1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

প্রাণ বাজি রেখে সম্মুখ যুদ্ধ করেন বীর সৈনিক সালেহা

অস্ত্র লুট, বোমা বানানো, বোমা পরীক্ষা থেকে শুরু করে সম্মুখ যুদ্ধ করেন মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সালেহা বেগম৷ হঠাৎ করে যুদ্ধে যাওয়া নয়, বরং দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সালেহা নিজেকে তৈরি করেন সৈনিক হিসেবে৷

Saleha, Begum, Freiheitskämpferin, Jessore, Bangladesch, Freedom, Fighter, War, Liberation, Bangladesh, 1971, মুক্তিযোদ্ধা, অ্যাডভোকেট, সালেহা, বেগম, যুদ্ধ, বীর, সৈনিক

মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট সালেহা বেগম

সালেহা বেগম৷ জন্ম ১৯৫৩ সালের ৪ মার্চ ৷ বাবা মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার৷ মাতা মমতাজ আরা বেগম৷ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় যশোর মহিলা কলেজে স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী সালেহা৷ মূলত মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগেই ১৯৬৯ সালে যে নিউক্লিয়াস হয় সেটার সদস্য ছিলেন সালেহা৷ নিউক্লিয়াসের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ স্বাধীন করা৷ সমাজতান্ত্রিক শোষণমুক্ত সাম্রাজ্যবাদমুক্ত একটা দেশ গড়া৷ এভাবে তাঁরা সংগঠিত হতে থাকেন৷ গড়ে তোলেন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র৷

১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে সেখানে সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়৷ সেখানে প্রায় ২০০ ছেলে এবং পাঁচ জন মেয়েকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়৷ প্রশিক্ষণের মধ্যে ছিল অস্ত্র চালনা, বোমা তৈরি, বোমা নিষ্ক্রিয় করণ ইত্যাদি৷ এরপর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে প্রাণ বাজি রেখে সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন সালেহা এবং তাঁর দল৷ যশোরের বিভিন্ন জায়গায় সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন সালেহা৷ এছাড়া ওয়ারলেস এবং গেরিলা হামলার মতো আরো উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে চলে যান৷ ভারতের দত্তফুলিয়া এবং এপারে মহেশপুর অঞ্চলে দীর্ঘ সময় কাজ করেন তিনি৷

ডয়চে ভেলের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে মুক্তিযুদ্ধের কিছু ঘটনার কথা জানান সালেহা৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি একদিন যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি৷ এটা ছিল যশোরের বাহাদুরপুর অঞ্চল৷ প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ৷ বাহিনীর অন্যান্য সবাই বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে একত্রিত হয়৷ এসময় আমার কাছে ছোট্ট একটা চিরকুট আসে৷ এতে লেখা যে, আমরা না বলা পর্যন্ত আপনি বেরুবেন না৷ এটা থানা কমান্ড থেকে আমার কাছে নির্দেশ হিসেবে পাঠানো হয়৷ ফলে আমি ভাবলাম যে, এটা আমার মেনে চলা উচিত৷ হয়তো মারাত্মক কোন ঘটনা ঘটেছে৷ ফলে আমি আর সেখানে গেলাম না৷ পরে জানতে পারি যে, সেখানে আমাদের যে ছেলেরা ছিল তারা চারপাশ দিয়ে পাক সেনাদের ঘেরাও এ পড়ে গিয়েছিল৷ প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়৷ সবচেয়ে মনে রাখার মতো বিষয় হলো যে, আমাদের মাত্র ৫/৬ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিল৷ অথচ তারা কেউ পিছু হটেনি৷ তাদের কি অদম্য দেশপ্রেম? বরং নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তারা পাক সেনাদের সাথে যুদ্ধ করে শহীদ হয়ে যায়৷ আমি সেখানে গেলে আমিও সেদিন মারা যেতাম৷ সেজন্যই আমাকে চিরকুট পাঠানো হয়েছিল৷''

Liberation War Museum

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

নারী হিসেবে গুপ্ত হামলা, গোয়েন্দাগিরি কিংবা অস্ত্র সরবরাহের মতো তুলনামূলকভাবে কিছুটা সহজ কাজ নয় বরং নিয়মিত বাহিনীর সদস্য হিসেবে অনেকগুলো সম্মুখযুদ্ধে যোগ দিয়েছেন সালেহা৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাক সেনাদের গুলি করে মেরেছেন৷ খুব কাছে থেকে পাক সেনাদের উপর হামলা চালিয়েছেন৷ তবে পাক সেনাদের ধরে আনার ঘটনা ঘটেছে মাত্র একবারই৷ অন্যান্য সময় পাক সেনারা নিহত হলেও তারা নিহত সেনাদের লাশ নিয়ে পালিয়ে যেতো৷ ফলে পাক সেনাদের লাশ পাওয়া যেতো না, বলে জানালেন এই বীর সাহসী মুক্তিযোদ্ধা৷

আরেকদিনের ভয়ংকর কিন্তু মজার ঘটনার কথা জানান সালেহা৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘প্রথমদিকের ঘটনা এটি৷ আমরা প্রশিক্ষণ নিলেও সবাইতো আর এক রকমভাবে প্রশিক্ষিত কিংবা যুদ্ধে অভিজ্ঞ ছিলাম না৷ এ অবস্থায় একদিন বারান্দিপাড়ায় আমরা যুদ্ধের জন্য অবস্থান নিয়েছি৷ নিজেদের অবস্থানের জন্য প্রয়োজন মতো মাটি খুঁড়ে ট্রেঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল৷ সেসব ট্রেঞ্চে শুয়ে সেখান থেকে গুলি করতে হবে৷ তবে সবাই ট্রেঞ্চে অবস্থান নিতে না পারায়, অনেকে যে যেখানে জায়গা পেয়েছে শুয়ে অবস্থান নিয়েছে৷ গোলাগুলি শুরু হয়ে গেছে৷ সামনে পাক সেনাদের লক্ষ্য করে আমরা গুলি ছুঁড়ছি৷ কিন্তু হঠাৎ করে দেখা গেল পেছন থেকে কয়েকটি গুলি আসল৷ আমাদের একেবারে কানের পাশ দিয়ে চলে গেল৷ তবে ভাগ্যিস হেলমেট পরা ছিলাম৷ ফলে কেউ আমরা আহত হইনি৷ কিন্তু আমরা তো সবাই হতবাক৷ পাক সেনারা তো সামনে আছে৷ পেছনে তো পাক সেনা নেই৷ তাহলে গুলি আসল কোথা থেকে? পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল যে পেছনে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদেরই কেউ গুলি ছুঁড়েছে৷ বিষয়টা বোঝার সাথে সাথে তাদেরকে থামানো হলো৷ অবশ্য পরে আর এমন ঘটনা ঘটেনি৷''

প্রতিবেদন: হোসাইন আব্দুল হাই

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন