1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘প্রয়োজন দ্রুত যৌন নির্যাতন বিরোধী নীতিমালা'

পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের হাতে ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ শোনা যায় প্রায়ই৷ সাধারণত এমন অভিযোগ উঠার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ৷ কিন্তু সেই কমিটির রিপোর্ট আর আলোর মুখ দেখে না৷

এহেন পরিস্থিতিতে বেশ কয়েক বছর আগেই প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছিল উচ্চ আদালত৷ কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, এখনো বাংলাদেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নীতিমালা হয়নি৷

সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠে৷ এর প্রেক্ষিতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়৷ গত সোমবার রাতে সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় ঐ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷ এর আগে সোমবার দুই দফায় প্রায় নয় ঘণ্টা অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখে বিভাগের শিক্ষার্থীরা৷ তাদের অভিযোগ, পরীক্ষার খাতায় নম্বর-সংক্রান্ত জটিলতার কথা বলে গত শনিবার তিনি এক ছাত্রীকে নিজ বাসায় ডেকে যৌন হয়রানি করেন৷ রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানোর পর সমাধান না পেয়ে তাঁকে অবরোধ করা হয়৷

তথ্য কমিশনের সাবেক সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্য ড. সাদেকা হালিম ডয়চে ভেলেকে বলেন, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সব প্রতিষ্ঠানেই নারীরা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে থাকেন৷ উচ্চ আদালতের আদেশের পরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই নীতিমালা প্রণয়নে খুবই অনাগ্রহী৷ সিলেটের শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এই নীতিমালা প্রণয়নের অনেকদূর এগুলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তেমন কোনো উদ্যোই নিচ্ছে না৷

Symbolbild Missbrauch Opfer

এখনো বাংলাদেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা হয়নি

সাদেকা হালিম বলেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ করে বিষয়টি হালকা করে ফেলা হয়৷ ফলে ওই শিক্ষার্থী ন্যায়বিচার পান না৷ তিনি বলেন, দ্রুত যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে এবং তার সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলেই এই প্রবণতা কমবে৷

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী উপাচার্যকে লেখা আবেদনে অভিযোগ করেন যে, ৮ই সেপ্টেম্বর বিভাগীয় কার্যালয় থেকে ফোন করে তাকে চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়৷ পরীক্ষায় নম্বর-সংক্রান্ত জটিলতার কথা বলে গত শনিবার তাকে নিজের বাসায় ডাকেন চেয়ারম্যান৷ শিক্ষার্থী দাবি করেন, পুরো বিষয়টি তিনি বিভাগের একজন শিক্ষিকাকে জানিয়েছেন৷ এমনকি শনিবার বিকেলে চেয়ারম্যানের বাসায় যাওয়ার কথাও ওই শিক্ষিকাকে মোবাইল ফোনে এসএমএস করে তিনি জানিয়ে রাখেন৷ বাসায় যাওয়ার পর ওই শিক্ষক তাকে ‘শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত' করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন ওই ছাত্রী৷ বাসায় অবস্থানের সময় তার মোবাইল ফোনের রেকর্ডার চালু ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷ আবেদনপত্রের সঙ্গে মোবাইলে ধারণ করা কথোপকথনও জমা দেয়া হয়েছে৷

সোমবার শ্রেণিকক্ষে গেলে বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই শিক্ষককে আটকে রাখে শিক্ষার্থীরা৷ সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এম আমজাদ আলী গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে চেয়ারম্যানের নিজের কক্ষে দিয়ে আসেন৷ পরে সেখানেও তালা লাগিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা৷ অবরুদ্ধ অবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অধ্যাপক সাইফুল তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করেন৷ এরপর রাত সাড়ে আটটার দিকে তালা খোলা হয়৷ নিজ কক্ষে যাওয়ার সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে এ সব অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত৷''

অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে ‘আজীবন বহিষ্কারের' দাবিতে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল বাম সমর্থিত ছাত্রসংগঠনগুলো বিক্ষোভ মিছিল করে৷ সন্ধ্যায় সিন্ডিকেট সভা শুরুর পর শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন করে৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ডয়চে ভেলেকে বলেন, একজন ছাত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের পর, তাঁর বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে৷ পরবর্তীতে তদন্ত করে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ ওই শিক্ষককে প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার কথাও জানান উপাচার্য৷ যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালার ব্যাপারে আরেফিস সিদ্দিক বলেন, এর জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে৷ শিগগিরই কার্যক্রম শুরু হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন