1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

প্লাস্টিকের বোতলে ঘরের বাগান

শহরের মধ্যে ছোট বাসায় বাগান করা কঠিন নয় কি? অথবা সেখানেই চাষবাসের ব্যবস্থা? অতি সহজ উপায়ে এমনটা করা সম্ভব৷ প্রায় বিনা ব্যয়েই পরিবেশ সংরক্ষণ ও পুষ্টিকর খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করা যায়৷

ট্রাকের মাল ঢাকার পুরানো চাদর থেকে ব্যাগ, সাইকেলের টায়ারের টিউব দিয়ে বেল্ট অথবা পুরানো পর্দা দিয়ে মানিব্যাগ৷ আবর্জনা এড়ানোর সৃজনশীল প্রচেষ্টা বা ‘আপসাইক্লিং'-এর কদর বাড়ছে৷ এর ফলে পরিবেশ সংরক্ষণও হচ্ছে৷

ম্যুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ুলিয়া সালোমন এক অভিনব কায়দায় ঠিক সেই কাজ করছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আপসাইক্লিং-এর অর্থ হলো, যে সব বস্তুর মূল কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে, সেগুলিকে নতুন করে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা৷ তখন একেবারে অন্য রূপে সেটি ব্যবহার করা যায়৷ তাই আপসাইক্লিং কোনো বস্তুকে নতুন মাত্রা দেয়৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেই রূপান্তর দেখতেও ভালো হয়৷''

ইয়ুলিয়া সালোমন চতুর্থ সেমেস্টারে পুষ্টিবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছেন৷ ইন্টারনেটে তিনি আপসাইক্লিং-এর এক বিশেষ স্বাস্থ্যকর রূপ সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন৷ তার আওতায় পুরানো প্লাস্টিক বোতলকে মিনি-বাগানে পরিণত করা যায়, তার মধ্যে চাষ করা যায়৷ ইয়ুলিয়া বলেন, ‘‘বোতল আসলে আপসাইক্লিং বাগানের জন্য খুবই উপযুক্ত৷ সেগুলি এমনভাবে সাজানো যায়, যাতে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় পানিও রিসাইকেল করা যায়৷ ফলে বাড়ির মধ্যে আর্দ্রতাও এড়ানো সম্ভব৷ যে কোনো ছোট রান্নাঘরেই এমন ঝুলন্ত বাগান করা যায়৷''

অত্যন্ত ছোট ঘরেও এমন বোতলের বাগান বেড়ে উঠতে পারে৷ শীতকালে রান্নাঘরে, গরমকালে বারান্দায়৷ বোতলে গজিয়ে ওঠা শাকসবজি, ফল ও তৃণগুল্ম পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যকর ও তাজা খাদ্যের উৎস হতে পারে৷ যে সব দেশে প্লাস্টিক বোতল পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা নেই, সেখানে এমন বাগান বিশেষভাবে কাজে লাগতে পারে৷ ইয়ুলিয়া সালোমন বলেন, ‘‘যে সব দেশে খালি বোতল ফেরত দিয়ে পয়সা পাওয়া যায় না, সেখানে এই ব্যবস্থা খুবই কাজে লাগতে পারে৷ সে কারণেই এই সব বোতল পুনর্ব্যবহার করে তার মধ্যে নিজের জন্য খাদ্য উৎপাদন করা উচিত৷ এর ফলে কিছুটা খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যায়৷''

এই ব্যবস্থার আওতায় প্রায় একই মাপের পাঁচটি বোতল গাছের টব হিসেবে প্রস্তুত করতে হয়৷ সবচেয়ে উপরের বোতলে পানি ঢাললেই চলে৷ সেই পানি উপরের বোতলের ছিদ্র দিয়ে নীচেরগুলিতে নামতে থাকে৷ সবচেয়ে নীচেরটিতে বাড়তি পানি জমা হলে তা আবার উপরে ঢেলে দেওয়া যায়৷

এমন বোতল কীভাবে প্রস্তুত করতে হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস বাগানে ইউলিয়া তাঁর বন্ধুদের হাতেনাতে তা দেখিয়ে দিচ্ছেন৷

শুধু সবচেয়ে উপরের বোতলের নীচের অংশ কেটে ফেলতে হয়৷ ছিপির উপর গর্ত করা হয়৷ এবার প্রথম বোতলটি পরেরটির মধ্যে গুঁজে দেওয়া হয়৷ দ্বিতীয় বোতলে কয়েকটি জানালা করে তাতে তুলসি বা স্ট্রবেরির মতো গাছ লাগানো যায়৷

শেষে সব বোতল উলটো করে দড়ি দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে বেঁধে ঝোলানো হয়, যাতে ছিপির দিকটা নীচে থাকে৷ তারপর তাতে মাটি ও চারাগাছ ভরে দেওয়া হয়৷ ইয়ুলিয়া সালোমন বলেন, ‘‘সবচেয়ে ভালো মিশ্র জৈব সার, যা কাছের অরগ্যানিক খামারেই পাওয়া যায়৷ অথবা বাসায় জৈব সার তৈরির ব্যবস্থা থাকলে তো কথাই নেই৷ পুষ্টিভরা মাটি ব্যবহার করলে ভালো৷ গাছপালা সেটা বেশি পছন্দ করে৷''

তবে শুধু পুরানো প্লাস্টিকের বোতলই এমন বাগানের জন্য উপযুক্ত নয়৷ দুধের টেট্রা প্যাক-ও আপসাইক্লিং-এর মাধ্যমে এমন বাগানের কাজে লাগানো যায়৷

আবর্জনা বা পুরানো জুতোর মতো বাতিল হয়ে যাওয়া জিনিসপত্রও পুনর্ববহার করে নতুন ভাবে কাজে লাগানো যায়৷ পরিবেশের উপকার হয়, কাজটা করতে মজাও লাগে৷ ইয়ুলিয়া বলেন, ‘‘অবশ্যই নিজে চাষ করলে সেই খাদ্যের স্বাদ অনেক ভালো হবে৷ তার একটা আলাদা মূল্য রয়েছে৷ অন্য যে কোনো খাদ্যের তুলনায় মানুষ সেটা অনেক বেশি উপভোগ করে৷''

অপুষ্টির সমস্যা মোকাবিলার লক্ষ্যে বিজ্ঞানীরা এমন সহজ ও কার্যকর কন্টেইনার বাগান কাজে লাগাতে চান৷ সেই কাজের ফল সবাই পেতে পারে৷ 

মার্টিন রিবে/এসবি

দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক