1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

প্রিজম কেলেঙ্কারিতে জার্মান কর্তৃপক্ষের ভূমিকা

মস্কো বিমানবন্দরে আটকে পড়া এডোয়ার্ড স্নোডেন-এর কণ্ঠ বন্ধ হয় নি৷ জার্মানির ‘ডেয়ার স্পিগেল’ পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জার্মান গোয়েন্দা সংস্থা বিএনডি সম্পর্কে বিস্ফোরক দাবি করেছেন৷

অ্যামেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএ-র প্রাক্তন কর্মী এডোয়ার্ড স্নোডেন প্রথমে দাবি করেন, এনএসএ ইউরোপের উপর ঢালাও নজরদারি চালিয়ে আসছে৷ শুধু সাধারণ নাগরিক নয়, কূটনৈতিক বা সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানেও সুপরিকল্পিতভাবে এই কাজ চালানো হচ্ছে৷ প্রথমে হংকং, তারপর মস্কোয় গিয়েও তিনি একের পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন৷ সঙ্গে চারটি ল্যাপটপ, অনলাইনেও নাকি রাখা আছে অনেক গোপন তথ্য৷ তাই তাঁকে কেউ ঘাঁটাতে সাহস পাচ্ছে না৷

তিনি যে সব দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন, তার মধ্যে জার্মানিও অন্যতম৷ ইউরোপের অনেক দেশের মতো জার্মানিতেও এনএসএ-র কার্যকলাপ নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে৷

Edward Snowden

এডোয়ার্ড স্নোডেন

সেই জার্মানিরই ‘ডেয়ার স্পিগেল' পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, বিস্ময়ের কোনো কারণ নেই৷ খোদ জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও এনএসএ-র পাপের দোসর৷ অথচ জার্মানির তিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সংসদীয় কমিটির সামনে দাবি করেছিলেন, তাঁরা মার্কিন ‘প্রিজম' কর্মসূচি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না৷

কিন্তু জার্মান কর্তৃপক্ষের এই দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য৷ ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বিরোধী সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি দলের সাংসদ টোমাস ওপারমান প্রশ্ন তুলেছেন, এনএসএ প্রতি মাসে শুধু জার্মানিতেই আড়ি পেতে ৫০ কোটি টেলিফোন সংলাপ, এসএমএস এবং ই-মেল সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে৷ এখানে কেউ কিছু জানতো না, এটা বিশ্বাস করা সত্যি কঠিন৷

গোয়েন্দা সংস্থা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ এরিশ শ্মিট এনবোম আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে চান৷ তাঁর বিশ্বাস, জার্মান কর্তৃপক্ষ অ্যামেরিকার গোয়েন্দাগিরি সম্পর্কে শুধু জানতোই না, অবৈধভাবে সংগ্রহ করা সেই তথ্য কাজেও লাগানো হয়েছে৷ বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নির্ঘাত সেই তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে৷ ন্যাটো পর্যায়ে এ ক্ষেত্রে ব্যাপক মাত্রায় সহযোগিতার কাঠামো রয়েছে৷ তাই মৌলিক অধিকার খর্ব হলেও বিএনডি নীরব থাকতে চাইবে, এতে বিস্ময়ের কারণ থাকতে পারে না৷

Screenshot Spiegel Online Englisch Startseite vom 30. Juni 2013

স্পিগেল পত্রিকার রিপোর্ট

আসলে জার্মান কর্তৃপক্ষের সামনে অন্যদের উপর নির্ভর করা ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ৷ কারণ তাদের অর্থাভাব ও লোকাভাব৷ তাছাড়া কড়া আইনের কারণেও তাদের হাতপা বাঁধা৷ বন্ধুভাবাপন্ন বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি দিক আছে৷ তারা সাধারণত সরাসরি তথ্য দেয় না, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে কোনো হামলা বা ঘটনার পূর্বাভাষ দেয়৷ সে ক্ষেত্রে প্রাপককে দায়ী করা কঠিন৷

নাইন-ইলেভেনের পর থেকে অ্যামেরিকা ও জার্মানির কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা অনেক বেড়ে গেছে৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেও তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে অ্যামেরিকার ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইতিহাস রয়েছে৷

এডোয়ার্ড স্নোডেন-এর দাবি কতটা সত্য, তা জানতে জার্মানির সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ওয়াশিংটন সফর করছেন৷ তারা দেশে ফিরে কী বলেন, তার জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে জার্মানির মানুষ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন