1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

প্রাণ বাঁচানোর প্রয়াসে এয়ার অ্যামবুলেন্স

পথ দুর্ঘটনা, আচমকা হৃদযন্ত্রের সমস্যাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি৷ এর জন্য শুধু এমারজেন্সি ডাক্তার নয়, গোটা অবকাঠামো প্রস্তুত রাখতে হয়৷ জার্মানির এক হাসপাতাল সেই কাজই করে আসছে৷

জার্মানির এয়ার অ্যামবুলেন্স পরিষেবার আধুনিকতম হেলিকপ্টারগুলির একটি নিয়ে ডাক্তাররা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যেতে পারেন৷ মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে তাঁরা ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে যে কোনো জায়গায় পৌঁছে যেতে পারেন৷ প্রাথমিক সাহায্যের সার্বিক অবকাঠামোর অংশ এই হেলিকপ্টার৷ বছরে ৫০০ বারেরও বেশি প্রয়োজন হয় এই পরিষেবার৷ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে প্রত্যেকটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ৷

এমারজেন্সি ডাক্তার হিসেবে প্রো. ইয়র্গ বেনেকার বলেন, ‘‘আমরা জানি, রোগের লক্ষণ দেখা দিলে অথবা দুর্ঘটনা ঘটলে এক ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছানো উচিত৷ দেড় ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু হয়ে যাওয়া উচিত৷ অর্থাৎ অপারেশন থিয়েটারে পৌঁছানো নয়, সার্জেন ছুরি চালানো পর্যন্ত আমাদের এই এক ঘণ্টার সীমা ধরে রাখতে হয়৷ তারপর প্রতি মিনিটে বাঁচার সম্ভাবনা কমতে থাকে৷''

উড়ন্ত ডাক্তাররা এক কোমা রোগীকে নিয়ে ফিরছেন৷ ডাক্তার এরই মধ্যে হাসপাতালে রোগী সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠিয়ে দিয়েছেন৷ তাঁর মস্তিষ্কে রক্ষক্ষরণ হচ্ছে৷ এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের নিখুঁত সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে৷ প্রো. বেনেকার বলেন, ‘‘এই ব্যবস্থা চালু রাখতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের এমারজেন্সি ডাক্তারদের টিমের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা সবচেয়ে জরুরি৷ একে অপরের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা থাকতে হবে৷ একদিকে জটিল উড়ন্ত যন্ত্র, অন্যদিকে জটিল চিকিৎসা প্রযুক্তি৷ সেইসঙ্গে রোগীদের জটিল শারীরিক অবস্থা৷ ফলে গোটা বিষয়টা মোটেই সহজ নয়৷''

বার্লিনের অ্যাকসিডেন্ট ক্লিনিক জার্মানির অন্যতম আধুনিক বলে পরিচিত৷ ‘এমারজেন্সি রুম' তার প্রাণকেন্দ্র৷ সেখানে সব বিশেষজ্ঞরা মিলে রোগীদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন৷ হাসপাতালের পরিচালক প্রো. আক্সেল এক্যার্নকাম্প বলেন, ‘‘গোটা হাসপাতাল এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যে রোগী পায়ে হেঁটে অথবা স্ট্রেচারে শুয়ে যত দ্রুত সম্ভব সঠিক জায়গায় পৌঁছে যেতে পারেন৷ জটিল হলেও এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ এমারজেন্সি রুমে পৌঁছালে এক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিম তাদের রোগ নির্ণয় করে৷ আলট্রাসাউন্ড, রেসপিরেটর, কম্পিউটার টোমোগ্রাফি – সব ব্যবস্থা থাকে৷ এমারজেন্সি রোগীর এমন এক জায়গা থাকা চাই, যার উপর তিনি সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেন৷''

হাসপাতালে অপারেশনের সময় এমারজেন্সি ডাক্তার ও তাঁর টিম আবার আকাশপথে রওয়ানা হয়েছেন৷ আবার সময়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পালা, আবার মানুষের জীবন বিপন্ন৷ এমারজেন্সি ডাক্তার হিসেবে মানসিক চাপও একটা চ্যালেঞ্জ বটে৷ প্রো. ইয়র্গ বেনেকার বলেন, ‘‘আমার মনে হয় চিকিৎসাশাস্ত্রের যে কোনো ক্ষেত্রেই রোগীদের পরিণতি মেনে নিতে শিখতে হয়৷ অথবা সেটা শেখাও হয়তো সম্ভব নয়৷ দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগীদের বাঁচাতে পারলে তাঁদের আবার পেশা ও পরিবারের কাছে ফিরে যাবার ক্ষেত্রে কিছুটা অবদান রাখা যায়৷''

এই টিম প্রতিদিন মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করছে৷ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, ডাক্তার ও রোগীদের মধ্যে সমন্বয়ই আসল চ্যালেঞ্জ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়