প্রিন্টারে তৈরি হচ্ছে আস্ত বাড়ি | অন্বেষণ | DW | 23.08.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

প্রিন্টারে তৈরি হচ্ছে আস্ত বাড়ি

থ্রিডি প্রিন্টারের সম্ভাবনা যে কতদূর, তার ধারণা পাওয়া কঠিন৷ শুধু সাধারণ বস্তুর প্লাস্টিক নকল নয়, ঘর-বাড়ি-অট্টালিকার অংশও তৈরি করা সম্ভব এই যন্ত্রের সাহায্যে৷

default

থ্রিডি প্রিন্টার থেকে বের হওয়া ভবনের অংশ

এমনকি চাঁদে মানুষের ঘাঁটি গড়ার ক্ষেত্রেও থ্রিডি প্রিন্টার হয়ে উঠতে পারে সাফল্যের চাবিকাঠি৷

বিশাল একটি থাম তৈরি হয়েছে এক প্রিন্টারের সাহায্যে৷ ১৬ বর্গ মিটার বড়, আড়াই মিটার উঁচু এবং ১১ টন ভারি একটি ঘরের অংশ এটি৷ এই প্রথম একটা গোটা ঘর ‘প্রিন্ট' করা হলো৷ কৃত্রিম স্যান্ডস্টোন দিয়ে তৈরি কারুকার্য করা এই কাঠামো অনেকটা গথিক ক্যাথিড্র্যালের মতো দেখতে৷ স্থপতি মিশায়েল হানসেমায়ার বলেন, ‘‘অতীতে, প্রাক-আধুনিক যুগে আমরা দেখেছি স্থাপত্যের ক্ষেত্রে একেবারে খুঁটিনাটি স্তর পর্যন্ত ভাবা হতো৷ বারক বা রকোকো গির্জায় আজও তা দেখা যায়৷ কিন্তু অনেক সময় লাগতো৷ বছরের পর বছর ধরে শিল্পীরা কাজ করতেন৷''

স্থপতিরা কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁদের পরিকল্পনা প্রস্তুত করে ফেলেছেন৷ একটি অ্যালগোরিদম দিয়ে তাঁরা প্রতিটি কোণ মাপেন৷ তারপর এমন সব আকার-আকৃতি সৃষ্টি হয়, যা প্রচলিত পদ্ধতিতে হাত দিয়ে তৈরি করা সম্ভব নয়৷ একমাত্র থ্রিডি প্রিন্টিং প্রক্রিয়ায় এটা করা সম্ভব৷ স্থপতি বেনইয়ামিন ডিলেনবুর্গার বলেন, ‘‘এই ধরনের প্রচেষ্টার সীমা হলো তার স্কেল, তার সূক্ষ্মতা৷ এই প্রযুক্তি আসায় এই প্রথম জ্যামিতির ক্ষেত্রে আর কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না৷''

মাত্র দু'দিনেই থ্রিডি প্রিন্টার পাতলা বালু দিয়ে স্তর তৈরি করে ফেলে৷ বিশেষ আঠা দিয়ে কৃত্রিম স্যান্ডস্টোনের সঙ্গে তা জোড়া হয়৷ শক্ত হয়ে যাওয়ার পর কাঠামো থেকে বাকি বালু দূর করা হয় এবং আবার কাজে লাগানো হয়৷ তারপর এক একটি অংশ জুড়ে বিশাল কাঠামো গড়ে তোলা হয়৷ মিশায়েল হানসেমায়ার বলেন, ‘‘বাড়তি খরচ ছাড়াই প্রতিটি অংশে আলাদা বৈশিষ্ট্য যোগ করা যায়৷ অর্থাৎ স্থানীয় প্রয়োজন, রুচি, চাহিদা অনুযায়ী তা বদলানো যায়৷ অতীতে এমনটা করা গেলেও এর জন্য অনেক খরচ হতো৷''

নেদারল্যান্ডস-এ আমস্টারডাম শহরের স্থপতিরা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন৷ খালের ধারে একটা গোটা বাড়ি প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে৷ নির্মাণের জায়গায়ই বিশেষ যন্ত্র দিয়ে তার অংশগুলি তৈরি হয়৷ তারপর খেলনার বাড়ির মতোই সেগুলি জুড়ে বাড়ি তৈরি হয়৷ স্থপতি হান্স ফ্যারময়লেন বলেন, ‘‘থ্রিডি প্রিন্টিং-এর ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো দ্রুততা ও উপকরণ৷ বেড়ে চলা মেগাসিটির যুগে প্রচলিত নির্মাণ প্রক্রিয়া আর পাল্লা দিয়ে উঠতে পারছে না৷ তাই আগামী ৫, ১০ বা ২০ বছরে থ্রিডি-প্রিন্টার ভিত্তিক স্থাপত্যের গুরুত্ব বাড়বে বলে আমার বিশ্বাস৷''

ইউরোপের আরও কিছু স্থপতি প্রিন্টার দিয়ে বাড়ি তৈরির ‘কনসেপ্ট' তৈরি করছেন৷ যেমন আমস্টারডাম শহরের ‘ইউনিভার্স আর্কিটেকচার' কৃত্রিম স্যান্ডস্টোন দিয়ে ‘ল্যান্ডস্কেপ হাউস' তৈরির পরিকল্পনা করছেন৷

ফস্টার অ্যান্ড পার্টনার্স ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে মিলে চাঁদে মানুষের ঘাঁটি গড়ার বিষয়ে গবেষণা করছেন৷ চাঁদের বালি ব্যবহার করেই প্রিন্টার তার ইঁট-কাঠ তৈরি করবে৷ এছাড়া লন্ডনের ‘সফটকিল ডিজাইন' ভবিষ্যতে অরগ্যানিক বাড়িও ‘ছাপা'-র পরিকল্পনা করছে৷

ডিজিটাল গ্রটেস্ক-ও পিছিয়ে নেই৷ ঘরের ডিজাইন আরও নিখুঁত করে তুলছে তারা৷ বেশি খরচ না করেও যে বাড়ির বাইরের বা ভিতরের দেওয়াল অনবদ্য শিল্প-কীর্তি হয়ে উঠতে পারে, সেটা সম্ভব করাই তাদের লক্ষ্য৷ মিশায়েল হানসেমায়ার বলেন, ‘‘বহুদিন ধরে এটা ছিল বিলাসিতা৷ একশো বছর ফিরে তাকালে দেখবেন, থ্রিডি শুধু রাজা-রানির জন্যই সীমিত ছিল৷ বহু বছর ধরে অনেক মানুষের নিরলস শ্রম তা সম্ভব করে তুলতো৷ এখনও এমন স্বপ্ন দেখার সাধ্য সবার নেই বটে, তবে প্রযুক্তি মানুষের নাগালে এসে গেছে৷''

কৃত্রিম স্যান্ডস্টোন এখনো ঝড়-ঝাপটা সামলানোর মতো মজবুত হয়নি৷ তবে স্থপতিরা এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, পরিস্থিতি শীঘ্রই বদলাতে চলেছে৷ তখন বিদঘুটে স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আর কোনো বাধাই থাকবে না৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়