1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য নীতিবিদ্যা চালুর দাবি

ধর্ম-ক্লাসের পরিবর্তে নীতিতত্ত্ব ক্লাস: প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের এই অধিকার নেই৷ জার্মানির ফেডারেল প্রশাসনিক আদালতের এক রায়ে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে৷ অবশ্য ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজ্য ধর্মের বিকল্প ক্লাস চালু করেছে৷

মানুষের কি পশুপাখি খাওয়া উচিত? কোনো নিকট আত্মীয় মারা গেলে কী করা উচিত? ন্যায়বিচারের মানে কী? বাডেন-ভ্যুর্টেমব্যার্গ রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে এই ধরনের দার্শনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় না৷

ধর্মক্লাসের বিকল্প চাই

তিন ছেলের মা আনা ইগনাটিউস বিষয়টি অনুচিত বলে মনে করেন৷ তাঁর সন্তানরা কোনো ধর্মের অনুসারী নয়৷ কিন্তু তাই বলে তারা নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে, এটা মানা যায় না৷ তাই এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন তিনি৷

কিন্তু লাইপসিশ শহরের ফেডারেল প্রশাসনিক কোর্টের রায়ে বলা হয়, প্রাথমিক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত নীতিশাস্ত্র শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়নি৷ তাই এক্ষেত্রে আইনগত ভিত্তিও নেই৷

বিচারকরা মৌলিক আইনের একটি ধারা উল্লেখ করে জানান, সরকারি স্কুলে ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক৷ এর বাইরে নীতিশাস্ত্র ও মূল্যবোধ শিক্ষার প্রয়োজন মনে করা হয়নি৷ বিচারকরা আরো বলেন, মৌলিক আইনে ধর্মীয় বিশ্বাসকে বিশেষভাবে সুরক্ষিত করা হয়েছে৷

আইনের সংস্কার প্রয়োজন

সমালোচকরা মনে করেন সনাতন এই আইনের সংস্কার প্রয়োজন৷ ‘‘সেকুলার বা ধর্মনিরেপক্ষ শিক্ষা জার্মানিতে অনেক বছর ধরেই ছায়াঢাকা হয়ে রয়েছে৷'' বলেন বার্লিনের দর্শনের প্রফেসর মার্কুস টিডেমান৷ দর্শন ছাড়া হাইস্কুল বা আবিট্যুর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার কথা পাশের দেশ ফ্রান্সে চিন্তাই করা যায় না৷ সেখানে রাষ্ট্র ও ধর্ম কঠোরভাবে পৃথক করা হয়েছে৷

বাডেন-ভ্যুর্টেমব্যার্গের শিক্ষা এবং বিজ্ঞান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ডোরো মরিটৎসও মনে করেন সনাতন পদ্ধতির ধর্মশিক্ষা যুগোপযোগী নয়৷ ‘‘আমাদের প্রয়োজন মূল্যবোধ শিক্ষা৷'' এছাড়া প্রাথমিক স্কুলের যে সব ছাত্রছাত্রী ধর্ম-ক্লাসে অংশ নেয় না, তাদের তত্ত্বাবধানের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কিছু অসুবিধাও দেখা দেয়৷ জানান ডোরো মরিটৎস৷

জার্মানির ১৬টি রাজ্যের মধ্যে নয়টি রাজ্য ধর্মক্লাসের বিকল্প ক্লাস চালু করেছে৷ এর মধ্যে পুবের পাঁচটি রাজ্যই রয়েছে৷ মেকলেনবুর্গ-ফোরপমার্ন রাজ্যে এই ক্লাসের নাম দেওয়া হয়েছে ‘শিশুদের সাথে দর্শনশাস্ত্র'৷ ব্রান্ডেনবুর্গে এই ক্লাসকে বলা হয় ‘জীবনচর্চা, নীতি এবং ধর্মশাস্ত্র'৷ ক্যাথলিক অধ্যুষিত বাভেরিয়ায় এই ক্লাসের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নীতিশাস্ত্র'৷

শিক্ষা রাজ্য সরকারের অধীনে

জার্মানিতে শিক্ষাবিভাগ রাজ্য সরকারগুলির অধীনে৷ এ কারণে রাজ্যগুলি নিজেরাই এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে৷ বার্লিন এক্ষেত্রে এক বিশেষ বিধিনিয়ম চালু করেছে৷ প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য নীতিশাস্ত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷ অতিরিক্ত বিষয় হিসাবে কেউ স্বেচ্ছায় ধর্মতত্ত্ব নিতে পারে৷

নীতিবিদ্যার প্রফেসর মার্কুস টিডেমান একে এক দিক নির্দেশক পথ বলে মনে করেন৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘বিভিন্ন সংস্কৃতি থেকে আসা বাচ্চারা যাতে একসাথে ন্যায়নীতি ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে ও আলোচনা করতে পারে, সেই রকম ব্যবস্থা থাকা বাঞ্ছনীয়৷ তাদের আলাদা করে রাখাটা ঠিক নয়৷''

এছাড়া জার্মান বাচ্চাদেরও ব্যাপটাইজ করানোর প্রবণতা কমে আসছে৷ আর এ জন্য মা-বাবারা ধর্মের বিকল্প কোনো বিষয় খোঁজেন৷

ক্যাথলিক গির্জা স্বাগত জানায়

ক্যাথলিক গির্জার পক্ষ থেকে জানানো হয়, যারা কোনো কারণে ধর্ম বিষয়ক ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না, তাদের জন্য নীতিশাস্ত্র চালু করাকে স্বাগত জানায় তারা৷ তবে এটা বাধ্যতামূলক করার পক্ষপাতী নয় ক্যাথলিক গির্জা৷ এ বিষয়ে আদালতের রায় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি গির্জা কর্তৃপক্ষ৷

অন্যদিকে আনা ইগনাটিউস আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে কার্লসরুয়ে-র সাংবিধানিক আদালতে আপিল করবেন৷ ২০১০ সাল থেকে এই ব্যাপারে অনবরত চেষ্টা করে আসছেন তিনি৷ মামলায় তিনবার হেরে গেলেও হাল ছাড়ার মানুষ নন দর্শনে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী এই নারী৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়