1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

দক্ষিণ কোরিয়া

প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ায় বিক্ষোভ

দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ পাক গুন-হে'কে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদায় করতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু তারপর দেশে যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে, উত্তর কোরিয়া তার সুযোগ নেবার চেষ্টা করতে পারে, বলে কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা৷

শুক্রবার সৌলের পথে পথে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ নিয়োগ করতে হয়৷ সাংবিধানিক আদালত প্রেসিডেন্ট পাক গুন-হে’কে বরখাস্তের সংসদীয় সিদ্ধান্ত বজায় রাখার পর রাজধানীতে পথবিক্ষোভে দু’জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন৷

সংসদীয় ভোটে পাক-কে একটি উৎকোচ কেলেঙ্কারির কারণে ‘ইমপিচ’ করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আটজন বিচারকের প্যানেল তা বজায় রেখেছেন৷ এর ফলে পাক-এর বিরুদ্ধে দায়রা মামলা করা সম্ভব হবে৷

অস্থায়ী চিফ জাস্টিস লি ইয়ুং-মি বলেছেন যে, পাক যেভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, তা জনগণের আস্থা ভঙ্গ করার সমতুল৷ ‘‘বিবাদিকে বরখাস্ত করার মাধ্যমে সংবিধান রক্ষার যে পরিমাণ সুবিধা হবে, তা ব্যাপক,’’ বলে মন্তব্য করেছেন লি৷

Südkorea Amtsenthebung Park Geun-Hye (Reuters/Kyodo)

পাক গুন-হে’র সমর্থকদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ

সরকারি কৌঁসুলিরা ইতিমধ্যেই পাক-কে দায়রা আসামি হিসেবে অভিহিত করেছেন৷ আশির দশকের শেষে দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়া যাবৎ পাক-ই প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধি, যাকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা হলো৷ পাক-এর আস্থাভাজক চো সুন-সিল-এর বিরুদ্ধে স্যামসাং-এর মতো বড় কোম্পানিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার অভিযোগ ছিল৷

বিক্ষোভ

পাক-এর বেশ কয়েক হাজার সমর্থক সৌলের পথে পথে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন, অপরদিকে সরকারি কর্মকর্তারা জনসাধারণের প্রতি শান্ত থাকার আবেদন করেন৷

সত্তরের কোঠায় বয়স, এমন এক বৃদ্ধ বিক্ষোভের সময় মাথায় চোট লেগে প্রাণ হারান৷ অপর নিহত বিক্ষোভকারী সম্পর্কে কোনো খুঁটিনাটি দেওয়া হয়নি৷

পাক-এর আইনজীবী সিও সিওক-গু ইতিপূর্বে পাক-এর অভিশংসনকে খ্রিষ্টের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন৷ তিনি এবার আদালতের রায়কে জনতার চাপে নেওয়া একটি ‘‘ট্র্যাজিক সিদ্ধান্ত’’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এই ‘‘ক্যাঙ্গারু আদালত’’-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন৷

বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের কামনা ছিল যে, আদালত পাক-এর অভিশংসন অনুমোদন করুন৷ ইতিপূর্বে লক্ষ লক্ষ আন্দোলনকারী সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে পাক-কে ‘ইমপিচ’ করার দাবি জানিয়ে এসেছেন৷

উত্তর কোরিয়ার প্ররোচনা

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সামরিক বাহিনীকে উত্তর কোরিয়ার তরফ থেকে সম্ভাব্য প্ররোচনার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন, কেননা উত্তর কোরিয়া ‘‘দেশে ও বিদেশে স্থিতিহীন পরিস্থিতির’’ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে৷

Südkorea Amtsenthebung Park Geun-Hye (Getty Images/C. Sung-Jun)

সাংবিধানিক আদালতের রায়ে খুশি তাঁরা

শুক্রবার সামরিক অধিনায়কদের সঙ্গে একটি ভিডিও বৈঠকে হান মিন কু সাবধান করে দেন যে, উত্তর কোরিয়া যে কোনো সময়ে ‘‘রণকৌশলগত বা অভিযানমূলক’’ প্ররোচনায় লিপ্ত হতে পারে৷ সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া একাধিকবার রকেট পরীক্ষা করেছে৷

আদালতের রায় সম্পর্কে উত্তর কোরিয়ার মন্তব্য হলো, পাক-এর বিরুদ্ধে এবার ‘‘সাধারণ অপরাধী’’ হিসেবে তদন্ত করা হবে৷

প্রতিক্রিয়া

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা আদালতের সিদ্ধান্তকে দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় বলে অভিহিত করেছেন৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও বিষয়টি অভ্যন্তরীণ, তবে উভয় দেশের মৈত্রী পূর্বাপর ‘‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার’’ ‘লিঞ্চপিন’ হিসেবে গণ্য হবে, বলেছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র মার্ক টোনার৷

সরকারকে আগামী দু’মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে৷ প্রধানমন্ত্রী হোয়াং কিও-আন স্বয়ং রক্ষণশীল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন৷ সাম্প্রতিক জরিপে উদারপন্থি মুন জে-ইন'কে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে৷

এসি/ডিজি (এএফপি, এপি, রয়টার্স, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন