1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

প্রেমিক ফেসবুক – এখনও কতটা আকর্ষণীয়

ফেসবুক – সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটি নাকি অনেককেই যৌন আনন্দ বা মাদকের নেশার মতো একটা আমেজ দিতে পারে৷ মনোবিজ্ঞানীদের মত এমনটাই৷ কিন্তু সে তো শুধু গোড়ার দিকে৷ তা এখনও কি ফেসবুকের সঙ্গে আপনার প্রেমের সম্পর্ক?

ফেসবুকে আগের মতো সেই রোমাঞ্চ আর পান না বা ফেসবুক খুলতেই আর ইচ্ছে করে না? আপনার মতো অনেকেরই কিন্তু আজ এ অবস্থা৷ বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন যাবৎ ফেসবুক ব্যবহার করছেন৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেসবুক তার ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ করার ক্ষমতা হারাচ্ছে৷

এই যেমন, একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন ডয়চে ভেলের কাছে৷ তিনি ফেসবুকের একনিষ্ঠ ভক্ত এবং ব্যবহারকারী ছিলেন৷ প্রতিনিয়ত ফেসবুক খুলে বসে থাকতেন৷ কিন্তু ঠিক এক বছর আগে একদিন ফেসবুকে লগ ইন করতে গিয়ে তাঁর হঠাৎই মনে হলো – ‘‘কেন ফেসবুক খুলছি? এখানে তো আমার জন্য কোনো চমক অপেক্ষা করছে না৷ আসলে হয়ত শুধুমাত্র অভ্যাসের কারণে এটা করছি৷''

Bangladesch Frau Handy Smartphone Kommunikation

‘কেন ফেসবুক খুলছি? হয়ত শুধুমাত্র অভ্যাসের কারণেইএটা করছি৷'

তিনি বলেন, ‘‘ফেসবুকের সাথে আমার একটা বন্ধন বা শেকড় তৈরি হয়েছিল৷ কিন্তু সেই সম্পর্কের নির্যাস এখন হারিয়ে গেছে৷ ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট দেয়া, ছবি আপলোড করা, শেয়ার করা – এর অর্থ মাধ্যমটির সাথে একটা সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া৷ ঠিক যেন প্রেমের মতোই এ সম্পর্ক, যেখানে ফেসবুক না খুলতে পারলে জাগে বিরহ, না পাওয়ার বেদনায় কাতর হয় ব্যবহারকারী৷ তার ওপর ফেসবুক আমাদের জন্মদিনটাও মনে রাখে৷ এটাকে তো প্রেমই বলা যেতে পারে৷''

ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানী সুজান কুইলিয়াম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ফেসবুকের সাথে ব্যবহারকারীর প্রেমের সম্পর্ক হতেই পারে৷ কেননা সম্পর্কের সাথে জৈবিক এবং আবেগ অঙ্গাঙ্গিকভাবে জড়িত৷ ফেসবুক ও তার ব্যবহারকারী একে-অপরের সঙ্গ উপভোগ করেন, দু'জনে একসঙ্গে বেশিরভাগ সময় কাটায় এবং এর ফলে ব্যবহারকারীর শরীরে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সাধারণত মানুষ যৌন সম্পর্কের চরম মুহূর্তে পৌঁছালে হয়ে থাকে৷''

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে ব্যবহারকারীর সম্পর্কটাও ঠিক তাই বলে জানালেন তিনি৷

সুজান আরো জানান, ‘‘সম্পর্কে দেয়া-নেয়ারও একটা ব্যাপার থাকে৷ ফেসবুকের মাধ্যমে যখন কারো উপহার পাওয়া, যেমন লাইক বা কমেন্ট পাওয়াটা কমে যেতে থাকে, তখন প্রেমের রোমাঞ্চও হারিয়ে যায়৷ এমনকি যদি দেখা যায় ফেসবুকের কোনো বন্ধু বিশ্বাসঘাতকতা করছে, বা ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাহলে সেটা তাঁর মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশার জন্ম দিতে পারে৷ এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য, যেটা কাউকে তিনি জানাতে চায় না, সেটা প্রকাশ হয়ে পড়লে, সেটা নিয়েও শঙ্কিত হয়ে পড়ে ব্যবহারকারী৷ তখন তিনি ভাবতে থাকেন ফেসবুকের সাথে সম্পর্ক আর রাখবেন না, ভেঙে দেবেন৷

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, ব্যবহারকারীরা যদি বিচার করেন – এ সম্পর্ক থেকে তাঁদের লাভটা বেশি না ক্ষতি, সেই বিচারে মনে হয় লাভের পাল্লাটাই ভারী হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়