

আবু নাসের খান বললেন, ‘‘অনেকগুলো বিষয় আছে যে জায়গাগুলোতে পলিথিনকে আমরা একেবারেই এড়িয়ে চলতে পারি৷ যেমন, বাজার করতে যাওয়ার সময় আমরা যদি কাপড় বা চটের একটি ব্যাগ সাথে করে নিয়ে যাই তাহলে চাল, ডাল এবং ডিমের মতো খাবার জিনিসগুলো তাতে করেই নিয়ে আসতে পারি৷ আসলে এগুলো আমাদের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়৷''

প্রতিবেদন: জান্নাতুল ফেরদৌস

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়